প্রকাশিত: ২১ জুলাই, ২০২৩ ০৯:০৪
অসন্তোষ ক্রেতাদের
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের পাইকারি সবজি বাজারের কাছেই কিচেন মার্কেট। সেই কিচেন মার্কেটেই খুচরা সবজি বিক্রেতারা দোকান সাজিয়ে বিক্রি করছেন সবজি। পরিবহন খরচ নেই বললেই চলে। তারপরও সবজির দাম কেজিতে বেড়ে যায় ২০ থেকে ৩০ টাকা।
খুচরা এবং পাইকারি বাজারের তফাৎ শুধু একটাই। তাহলো, পাইকারি বাজার থেকে সর্বনিম্ন ৫ কেজি পণ্য কিনতে হবে। অন্যদিকে খুচরা বাজারে নিজের চাহিদা মতো কেনা যায়। কেউ কেউ ৫০ গ্রাম কাঁচা মরিচ থেকে শুরু করে ১০০ গ্রাম বা তার চেয়ে বেশি পরিমাণে কিনে থাকেন। অন্যান্য সবজিও হাফ কেজি থেকে শুরু করে ইচ্ছেমতো কিনেন।
বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাইকারি বাজারে প্রতি ৫ কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ১২৫-১৩০ টাকায়। সেই হিসেবে প্রতি কেজির দাম পড়ে ২৫-২৬ টাকা। পাশেই খুচরা বাজারে এই শসা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা দরে। একইভাবে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পেঁপের দাম ২৫ টাকা। খুচরা বাজারে একই পেঁপের দাম ৪০ টাকা। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজির বেগুনের দাম ৪০ টাকা। অথচ খুচরা বাজারে একই বেগুনের দাম ৬০ টাকা। এইভাবেই প্রত্যেকটা আইটেমের দামে প্রতি কেজিতে ২০ টাকা বা তার চেয়ে বেশি মূল্যে বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা।
অল্প দূরত্বে সবজির দাম এত বেশি কেন জানতে চাইলে খুচরা সবজি বিক্রেতা মেসার্স ছমরু মিয়া ট্রেডার্স’র স্বত্বাধিকারী দিদার মিয়া বলেন, কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা কেজি দরে কিনতে হয়েছে। আমরা খুচরা বিক্রি করছি। কেউ কেউ ৫০ গ্রাম, ১০০ গ্রাম করে কিনেন। ক্রেতাদের ওজনে সামান্য বেশি না দিলে হয় না। এতে এক কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি করলে প্রায় ১০০ গ্রাম কমে যায়। এইজন্য ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। এছাড়াও অন্যান্য সবজি খুচরা বিক্রি করছি। অনেক সময় তা থেকে যায়, পচে যায়। আমরা একটু বেশি লাভে বিক্রি না করলে গড়পড়তায় চলে না।
খুচরা বিক্রেতাদের কেউই দৈনন্দিন মূল্য তালিকা আপডেট না করলেও মেসার্স ছমরু মিয়া ট্রেডার্স এর স্বত্বাধিকারী দিদার মিয়া প্রত্যেকটি সবজির দাম মূল্য তালিকায় আপডেট করে রাখতে দেখা গেছে।
শ্রেষ্ঠ ঠিকাদারের মালিক জীবন ঠিকাদার বলেন, বেচাকেনা কম। ক্রেতা নেই বললেই চলে। সবজি বেশি সময় রাখলে পচে যায়। আমরার লোকসান হয়। এইজন্য প্রতি কেজি সবজিতে ২০ টাকা করে লাভে বিক্রি করা লাগে।
এদিকে পাইকারি ও খুচরা দামের পার্থক্যে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন ক্রেতারা। শহরের ইকবাল নগরের দিনমজুর সবুজ মিয়া বলেন, দুই একদিন পরপর বিকেলে সবজি কিনতে বাজারে আসা লাগে। হাফ কেজি করে যে কোনো সবজি কিনলেই দাম বেশি দেওয়া লাগে। কাঁচা মরিচ ২০ টাকার কিনলে একটা তরকারি রান্না করলেই শেষ। আজকে হাফ কেজি কাকরুল কিনেছি ৩০ টাকা দিয়ে। হাফ কেজি পটল কিনেছি ২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২০ টাকার কিনেছি। সবজির দামে আগুন লাগছে। আজকে যেটার দাম ৬০ টাকা শুনে যাই, পরদিন এসে দেখি ৭০-৮০ টাকা। সবজির বাজারে সরকারের সুদৃষ্টি দেওয়া দরকার। মনগড়া যেমনে খুশি, ইচ্ছে মতো বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। আমরা দিনমজুররা খুব কষ্টে আছি।
সদর উপজেলার গৌরারং এলাকার বাসিন্দা অটো রিকশা চালক লায়েক মিয়া বলেন, দৈনিক ৫০০/৬০০ টাকা কামাই করি। দিন শেষে বাজারে গিয়ে মাছ তরকারি কিনলেই টাকা শেষ হয়ে যায়। চাউলের টাকা হাতে থাকে না। চাউল কিনলে মাছ তরকারি কিনা যায় না।
কয়মাস আগে এই টাকায় মাছ তরকারি সহ চাল- ডাল কিনতে পারছি। এখন আর সম্ভব হয় না। সবজি আর মাছের দাম এত বেশি বাড়ছে যে, আমরার ক্রয় ক্ষমতার বাইরে গেছেগি।
পাইকারি সবজি বিক্রেতা মেসার্স লোকনাথ বানিজ্যালয়ের মালিক প্রসেনজিৎ দে বলেন, প্রতি কেজি কাঁচা মরিচে একজন খুচরা বিক্রেতা ৫০ টাকারও বেশি লাভে বিক্রি না করলে তার লোকসান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কেননা ৫০ গ্রাম, ১০০ গ্রাম করে কাঁচা মরিচ বিক্রি করেন তারা। মরিচ অনেক সময় পচে যায়। পচে গেলে তাদের লোকসান হয়। এইজন্য কাঁচা মরিচ সহ সবজিতে একটু বেশি লাভ করেই খুচরা বিক্রেতারা বিক্রি করা লাগে। তবে আমরা খুচরা বিক্রেতাদেরকে সীমিত লাভে বিক্রির পরামর্শ দিয়ে থাকি।
মেসার্স আফতা ট্রেডার্স’র পাইকারি সবজি বিক্রেতা মনির হোসেন বলেন, কাঁচা মরিচ সহ সবজির দাম কিছুটা কমেছে। আরও কমবে বলে আশা করছি।
জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আল আমিন বলেন, অতিরিক্ত দামে সবজি সহ অন্যান্য নিত্যপণ্য বিক্রি করলেই আমরা বাজার মনিটরিং করে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে জরিমানা করছি, সতর্ক করছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন