তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

প্রকাশিত: ০১ আগস্ট, ২০২৩ ০৯:৪৯

গ্রামের দূরন্ত কিশোররা ঝাঁপিয়ে পড়ছে গরম নিবারনের জন্য

জেলাসহ দেশের প্রায় সব জায়গাতেই চলছে প্রচন্ড- তাপদাহ। শ্রাবণে টানা বর্ষণ থাকার কথা থাকলেও বৈচিত্র্যময়তায় ভরা বর্ষা ঋতুতে চলছে চৈত্রের খরতাপ। ঋতু চক্রের এমন বেখেয়ালিপনায় ব্যপক প্রভাব পড়েছে জনজীবনে। বর্ষণমূখর দিনে আনন্দে কদম কুড়ানো কিংবা গ্রামীণ রমণীরা ঘরের কোণে বসে নকশীকাঁথায় সুঁই-সুতোয় জীবনের আখ্যান ফুটিয়ে তুলার কথা থাকলেও প্রচন্ড- গরমে স্থবির করেছে এমন বর্ষাময়তাকে। বাংলা সনের দ্বিতীয় ঋতুকে উপভোগ করার বদলে সকলের চোখেমুখে গরমের স্পষ্ট চাপ। কবে শেষ হবে সূর্যের এমন তেজস্বী বিচরণ সেই অপেক্ষাই এখন জনসাধারণের মাঝে।
সোমবার সুনামগঞ্জের গড় তাপমাত্রা ছিলো ৩৪-৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রচন্ড- তাপ নিয়ে সূর্যদয় হয়েছিলো। সমান তাপমাত্রায় সূর্যাস্ত হয়। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তীব্র গরমে সব ধরণের পেশায় কমেছে বেচা-কেনা। বিশেষ করে চা স্টলগুলোতে বিক্রি নেমে এসেছে অর্ধেকে। রিকশা চালকেরা ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও প্রচন্ড- খরতাপে ট্রিপ নিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারছেন না। ঘেমে শরীর দূর্বল হয়ে পড়ায় অন্যান্য দিনের সমান ট্রিপ দিতে পারেন না। এতে, কমেছে তাদের আয়-উপার্জন। ভ্যান চালকেরাও রীতিমতো কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এই গরমে। তবে কোমল পানীয়ের দোকান, রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বিক্রি করা আইসক্রিম ওয়ালা, লেবুর শরবত ও আমড়া (বরিশালী আমড়া) বিক্রেতাদের বিক্রি বেড়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অবস্থাও খুব শোচনীয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে প্রচ- গরমে টিকতে পারছে না, সন্ধ্যা হলে বাড়িতেও পড়তে বসতে পারে না। দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুত না থাকায় সর্বস্তরের মানুষের জীবন রীতিমতো অতিষ্ঠ। গরম সইতে না পেরে বিভিন্ন গ্রামের দূরন্ত কিশোর-কিশোরীরা নদী, পুকুর কিংবা নিকটস্থ খাল-বিলে ঝাঁপিয়ে পড়ে গরম নিবারনের চেষ্টা চালান। এমন অতিরিক্ত গরমে শিশু, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও রোগীদের অবস্থা নাজেহাল।  সব মিলিয়ে গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা বাজারের চা বিক্রেতা বাদল চন্দ্র দাশ, ফজলু মিয়া বলেন, সাধারণত আমরা যে টাকার চা বিক্রি করি এই ক’দিনের গরমে বেচা-কেনা অর্ধেকে নেমে এসেছে। গরমের সময় অনেকেই চা পান করতে ইচ্ছুক নয়।
রিকশা চালক মুতিবুর রহমান বলেন, আমি ব্যাটারি চালিত রিকশা চালাই। তারপরও একট্রিপ দেওয়ার পর আরেক ট্রিপ দিতে ইচ্ছে করে না। ভীষণ গরম লাগে। গরম কম থাকলে ট্রিপ দিতেও ভালো লাগে।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আমিনা বেগম বলেন, স্কুলে আসলে বিদ্যুত থাকে না। প্রচুর গরম লাগে। গরমের কারণে সন্ধ্যায় পড়তেও পারিনা। 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার