শীতে ধুলোময়, বর্ষায় কাদা

প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি, ২০২৪ ০৭:২২

রাধানগর-লালপুর

সাড়ে চার কিলোমিটার সড়কের জন্য ভোগান্তি পোহাচ্ছেন ১০ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার  মানুষ। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের রাধানগর পয়েন্ট থেকে টঙ্গেরতল (লালপুর) দক্ষিণ পাড়া পর্যন্ত সড়কের বেহাল দশা। অথচ এই সড়কে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করে। এছাড়াও  বোরো ধান, এলাকায় উৎপাদিত সবজি এই সড়ক দিয়ে জেলা শহেও পৌঁছানোর একমাত্র সড়কপথও এটি। শুষ্ক মৌসুমে ধুলোবালিতে একাকার হয়। যানবাহন চললে চারিদিকে ধুলোয় ধুলোময় হয়। আর সড়ক পাকা না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পেক—কাদায় মানুষজন সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েন। 


সরেজমিনে দেখা যায়, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের রাধানগর পয়েন্ট  থেকে হাফ কিলোমিটার ইটসলিং সড়ক, এরপরই টঙ্গেরতল পর্যন্ত সড়ক মাটির। এই আঁকাবাকা সড়কে দুই পাশের ১০টি গ্রামের হাজারো মানুষ চলাচল করেন। সামান্য বৃষ্টিতে সড়ক কাঁদায় ও পানিতে একাকার হয়। নিরুপায় মানুষকে নিদারুন কষ্টে যাতায়াত করতেহয়। এছাড়াও বষার্য় কখনও সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যায়। 


লালপুর দক্ষিণ পাড়া গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেন বললেন, আমাদের এই সড়ক দিয়ে খরচার হাওর কেন্দ্রীক গ্রামগুলোর কৃষকেরা তাদের বোরো জমির ধান শহরে পাঠায়। এই এলাকার ছেলে মেয়েরা এসড়ক দিয়ে স্কুল—কলেজে যাওয়া আসা করে। কিন্তু কাঁচা রাস্তার কারণে একদিকে ধুলোবালি এবং অন্যদিকে মেঘ বৃষ্টি হলে কাঁদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়। এতে দুর্ভোগের সীমা থাকে না।


তিনি বলেন, কোনো রোগী বা গর্ভবতী নারীকে সদর হাসপাতালে নিতে হলে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। কাঁচা সড়ক দিয়ে নিয়মিত গাড়িও চলাচল করে না। অনেক সময় পায়ে হেঁটে সাড়ে চার কিলোমিটার সড়ক অতিক্রম করে রাধানগর পয়েন্টে গিয়ে গাড়িতে উঠে শহরে যাই। এতে সময়ও অপচয় হয়, কষ্টও হয়। আমরা চাই— দ্রুত এই সড়কটি পাকাকরণ করার জন্য কতৃর্পক্ষ উদ্যোগ নিবেন এবং আমাদের দুর্ভোগ নিরসন করবেন।


লালপুর দক্ষিণ পাড়ার আরেক বাসিন্দা সোহরাব হোসেন বলেন, রাধানগর পয়েন্ট থেকে টঙ্গেরতল পর্যন্ত সাড়ে চার কিলোমিটার কাঁচা সড়কে হেমন্তে পায়ে হেঁটে চলাচল করি, বর্ষায় নৌকায় যাতায়াত করি। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা এই সড়ক দিয়েই যাতায়াত করে থাকে। খরায় ধুলোবালি এবং মেঘ বৃষ্টি হলে কাদা মাড়িয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুল কলেজে যাওয়া আসা করে। 
এলাকার বাসিন্দা মো. মঈনউদ্দীন বলেন, বিশ বছর ধরে এই সড়কটির বেহাল অবস্থা। এলাকার মেম্বার, চেয়ারম্যান, এমপিরা দেখেন। কিন্তু কিছুই করেন না। দশ বছরে রাধানগর পয়েন্ট থেকে আধা কিলোমিটার সড়ক ইটসলিং হয়েছে। 


বললেন, ‘ইটসলিং কোনো উপকারে আসছে না। রাস্তা থেকে ইট সরে গেছে। আরও সমস্যা বাড়ছে। বাকি চার কিলোমিটার কাঁচা রাস্তার কারণে আমরা যাতায়াতে খুব কষ্ট করছি। আমাদের খুব অসুবিধা হয়। মেঘ বৃষ্টি হলে আরও সমস্যা। আমাদের গরু—ছাগল, বোরো জমির ধান সহ মালামাল এই রাস্তা দিয়ে আনা নেওয়া করতে হয়। রাস্তাটি পাকাকরণ করে দিলে খুবই ভালো হবে। আমরা স্বস্তি এবং শান্তি পাব।’


গৌরারং ইউনিয়নের ১,২ এবং ৩ নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার জাহানারা বেগম বললেন, ‘রাধানগর পয়েন্ট থেকে টঙ্গেরতল পর্যন্ত রাস্তা ছাড়া এখানকার মানুষের বিকল্প যাতায়াত নেই। কাঁচা রাস্তার কারণে এই পথে গাড়ি চলাচল করে না। এলাকার শিক্ষার্থীরা স্কুল কলেজে পায়ে হেঁটে চলাচল করতে হচ্ছে। মেঘ বৃষ্টি হলে তাদেরকে কষ্ট করে স্কুল কলেজে যাওয়া আসা করতে হচ্ছে। এলাকার কৃষকেরা তাদের বোরো জমির ধান এই রাস্তা দিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা শহরে নিতে হয়। কাঁচা রাস্তায় গাড়ি চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এই রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে বলেছি। কিন্তু সাড়ে চার কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পাকাকরণের বরাদ্দ ইউনিয়ন পরিষদে নেই। আমরা আশা করি, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা,. মোহাম্মদ সাদিক সাহেব এই রাস্তাটির দিকে নজর দিবেন। আমাদের হাওরাঞ্চলের রাস্তার দুইপাশে দশটি গ্রামের প্রায় বিশ হাজার জনসাধারণের ভোগান্তি দূর করতে এই রাস্তাটি পাকাকরণ করলে আমরা উপকৃত হবো।’ 


গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী বললেন, এই সড়কটি পাকাকরণের বিষয়ে আমরা উদ্যোগ নেবো।
সংসদ সদস্য ড. মোহাম্মদ সাদিক বললেন, এই বিষয়ে এলজিইডি’র দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। 
 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার