প্রকাশিত: ০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০৭:১৩
আসন্ন ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শান্তিগঞ্জ উপজেলা থেকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে চার প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। এর মধ্যে তিনজন প্রার্থীর নির্বাচনী পূর্বাভিজ্ঞতা থাকলেও একজন প্রথমবারের মতো প্রার্থী হচ্ছেন। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া চার ব্যক্তি হচ্ছেন— সিলেট মহানগর শ্রমিকলীগের সহ সভাপতি মোশাররফ হোসেন জাকির, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও শান্তিগঞ্জ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুরঞ্জিত চৌধুরী টপ্পা, শান্তিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও নোয়াখালী বাজার সমিতির সভাপতি রোকনুজ্জামান রুকন ও নোয়াখালী বাজারের গার্মেন্টস্ ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম রিপন।
মোশাররফ হোসেন জাকির চতুর্থ ও পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে (দুই বার) এ পদের জন্য প্রার্থী হয়েছিলেন। তার বাড়ি জয়কলস ইউনিয়নের জামলাবাজ (মাস্টারবাড়ি) গ্রামে। তিনি মরহুম হাসিম উল্লাহ’র ছেলে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রার্থী হলেও বাজার সমিতির নির্বাচনের অভিজ্ঞতা আছে রোকনুজ্জামান রুকনের। একই ইউনিয়নের বৌগলারখাড়া (দেবগ্রাম) গ্রামের মরহুম রইছ মিয়ার ছেলে তিনি। নিজে কোনো নির্বাচন না করলেও দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির মাঠে থাকায় নির্বাচন অভিজ্ঞতা আছে সুরঞ্জিত চৌধুরী টপ্পারও। উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের শত্রুমর্দন গ্রামের মৃত অধীর চৌধুরীর ছেলে তিনি। ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম রিপনের বাড়ি শিমুলবাক ইউনিয়নের শিমুলবাক গ্রামেই। তিনি মরহুম কাঁচা মিয়ার ছেলে।
উপজেলার একাধিক ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মোশাররফ হোসেন জাকির দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কাজ করছেন। এর আগে দুইবার নির্বাচন করে পরাজিত হলেও ব্যাপক পরিচিত আছে তার। এবছর প্রার্থী হলে অনেক ভোটারদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারেন মহানগর শ্রমিকলীগের এই নেতা। ছাত্রলীগের তৃণমূল থেকে রাজনীতি করে বেড়ে উঠেছেন সুরঞ্জিত চৌধুরী টপ্পা। বিভিন্ন সময় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া অনেক প্রার্থীর পক্ষে সভা সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে ও প্রচারণায় অংশ নিয়ে বেশ পরিচিতি পেয়েছেন তিনিও। হিন্দু কমিউনিটির নেতা হিসেবেও বেশ পরিচিতি আছে এই আওয়ামী লীগ নেতার। তার দিকেও নজর থাকবে ভোটারদের। নোয়াখালী বাজার সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে জয় লাভ করে আলোচনায় এসেছিলেন রোকনুজ্জামান রুকন। ভোটের মাঠে এ জয় তাকে বেশ পরিচিতি দিয়েছে। বাড়িয়েছে গ্রহণযোগ্যতা। জেলা পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে প্রার্থীতার ঘোষণা দিয়ে বেশ আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। যদিও পরে তিনি নির্বাচনে অংশ নেননি। এ নির্বাচনে তার দিকে আগ্রহ দেখাবেন অনেক ভোটার। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে শিমুলবাক ইউনিয়নের একাধিক কেন্দ্র, পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের ঠাকুরভোগসহ আরও বেশ কয়েকটি জায়গায় জয় লাভ করে আলোচিত হয়েছিলেন ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম রিপন। বিভিন্ন কারণে এ নির্বাচনেও পরিচিত তিনি। অনেক ভোটারদের ঝোক আছো তার দিকেও।
শহিদুল ইসলাম রিপন বলেন, আমি নির্বাচন করবো। ইতোমধ্যে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেছি। গত নির্বাচনে মানুষ আমাকে বেশ সাড়া দিয়েছিলেন। এবার আরও বেশি সাড়া পাচ্ছি। পশ্চিম বীরগাঁও, পাথারিয়ার, শিমুলবাক ও জয়কলস ইউনিয়নসহ পূর্বাঞ্চলীয় ইউনিয়নগুলোর ভোটও আমি পাবো। আমার জয় শতভাগ নিশ্চিত।
সুরঞ্জিত চৌধুরী টপ্পা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা নিশ্চিত করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির মাঠে আছি। শিক্ষা, উন্নয়ন নিয়ে অনেক কথা বলি। সুযোগ পেলে এসব নিয়ে কাজ করতে চাই। বিভিন্ন সামাজিক কাজেও মানুষের পাশে দাঁড়াবার চেষ্টা করি। কতটুকু সহযোগিতা করতে পারি জানি না তবে মানুষের পাশে থাকি। ৮ ইউনিয়নের মানুষ আমাকে ভালোবাসেন। আমি সকলের ভোট পাবো বলে আশাবাদী।
রোকনুজ্জামান রুকন বলেন, আমি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। মাঠে কাজ করছি৷ ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি। মানুষ কথা দিচ্ছেন। আরও সময় আছে। কাজ করতে পারবো। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে মানুষের সাথে মিশে থাকছি। মানুষও এবার সাড়া দিচ্ছেন। মানুষের কথা শুনছি। আমি আশা করি সকলের ভোটই পাবো।
পাথারিয়া ইউনিয়নের গাজীনগর গ্রামের ওয়ার্কে আছেন জানিয়ে মোশাররফ হোসেন জাকির বলেন, আমি দুই বার নির্বাচন করে হেরেছি কিন্তু মাঠ ছাড়িনি। এখনো মাঠে কাজ করছি। জনগণ আমাকে গ্রহণ করছেন। উপজেলার ৮ ইউনিয়নে আমার ভোট আছে। সব শ্রেণি পেশার মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। আমি মানুষের মায়া আর ভালোবাসায় আছি এবং থাকবো।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন