প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০৭:৪৮
বিশ্বের বৃহৎ দুই দেশের দুইটি আন্তর্জাতিক উৎসবে যোগ দিতে চীন ও রাশিয়া যাচ্ছে সুনামগঞ্জের দুই প্রতিভাবান তরুণ—তরুণী। রাশিয়ার কৃষ্ণ সাগরের উপকূলে অলিম্পিক এবং পরিবেশগত ঐতিহ্যর কথা চিন্তা করে রাষ্ট্রপতি ভস্নাদিমির পুতিনের নির্দেশে বিশেষ ভাবে নির্মাণ করা সিরিয়াস ফেডারেল টেরিটোরিতে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ ফেস্টিভ্যালে অংশ নিতে রাশিয়া যাচ্ছে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তাজকিরা হক তাজিন। আগামী ১—৩ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব যুব উৎসবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান সহ বিশ হাজার অংশগ্রহণকারী অংশগ্রহণ করবেন। সেখানে স্বেচ্ছাসেবী আন্তর্জাতিক সংগঠন ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার বাংলাদেশের হয়ে সুনামগঞ্জ থেকে একমাত্র অংশগ্রহণকারী হিসেবে থাকবে তাজিন।
অন্যদিকে চীন জাতির ঐতিহাসিক শহর হুআক্সাই শহরে অনুষ্ঠিত ১৪ তম এশিয়া প্যাসিফিক হারমোনিকা ফেস্টিভ্যালে দেশের প্রথম হারমোনিকা বাদক হিসেবে চীন যাচ্ছে জামালগঞ্জের আসাদ চৌধুরী এ্যানি। আসাদ আন্তর্জাতিক মিউজিকাল কোম্পানি এস্ট—টপ এর বাংলাদেশ ব্র্যান্ড এম্বাসাডর।
চীনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক এশিয়া প্যাসিফিক হারমোনিকা ফেস্টিভ্যাল হচ্ছে এশিয়ার সর্ববৃহৎ হারমোনিকা ফেস্টিভ্যাল। বিশ্বের নামকরা সব হারমোনিকা প্লেয়ার এবং মিউজিশিয়ানরা ভীর জমান এই ফেস্টিভ্যালে। আগামী ৮—১১ আগস্টে অনুষ্ঠিত ১৪ তম আসরে সর্বপ্রথম এবং একমাত্র বাংলাদেশী হারমোনিকা প্লেয়ার হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়েছে আসাদ। পুরো দেশের অন্যতম হারমোনিকা বাদক এখন সে। হারমোনিকা নিয়ে দেশের অনেক খ্যাতিমান শিল্পী ও প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ মিউজিক ইন্ড্রাস্টিতে আসাদকে হারমোনিকা প্লেয়ার হিসেবে সবাই চিনে। হারমোনিকাকে বাদ্যযন্ত্র হিসেবে নতুন ভাবে সবার সামনে নিয়ে আসতে কাজ করছে আসাদ।
আসাদ বলেন, হারমোনিকা বাদ্যযন্ত্র হিসেবে বিশ্বে অনেক ব্যবহার থাকলেও বাংলাদেশে খুব কম। আমি এটাকে নিয়ে অনেকদিন ধরে কাজ করছি। হারমোনিকা নিয়ে দেশে আমার অনেক সফলতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের হয়ে চীন যাওয়া অন্যতম একটি অর্জন। বাংলাদেশ থেকে প্রথম কেউ এই উৎসবে অংশ নেবে। সেখানে আমি যাওয়া মানে বাংলাদেশ যাওয়া। হারমোনিকাকে বাংলাদেশের মানুষ ও মিউজিকের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়াই আমার লক্ষ্য।
তাজিন বলেন, জীবনের প্রথম বিদেশ ভ্রমণ, তাও আবার রাশিয়ায়। কখনও ভাবতে পারি নি এমন একটা সুযোগ পাব। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইয়ূথ ফেস্টিভ্যালে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। অপেক্ষায় আছি মার্চের ১—৭ তারিখের সেই চমৎকার অনুষ্ঠানের। এক নতুন অভিজ্ঞতা হবে পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম দেশ রাশিয়ার মাটিতে পৃথিবীর সকল দেশের তরুণদের সাথে পরিচয় হওয়ার। এটি একটা সুবর্ণ সুযোগ আমার জন্য। ভাবলেই আনন্দ হচ্ছে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, যাতে ভালোভাবে, চমৎকার সব অভিজ্ঞতা নিয়ে আবার নিজ দেশে ফিরে আসতে পারি। সেই সাথে নিজের দেশের মুখও যাতে উজ্জ্বল করতে পারি।
দুজনের এই অর্জনে খুশি তাদের পরিবার, আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু মহল। ফেসবুক কিংবা ফোনে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন অনেকে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন