বিদেশ থেকেও এসেছেন ভক্তরা

প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০৭:২৭

দুইদিন ব্যাপি বাউল শাহ আব্দুল করিম লোক উৎসব শুক্রবার গভীর রাতে শেষ হয়েছে। একুশে পদকপ্রাপ্ত করিমের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার নিজ গ্রাম উজানধলে আয়োজিত লোক উৎসবে দেশ—বিদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এসেছিলেন করিমের ভক্ত অনুরাগীরা। উৎসব ঘিরে ছিল ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলাও। 
কিংবদন্তি এই বাউলের ১০৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত লোক উৎসবে দূর দূরান্ত থেকে এমনকি ভারতের বাউলরাও এসে সমবেত হয়েছিলেন। 
ভারতের নদীয়ার বাউল চৈতন্য কুমার মন্ডল বলেন, একসময় শুধু লালন শাহ চর্চা হতো ভারতে। এখন আমরা করিমের গান শুনি। করিমের গানে যে ভাব তা আমাদের টানে। সেই টান থেকে ভারতের সীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশে এসেছি। আব্দুল করিমের বাড়িতে এসে তার গান উপভোগ করা সৌভাগ্যের ব্যাপার।
বিপদ ভঞ্জন মালাকার বলেন, বর্তমান সময়ে ভারতের তরুণ প্রজন্মের কাছে করিমের গানগুলো খুবই জনপ্রিয়। ইয়ং জেনারেশন বেশি করে নিচ্ছে গানগুলো। সেই জায়গা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ধলে আসা। এখানে এসে গান শুনাটা একটা গর্বের বিষয় । সুযোগ পেলে গান গাওয়ারও ইচ্ছা আছে।
বাউল আব্দুল করিম মাটি ও মানুষের জন্য তাদের ভাষায় গান গেয়ে গেছেন। সেই মাটির সুরে শুদ্ধ ভাবে করিমের গান গাওয়ার অনুরোধ তার ভাব শিষ্যদের।
আব্দুল করিমের শিষ্য লাল শাহ বলেন, আমার বাবা ও মা দুইজনের মুরিদ আব্দুল করিম। আমিও আব্দুল করিমকে মনে প্রাণে ধারণ করি। ঢাকা, চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আব্দুল করিমের গান চর্চা করা হয়। আমি ভারতে গিয়েও দেখেছি সেখানেও আব্দুল করিমের গান চর্চা হয়। আমাদের অনুরোধ যেখানেই গাওয়া হউক শুদ্ধ সুরে যেন গাওয়া হয়।

প্রবীণ বাউল আব্দুর রহমান বলেন, আব্দুল করিম মাটি ও মানুষের গান গেয়ে গেছেন। যখন শহরে এসব বাজানো কিংবা গাওয়া হয় তখন সেই মাটির গান থাকে না। সুর ও উচ্চারণ নষ্ট হয়ে যায়। আমাদের দাবি এই জায়গায় যেন একটু গুরুত্ব দিয়ে সম্মানের সাথে শুদ্ধ ভাবে গাওয়া হয়। এবং রাষ্ট্রীয় ভাবে এই উৎসব পালনের ব্যবস্থা করা হয়।
বাউল আব্দুল করিমের ছেলে শাহ নুর জালাল বলেন, বাবা জীবন্ত অবস্থায় কোনো সম্পদের জন্য চিন্তা করেননি। কিছু জমি ছিল সেটি বিক্রি করেও বই প্রকাশ করেছেন। আমার ব্যক্তিগত কিছু চাওয়া নেই, তবে করিমের বাড়িতে মানুষ যেন আসতে পারে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং একটি করিম একাডেমি প্রতিষ্ঠার দাবি জানাই।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, এই উপজেলা প্রাকৃতিকভাবে একটি ভিন্ন রকম জায়গা। এখানে চাইলেও সবকিছু করা যায় না। আজকে যে সমস্যাগুলোর কথা এখানে আলোচনা করা হয়েছে— সকলের সমন্বয়ে আব্দুল করিমের স্মৃতিকে আরও প্রসারিত করার দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করবো। কারণ বাউল আব্দুল করিম শুধু ধল কিংবা সুনামগঞ্জের সম্পদ নয়। আবুল করিম সারা দেশের সম্পদ।
নারী—পুরুষ সকল বয়সের মানুষের পদাচরণায় মুখর ছিল দুই দিনের উৎসব স্থল। বিনোদনের জন্য চরকী, নাগরদোলা খাবারের রস মালাই, মিষ্টি সহ  বিভিন্ন পণ্য নিয়ে বসেছিলেন দোকানীরা। 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার