দুই অপরাজিতার আত্মকথা

প্রকাশিত: ০৯ মার্চ, ২০২৪ ০৬:৪৬

পরিবার ও সমাজের নানা বাধা কাটিয়ে জীবন সংগ্রামে এবং রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে যুদ্ধ করে সাফল্য পেয়েছেন বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দুই নারী। নানা বাধা বিপত্তিকে উপেক্ষা করে  তৃণমূল থেকে উঠে আসা এসব নারীদেরকে সচেতন করে তুলতে কাজ করছে ‘অপরাজিতা’ প্রকল্প। অপরাজিতা প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ নিয়ে সফল হওয়া নারীদের প্রত্যেকের জীবনে রয়েছে সংগ্রামের আলাদা আলাদা কাহিনী। 


আমেনা আক্তার 
নারীদের ক্ষমতায়ন, তৃণমূল নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং জীবন সংগ্রাম নিয়ে আমেনা আক্তার বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হয়েও সমাজ এবং এলাকার জনসাধারণের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। জেসিস নামের একটি এনজিও সংস্থায় যখন কাজ করি তখন পরিবার থেকে বাধা আসে। এরপর এফআইভিডিবি নামের একটি এনজিও সংস্থায় কাজ করেও বাধার সম্মুখীন হই। অনেকেই নানা ধরনের খারাপ মন্তব্য করতেন। আমি এক কান দিয়ে শুনেছি, অপর কান দিয়ে বের করে দিয়েছি। এরপর ২০১৬ সালে আমাদের পলাশ ইউনিয়নে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন করে বিজয়ী হই। প্রায় তিন বৎসর জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার কী অধিকার ও করণীয় রয়েছে সে সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। পরিষদে শুধু আসা—যাওয়া করতাম। এলাকার জনগণের জন্য তেমন কোন উল্লেখযোগ্য কাজ করতে পারিনি। ২০১৯ সালে আবার ‘অপরাজিতা’ নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন প্রকল্পের সাথে যোগ দেই। প্রশিক্ষণ ও সভায় অংশগ্রহণ করি। সেখান থেকেই জানতে পারি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে কী কী কাজ করতে পারবো। আমি আমার এলাকার সুবিধা বঞ্চিত নারীদের এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করছি। ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন কমিটিতে যুক্ত হয়ে পুরুষের পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। বর্তমানে আমি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা কৃষকলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, মহিলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীদের মূল্যায়ন করছেন, সুযোগ সুবিধা দিয়ে যাচ্ছেন। তবে তৃণমূলের নারীরা এক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। তৃণমূলের নারীদেরকে মূল ও সহযোগী সংগঠনে সম্পৃক্ত করতে কাজ করছি। আমি আশা করি, আমার মতো আরও অনেক নারী তৃণমূল থেকে উঠে আসবে। নারীরা সমাজে নেতৃত্ব দিবে, রাষ্ট্রের উন্নয়নে পুরুষের সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করবে।


রেহেনা পারভীন 
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের সাবেক জনপ্রতিনিধি ছিলেন রেহেনা পারভীন। তিনি ২০১৬ সাল থেকে ২০১৯ সালের মে মাস পর্যন্ত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেতে গিয়ে নিজের ঘর থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হন। তিনি বলেন, নানা ধরনের কটুকথা শুনতে হয়েছে। পুরুষ সদস্যরাও দাবিয়ে রেখেছেন। কোন গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে রাখেনি যদি কোথাও রেখেছে তাও নামমাত্র। আমার কোন প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা না থাকায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের সেবা করা থেকে বঞ্ছিত ছিলাম। ২০১৯ সালের জুন মাসে  ‘অপরাজিতা” নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন প্রকল্পের সাথে যোগ দেই। প্রশিক্ষণ ও সভায় অংশগ্রহণ করে দিকনির্দেশনা পাই। সমাজে নারীদের করণীয় সম্পর্কে  ধারণা অর্জন করি।  ২০১৯ সালের জুন মাসথেকে ২০২২ সালের মেয়াদকালীন সময় পর্যন্ত এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ করতে কোন সমস্যা হয়নি। অপরাজিতা প্রকল্পের সাথে যুক্ত হয়ে জেনেছি জনপ্রতিনিধি না থাকলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করা যায়। আমি এখন একা নই আমার সাথে অনেক নারীরা আছেন। সকলে একসাথে মিলে আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে ভূমিকা রাখতে পারছি। বর্তমানে আমি উপজেলা কৃষকলীগের সহ সভাপতি পদে আছি। 
তিনি বলেন, নারীরা এখন শত বাধা ডিঙিয়ে সরাসরি ওয়ার্ড মেম্বার থেকে শুরু করে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। আমি অতীতে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত হয়ে জনগণের সেবা করেছি। আগামীতে সাধারণ সদস্য পদে নির্বাচন করব আশা করছি। রাজনীতির পাশাপাশি জনগণের সেবা এবং নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাব ইনশাল্লাহ।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার