অনুমতির অপেক্ষায় টেন্ডার

প্রকাশিত: ২৩ মার্চ, ২০২৪ ০১:২৯

এভাবেই ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন নদী পারাপার হয় উপজেলার দুইপাড়ের বাসিন্দারা

একটি মাত্র সেতুর অভাবে যুগ যুগ ধরে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন জেলার তিন উপজেলার ৩ লক্ষাধিক মানুষ। সেতু না থাকায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া পার হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। সঠিক সময়ে স্কুলে যেতে পারছে না শিক্ষার্থীরা, বিপাকে পড়তে হচ্ছে অসুস্থ রোগী নিয়ে। 


জামালগঞ্জ—সাচনা সড়কে একটি সেতু নির্মাণের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। এই সেতু নিয়ে জামালগঞ্জবাসীকে খুশির খবর জানালো সুনামগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সাথে একান্ত আলাপে সেতুর ডিজাইন সম্পন্ন করে   টেন্ডার অনুমতির অপেক্ষার কথা জানালেন নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন।  


জামালগঞ্জ উপজেলাকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদী। নদীর একপাড়ে উপজেলার ৩টি ইউনিয়ন অন্যপারে বাকি ৩টি। একদিকে স্কুল—কলেজ, হাসপাতাল সহ উপজেলার সবগুলো প্রশাসনিক দপ্তর অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী সাচনাবাজারসহ সকল বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এতে দৈনন্দিন বিভিন্ন প্রয়োজনে দুই এলাকার মানুষকে নদী পার হয়ে দুই এলাকায় আসা যাওয়া করতে হয়। সেতু না থাকায় নদী পার হওয়ার একমাত্র ভরসা খেয়া নৌকা। প্রতিদিন অন্তত ৮—১০ হাজার মানুষ এই খেয়া নৌকায় পারাপার করেন। হাটবারে (সপ্তাহে দুইদিন) এ সংখ্যা দ্বিগুণ হয়।


জীবন ঝুঁকি মাথায় নিয়েই প্রতিনিয়ত খেয়া পার হচ্ছে হাজারো মানুষ ও মোটরসাইকেল। সাচনা বাজার ঘাটে সিঁড়িগুলো এতোটাই খাড়া যে উঠতে বা নামতে একটু অসচেতন হলেই ঘটবে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। নেই মোটরসাইকেল নৌকায় উঠানোর নিরাপদ পদ্ধতি। তিন চারজনে মিলে ধরে ধরে নৌকায় তুলেন একটি মোটরসাইকেল। এতে যে কোনো সময় মোটরসাইকেল নিয়ে নদীতে পড়ার শঙ্কা থাকে। সাচনা পাড়ের কেউ রাতে অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেয়ার জন্য থাকে না খেয়া। ভরসা রাখতে হয় বৈঠা দিয়ে পার হওয়া ডিঙি নৌকায়। রোগী নৌকায় তুলতে পোহাতে হয় সবচেয়ে বেশী ভোগান্তি। একটি মাত্র সেতুর অভাবে যুগ যুগ ধরে এরকম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার অন্তত ৩ লক্ষাধিক মানুষ।   


সাচনা বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই খেয়া দিয়ে চলাচল করে। খেয়াঘাট থেকে নৌকা উঠতে নামতে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি আছে। হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সব কিছু জামালগঞ্জে। হাজার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে খেয়া। দ্রুত আমাদের জন্য একটা সেতু করে দেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। 


মোটরসাইকেল চালক মো. রিখন মিয়া বলেন, আমাদের এই ঘাটে মোটরসাইকেল পারাপার করাটা খুবই ঝুঁকির। উঠানো নামানোর ব্যবস্থা নাই। জীবন হাতে নিয়ে নৌকা পার হতে হয়। এতে আমাদের অতিরিক্ত অর্থ, শ্রম এবং সময় যাচ্ছে। 


বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল্লাহ খান বলেন, আমার বাড়ি জামালগঞ্জ। প্রত্যেকদিন এই খেয়া পার হতে হয়। বৃদ্ধ মানুষ আমি, সিঁড়ি দিয়ে উঠতে নামতে অনেক কষ্ট হয়। কাউকে ধরে ধরে নামতে হয়। পা পিছলে গেলেই আর বাঁচার উপায় নাই। আমরা চাই একটা সেতু দিয়ে আমাদের চলাচল সহজ করা হোক। স্বাধীনতা এনেছি এখন এখানে একটা সেতু দেখে যেতে চাই। 


এই এলাকায় একটি সেতু খুব প্রয়োজন উল্লেখ করে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের একটা প্রজেক্ট আছে হাওর এরিয়া এলিভেটেড রোড এন্ড ফিজিকাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট। এই প্রজেক্টের আওতায় জামালগঞ্জ—সাচনার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদীর উপর একটি সেতু হবে। আমি এসে পূর্ববর্তী নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছ থেকে যতটুকু জেনেছি সেতুটির ইতোমধ্যে ডিজাইন হয়ে গেছে। ডিজাইনটি বুয়েটে বেটিংয়ের (ডিজাইনের কারিগরি দিক) জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। বুয়েট থেকে বেটিং করা হয়ে গেলে প্রকল্প পরিচালক আমাদেরকে টেন্ডার করার জন্য বলবেন। আমরা তখন টেন্ডারে যাবো। টেন্ডার হওয়ার পর পর কাজ বাস্তবায়ন শুরু হবে। 


দুই পাড়ের মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে সুরমা নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণ হলে জেলা শহরের সাথে স্থাপিত হবে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ। ঘটবে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, ভোগান্তি দূর হবে লাখ লাখ মানুষের।
 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার