রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন/ তৃণমূল নারীদের কথা

প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০৭:১৭

‘আমরা নারী, আমরা সব পারি’ এই মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে দেশের নারী সমাজ আজ বীরদর্পে বিচরণ করছে তৃণমূল পর্যায়ে। তবে দেশে রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতায়ন নারীর সংখ্যা এখনো অপ্রতুল। আর যে ক’জন ক্ষমতাপ্রাপ্ত নারী আমরা পাই, তারা চরম অবহেলা ও বঞ্চনায় পর্যুদস্ত বলে জানালেন তৃণমূলের নারী কর্মীরা। 


জামালগঞ্জ উপজেলা যুব মহিলালীগের সভাপতি শাহানা আল আজাদ বলেন, রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ কম নয়, তবে এই অংশগ্রহণের বেশির ভাগই কর্মী ও নেতার পরিবার পর্যায়ে সীমাবদ্ধ। তৃণমূলের নারীরা এখনো অনেক পিছিয়ে আছেন। আমাদের নারীদের কেউ যদি সামনে এগিয়ে যেতে চায় তাহলে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কটুক্তির মুখে পড়ে। পরিবারও বাধা দেয়। নারীদেরকে যদি সর্বক্ষেত্রে সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা ও সমানতালে এগিয়ে যেতে পারবে। আমরা নারীরা যখন মাঠে ময়দানে কাজ করি তখন অনেক বাধার মুখে পড়তে হয়। এছাড়াও সকল রাজনৈতিক দলেই মূল কমিটিতেই মহিলাদের শুধুমাত্র মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা হিসেবে রাখা হয়। অথচ প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের গঠণতন্ত্রে বলা আছে, কমিটিতে ৩৩% শতাংশ নারীদের অন্তভুর্ক্তি করার কথা। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হবার ইচ্ছা ছিল। মনোন্নয়ন বঞ্চিত হওয়ায় নির্বাাচন করতে পারি নি। আমি ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত অপরাজিতা নেটওয়ার্ক গঠন করেছি। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন দলের মূল কমিটিতে ৩৩% শতাংশ নারীদের অন্তর্ভুক্তি করার জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছি। 


জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মারজানা ইসলাম শিবনা বলেন, পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে আমরা পদে পদে বাধার সম্মুখীন হই। ‘অপরাজিতা’ প্রকল্প থেকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জেনেছি, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির পাশাপাশি একজন নারী নেত্রী বা সচেতন নারীরা বিভিন্ন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে জনগণের সেবা করা যায়। শুধু তাই না সাধারণ আসনে নারীরা নির্বাচন করতে পারে। আমি গত নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চেয়েছিলাম। আমার যোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠেনি। প্রশ্ন উঠেছে আমি একজন নারী। এই যে পুরুষদের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি— এই দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের জন্য অপরাজিতা প্রকল্পের মাধ্যমে ইউনিয়ন থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত অপরাজিতা নেটওয়ার্ক গঠন করা হয়েছে। শত বাধা ডিঙিয়েও অপরাজিতা নেটওয়ার্ক নারীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সচেষ্ট থাকবে।


জামালগঞ্জ উপজেলা মহিলা পরিষদের সহ সভাপতি খালেদা বেগম বলেন, আমি ২০০৩ সালে জামালগঞ্জ উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের একজন সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার নির্বাচিত হয়ে টানা ৯ বছর দায়িত্ব পালন করেছি। যদিও ৫ বছর মেয়াদকাল ছিল। কিন্তু তখনকার সময়ে যথাসময়ে নির্বাচন না হওয়ায় ৯ বছর দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে আমাকে। দায়িত্বকালে আমরা আমাদের অধিকার এবং সুযোগ সুবিধা পাইনি। আমি তখন পরিষদের আইন কানুন সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। নারী হিসেবে নেতৃত্ব দিতে বাধা নিষেধ ছিল। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে অনেকের ধারণা ছিল যে, সংরক্ষিত নারী আসনটা হচ্ছে একটা অলঙ্কার মাত্র। অবহেলার চোখে দেখা হতো আমাদের। আমি জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার অধিকার পাইনি। এই চরম সমস্যা ও বাধা মাথায় নিয়ে ২০১৪ সালে উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছি, যদিও জয়লাভ করতে পারিনি। ২০১৯ সালে ‘অপরাজিতা’ প্রকল্পের সাথে যুক্ত হই, বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সভায় অংশগ্রহণ করি। নারীদের অধিকার, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন সহ জনপ্রতিনিধি হিসেবে কি দায়িত্ব ও কর্তব্য পরিষ্কার ভাবে জানতে পারি। এখন পরিবার থেকেও সার্বিক সহযোগিতা পাই, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ করছি। পরিবারেও আমার পূর্বের চেয়ে মূল্যায়ন বেড়েছে। শুধু আমি একা নই, তৃণমূলের অনেক নারীরা অপরাজিতা প্রকল্পের সাথে যুক্ত হওয়ায় সমাজে নারী নেত্রী বেড়েছে। 
সমাজের কল্যাণে আমরা কাজ করতে পারছি। 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার