প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২১:০৩
শান্তিগঞ্জ উপজেলার দেখার হাওরের ছাইয়া কিত্তা ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শেষ হওয়ার আগেই ধস নেমেছে। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন হাওরপাড়ের কৃষকেরা।
জানা যায়, শান্তিগঞ্জ উপজেলা দেখার হাওরের ছাইয়া কিত্তার বাঁধ ৬নং পিআইসি’র (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির) অধীন। দায়িত্বপ্রাপ্তরা ১০০০ মিটার বাঁধের কাজ করছেন। প্রকল্প এলাকার উত্তর পাশের ছাইয়া কিত্তা নামক জায়গায় দুই বছর আগে বর্ষা মৌসুমে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রাতের আঁধারে মহাসিং নদী ও বাঁধের পশ্চিম পাশ থেকে বালি মাটি ও ভিট বালি উত্তোলন করে। এতে বাঁধের দুই পাশে মহাসিং নদীর অংশে ও হাওরের অংশে প্রায় ২৭ ফুট গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়। বর্তমানে ছাইয়া কিত্তা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের মাটি ভরাটের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু ৭/৮ দিন আগে হঠাৎ বাঁধের দুই পাশে ভাঙন শুরু হয়। বাঁধের মাটি দুই পাশে গভীর ডোবায় ধসে যাচ্ছে। হুমকির মুখে রয়েছে ফসল রক্ষা বাঁধ।
মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে দেখার হাওরের বাঁধ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দেখার হাওরের ছাইয়া কিত্তা ফসল রক্ষা বাঁধের দুই পাশে জিও ব্যাগ দিয়ে ডাম্পিং করা হচ্ছে। বাঁধের ফাটল অংশ আলাদা ভাবে অতিরিক্ত মাটি ফেলে সংস্কার করার কাজ চলছে। কিন্তু বাঁধের দুই পাশে গভীর গর্ত হওয়ায় মাটি ধরে রাখা যাচ্ছে না।
আস্তমা গ্রামের কৃষক ও পিআইসি সভাপতি আজিমুল হক জানান, আমাকে ছাইয়া কিত্তা বাঁধে কাজ করার জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাঁধের কাজের শেষ পর্যায়ে এসে আমার বাঁধের দুই পাশে ভাঙন শুরু হয়েছে, কোন ভাবেই ভাঙন রোধ করা যাচ্ছে না। এখন ভাঙন রোধে আরও অর্থ বরাদ্দ দিয়ে দুইটি গর্ত মাটি ভরাট করা প্রয়োজন। না হলে বাঁধ রক্ষা করা যাবেন না। বৈশাখ মাসে হাওরে পানি এলে এই বাঁধ হুমকির মুখে পড়বে। আমি উপজেলায় লিখিত ভাবে জানিয়েছি।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা কাবিটা কমিটির সদস্য সচিব ইয়াছিন খান বলেন, দেখার হাওরের ছাইয়া কিত্তা হাওরের বাঁধটি হুমকির মুখে। ইতোমধ্যে আমরা বাঁধ পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিক ভাবে দুই পাশে জিও ব্যাগ ফেলে বাঁধের ভাঙন রোধ করার চেষ্টা করেছি। বাঁধটি সম্পন্ন করতে পিআইসিকে দিক নির্দেশনা দিয়েছি। বাঁধের ভাঙন রোধে নতুন করে ইস্টিমিট তৈরি করে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধের কাজ সম্পন্ন করতে কাজ করছি।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুকান্ত সাহা বলেন, শান্তিগঞ্জ উপজেলার দেখার হাওরের ছাইয়া কিত্তা বাঁধটি পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিক ভাবে ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উচ্চতর টিমের সাহায্য নিয়ে ফসল রক্ষা বাঁধের ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন