প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি, ২০২৪ ০০:৪৯
সারা দেশের ন্যায় সুনামগঞ্জেও জেঁকে বসেছে শীত। গত দুই দিন ধরে রোদের দেখা মিলছে না। পৌষের শেষ প্রান্তে এসে তীব্র শীতে নিম্ন আয়ের মানুষ এবং হাওরাঞ্চলে কৃষকেরা কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। একদিকে ঘন কুয়াশা, অপরদিকে তীব্র শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
অতিরিক্ত ঠান্ডা এবং ঘন কুয়াশার কারণে কর্মমুখী মানুষেরাও ঘরবন্দী হয়ে পড়েছেন। শুক্রবার বিকেলে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের রাধানগর সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। তীব্র শীত এবং অতিরিক্ত ঠান্ডাজনিত কারণে বৃদ্ধ ও শিশুদের নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পরিবারের লোকজন। এদিকে শীতের প্রকোপ বাড়ায় পুরনো কাপড়ের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। শহরের রাস্তার পাশে ডালপালা সহ আশপাশে ফেলে রাখা কাগজ কুঁড়িয়ে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন নিম্ন আয়ের মানুষেরা।
রাধানগর এলাকার কৃষক আব্দুল হক বলেন, আমার পাঁচ কেয়ার (৩০ শতাংশে ১ কেয়ার) বোরো জমি আছে। এরমধ্যে দুই কেয়ার রোপণ করেছি। আজকে আরও এক কেয়ার জমি রোপন করার কথা ছিল। কিন্তু অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে কামলা (কাজের মানুষ) পাচ্ছি না। নিজেও ক্ষেতে যাইতে ভয় পাচ্ছি। তবে জমি রোপণ করার জন্য বাড়ির পাশে জালার চারা সংগ্রহ করছি। জমিতে নিয়ে রাখব, ঠান্ডা কমে গেলে রোপণ করব।
একই এলাকার আবুল বাশার বলেন, আজকে তিনজন শ্রমিক জালা সংগ্রহ করার জন্য কাজে লাগিয়েছি। কিন্তু তিন ডিসিমিল জমির জালাও তুলতে পারেনি। অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে দিনমজুরেরা কাজ করতে পারে না। এতে করে সময়মতো জমি রোপন করাও সম্ভব হচ্ছে না। হাওরে আমার ৯ কেয়ার জমি আছে, এরমধ্যে ৩ কেয়ার জমিতে রোপন করেছি, বাকি ৬ কেয়ার জমি রোপন করার জন্য জালা সংগ্রহ করছি। কিন্তু ঠান্ডার কারণে রোপণ করতে পারব কি—না ভাবছি।
লালপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেন বলেন, সকালে আমি বাড়ি থেকে বের হয়ে আমার বোরো জমিতে পানি দিতে গেছি। কিছু সময় পানি দিয়েছি। এরপর ঠান্ডায় টিকতে পারিনি, চলে এসেছি। এই ঠান্ডার কারণে কাম কাজ বন্ধ করে দিয়েছি।
শহরের রিকশা চালক ফরমুজ আলী বলেন, রোদের দেখাও মিলে না, মানুষও কম। পেটের তাগিদে রিকশা চালানো বন্ধও রাখতাম পারি না। রিকশা ভাড়া দিতে অইব, পরিবারের দু’মুঠো ভাতের ব্যবস্থা করা লাগব। খুব চিন্তায় আছি। দিনের অবস্থা এমনটা অইলে আমরা গরিবের জীবন শেষ।
এদিকে শৈত্য প্রবাহে শান্তিগঞ্জেও মানুষের যাপিত জীবন এতোটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। দিনমজুর, কৃষক, মৎস্যজীবী, সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশা চালক শ্রেণির পেশাজীবীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। অন্য সময়ের তুলনায় এসময়ে তাদের আয়—উপার্জন কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার গাজীনগর গ্রামের পশ্চিম দিকে ছোট্ট একটি হাওর নাওরি। এ হাওরে বোরো ধান চাষ করেন গাজীনগর গ্রামের কৃষক বিরাম উদ্দিন ও লোকমান হোসেন। তারা বলেন, বোরো জমিতে ধান চাষ প্রায় শেষের দিকে। তবু যে কাজ বাকী আছে ঠান্ডার কারণে তা করতে পারছি নাম প্রচণ্ড ঠান্ডা পানি। শীতও প্রচুর। হাত—পা জমে যাওয়ার মতো অবস্থা। কাজ করতে মন চায় না।
পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের কাদিপুর গ্রামের বাসিন্দা জেলে খোরশেদ আলম বলেন, পানি প্রচণ্ড ঠান্ডা থাকে। সকালে কুয়াশার জন্য পথ দেখা যায়। পানিতে নামা যায় না। মাছও ধরা পড়ে না।
সিএনজি চালক ফয়সল আহমদ ও রিকশা চালক আলাউদ্দিন বলেন, ঠান্ডার কারণে মানুষ রিকশায় উঠতে চান না। স্বাভাবিক দিনে ৭/৮শ’ টাকা রোজগার হলেও এ ঠান্ডার দিনে সাড়ে ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকার বেশি আয় হয় না। আমরা বিপাকে আছি।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন