বিল শুকিয়ে মাছ শিকার

প্রকাশিত: ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০৭:৩৭

ক্ষতির মুখে ফসলি জমি

ইজারা নীতিমালা না মেনে সেচ দিয়ে বিলের মাছ আহরণ করছে একটি মহল। জলমহাল নীতিমালায় অনেক নির্দেশনা থাকলেও সেসব নীতিমালার তোয়াক্কা না করে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাখিমারা হাওরে বিল শুকিয়ে নির্বাচারে মৎস্য আহরণের অভিযোগ উঠেছে বীরগাঁও খালপাড় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির উপর। উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের পাখিমারা ও রামগুটা জলকরপুঞ্জ জলমহাল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৬ বছরের জন্য ইজারা নিলেও নীতিমালা মানছেন না এই সমিতি। নিয়ম অনুযায়ী ৩ বছরে একবার জলমহালে ৫ ফুট পানি রেখে জাল দিয়ে মাছ আহরণের কথা থাকলেও ইজারার প্রথম বছরেই ইজারা নীতিমালা ও মৎস্য সংরক্ষণ আইন অমান্য করে সেলুমেশিন দিয়ে নির্বিচারে মৎস্য নিধন করছে ইজারাদার সমিতির সংশ্লিষ্টরা। এতে দেশি প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হওয়ার পাশাপাশি হাওরের জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

অপরদিকে সেচের কারণে হাওরে পানির সংকটের আশঙ্খাও দেখা দিয়েছে। জমিতে পানি সেচ সঙ্কটের কারণে চলতি বোরো মৌসুসে আবাদকৃত জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।


সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পাখিমারা ও রামগুটা জলকরপুঞ্জ জলমহালে ডিজেল চালতি পাম্প দিয়ে জলমহাল শুকানো হচ্ছে। কয়েকটি ডুবায় ইতোমধ্যে মাছ আহরণ করে অন্য এলাকার পানি দিয়ে ডুবা ভরাট করে রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে এই জলমাহলের অধীন লাউয়া নদীর তলদেশ শুকিয়ে মাছ ধরেছেন সংশ্লিষ্টরা। জলমহালের অন্তর্গত বিল ডোবা শুকিয়ে মাছ ধরার হালচিত্রও দেখা গেছে।


জানা যায়, ১০৭ একর আয়তনের এই জলমহালটি ১৪৩০—১৪৩৫ বাংলা পর্যন্ত ৬ বছরের জন্য লিজ নেয় বীরগাঁও খালপাড় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। কাগজে কলমে জলমহালের মালিক সংশ্লিষ্ট সমিতি হলেও বাস্তবে স্থানীয় প্রভাবশালী সাবেক জনপ্রতিনিধি মিজানুর রহমান ও তার ছেলে ছাদিকুর রহমান জলমালটি ভোগদখল করছেন বলে জানান স্থানীয়রা।


বীরগাঁও গ্রামের কৃষক এনামুল হক বলেন, জলমহালের ইজারাদারের কারনে এলাকায় কৃষক ও জেলে স¤প্রদায় বিপাকে আছেন। তারা আইন ভঙ্গ করে বিল শুকিয়ে মাছ ধরছে। আমরা জমিতে পানি পাচ্ছি না। তাছাড়া এলাকায় জেলে স¤প্রদায় মৎস্য আহরণ করতে পারছে না। সমিতির লোকেরা গোটা হাওর শাসন শোষন করছে।


বাবু নামে একজন বলেন, জলমাহল সমিতির লোকরা বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে। কোনো প্রতিবাদ করলে তারা মিথ্যা মামলা দিচ্ছেন সাধারণ মানুষকে। যেভাবে বিল শুকিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে আগামীতে অনেক মাছ পাওয়াই যাবে না।


এদিকে উপজেলার পাখিমারা ও রামগুটা জলকরপুঞ্জ জলমহাল শুকিয়ে মাছ ধরা হাওরে পানি সংকেটর ব্যাপারে জেলা প্রাসক বরাবরে একটি অভিযোগ দিয়েছেন ওয়াসিম রায়মন নামের একজন স্থানীয় কৃষক। মাছের প্রজনন রক্ষায় অবৈধ পাম্প জব্দের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।


সাদিকুর রহমান বাচন বলেন, বিল সংক্রান্ত যা যা অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। উপরন্তু বিলের আশপাশের যে সকল জমি চাষ করা হচ্ছে, তা আমার বিলের পানি দিয়ে। কৃষকরা আমার ডুবা থেকে পানি নিয়ে জমি চাষ করছেন। ১০৭ একর ভূমিই খাস এবং বিলায়িত। কিছু সংখ্যক কৃষক তার দখলীয় জমিতে মাটি কেটে পুকুর করে মাছ ধরতে চায়। অথচ সেই জমিও পাখিমারা বিলের আওতাধীন। বছরে ২৪—২৫ লাখ টাকা সরকারকে দিচ্ছি, কৃষকরা যদি মাছ ধরে নিয়ে যান তাহলে আমাদের ক্ষতি হবে। তারা ধান চাষ করবে করুক না। মাছ ধরতে দিচ্ছি না বলেই আমাকে হয়রানি করতে একশ্রেণির মুনাফালোভী মানুষ আমাকে হয়রানি করছেন।


বীরগাঁও খালপাড় মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ আহমদ বিল শুকিয়ে মাছ ধরার ব্যপারে কোনো সদুত্তর দিতে পারেন নি। তবে বিল অনেক টাকায় ইজারা এনেছেন জানিয়ে, সাবেক ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিল কিভাবে মারবো আমরা জানি। কিছু মানুষ সাংবাদিকদের কাছে অহেতুক তথ্য দিচ্ছে। এই হাওর পুরোটাই খাস ভূমি।’


শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুকান্ত সাহা বলেন, এ বিষয়ে কৃষকরা ডিসি অফিসে অভিযোগ করেছেন। এই কপি আমাদের কাছেও আছে। ইজারাদারকে দুইদিন মাছ ধরতে নিষেধ করেছি। আজ বৃহস্পতিবার আমাদের লোক যাবে। তহসিলদার এবং সার্ভেয়ার যাবে। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার