নীরব প্রস্তুতি 

প্রকাশিত: ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০৭:০৬

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটার আগেই দরজায় কড়া নাড়ছে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে মার্চের শুরুর দিকে ঘোষণা হতে পারে নির্বাচনের তফসিল। কয়েকটি ধাপে অনুষ্ঠিত হবে এই উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার এক মাসের মতো সময় থাকলেও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে আনুষ্ঠানিক ভাবে এখনো কোনো প্রচার প্রচারণায় নামতে দেখা যায় নি প্রার্থীদের। লক্ষ করা যায় নি উপজেলাবাসিকে শুভেচ্ছাবার্তা জানিয়ে টাঙানো কোনো ব্যানার বা পোস্টার। তবে নীরবে অনেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রার্থী হবার। চালিয়ে যাচ্ছেন জনসংযোগ। এদের অধিকাংশ আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। বিএনপির কাউকে প্রার্থী হিসেবে প্রচারণায় পাওয়া যায়নি। 


সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে অনেকেই লড়বেন বলে জানা গেছে। একই পদে নির্বাচনে থাকছেন বর্তমান নির্বাচিতরা। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অন্তত ৫ জনের নাম শোনা যাচ্ছে। সময়ের সাথে সাথে এ সংখ্যা বাড়তে পারে। এখন পর্যন্ত যাদের নাম শোনা যাচ্ছে, তারা হচ্ছেন— বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আবুল হোসেন, সাংবাদিক বদরুল কাদির হিসাব, জাকির হোসেন শাহীন, সাবেক পৌর কাউন্সিলর শামীম চৌধুরী সামু, পৌর শহরের মো. বাবলু মিয়া ও ব্যবসায়ী শাহ রুবেল আহমেদ। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে আগ্রহী প্রার্থীর সংখ্যা কম। এখন পর্যন্ত বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নিগার সুলতানা কেয়া ও গত নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থানে থাকা সাদিয়া বখত সুরভী আসার আলোচনা রয়েছে। 


বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, আমি এবারও ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নেব। মানুষের সাথে আমি কথা বলেছি— তারা আমাকে আবার চাচ্ছেন। ইতোমধ্যে আমি গণসংযোগ শুরু করেছি। ফকিরনগর, হবতপুর,  কাঠইর,  ইসলামপুর সহ বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে ভোটারদের সাথে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আনুষ্ঠানিক ভাবে আরও কিছুদিন পর প্রচারণায় নামলেও মানুষের কাছে যাওয়া শুরু হয়েছে আরও আগে থেকেই। 


গত নির্বাচনে আবুল হোসেনের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জাকির হোসেন শাহীন। তিনি আওয়ামী আদর্শের রাজনীতিতে যুক্ত। তিনি বলেন, গতবার সামান্য ভোটের জন্য পরাজিত হয়েছি। তাই এবার আগে থেকেই মাঠে আছি। গ্রামে গ্রামে মানুষের কাছে যাচ্ছি। আগের ভুলগুলো শুধরে এবার বিজয় প্রত্যাশা করছি।


সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বদরুল কাদির শিহাব বললেন, আমি মানুষের সঙ্গ ছাড়ি নি। চেষ্টা করছি মানুষের সুখে—দুঃখে পাশে থাকার। সামাজিক নানা কাজের সঙ্গে যুক্ত আছি। সম্মানীত ভোটারদের অনুমতি পেলে ভোটে লড়ার চিন্তা আমার। 


সাবেক কাউন্সিলর শামিম চৌধুরী সামু বলেন, আমি নির্বাচনমুখি মানুষ। জনগণের সেবক। জনগণ নির্বাচন এলে পরিচিত মুখ খোঁজে। নির্বাচনে জয় পরাজয় থাকবে এটাই স্বাভাবিক। মানুষের চাওয়ায় নির্বাচনে অংশ নেয়া লাগে। এবারও মানুষ চাচ্ছে মানুষের কথা বলার জন্য আমি নির্বাচনে যাই। সুনামগঞ্জের মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য আমি নির্বাচনে অংশ  নেব। 


এছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক আহবায়ক বাবলু মিয়া ও ব্যবসায়ী শাহ রুবেল আহমেদ। 


মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে এবারও নির্বাচনে অংশ নিবেন বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নিগার সুলতানা কেয়া। তবে বর্তমানে তিনি সংরক্ষিত সংসদ সদস্য পদে এমপি হওয়ারও জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। 


বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনতে ইতোমধ্যে ঢাকা গিয়েছেন তিনি। এমপি না হতে পারলে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদেই নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন কেয়া। কেয়া বলেন, আমি আগের পদের নির্বাচন করবো। মানুষের সাথে যোগাযোগ করছি। মানুষ ও আমার সাথে যোগাযোগ করছেন। তাদেরকে সংগঠিত করে আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় নামবো। এছাড়াও গত নির্বাচনে কেয়ার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সাদিয়া বখত সুরভীও নির্বাচনের মাঠে থাকতে পারেন বলা জানা গেছে। থাকতে পারেন ফেরদৌসী জান্নাত নামের আরেক নারীও। তবে তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার