প্রকাশিত: ০২ এপ্রিল, ২০২৪ ০৬:৪২
মিজান ফার্মেসীতে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ
কান্দিগাঁও কেন্দ্রিয় জামে মসজিদের মাইকে বার বার ঘোষণা হচ্ছিলো— ‘ঘুর্ণিঝড়ে যেসব লোক আহত হয়েছেন, তারা পাগলা বাজারের মিজান ফার্মেসীতে এসে চিকিৎসা নিতে পারবেন। উপজেলা সদর থেকে ডাক্তাররা এসে এখানে অস্থায়ী ক্যাম্প বসিয়েছেন।’ রাত তখন ১১ টা। ঘোষণার পর থেকে মানুষ আসতে শুরু করেন। শত শত মানুষ। ডাক্তাররা চিকিৎসা দিচ্ছেন, ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন আর মিজান ফার্মেসী থেকে বিনামূল্যে ওষুধপত্র দেওয়া হচ্ছে। সেহরীর আগে পর্যন্ত ঘুর্ণিঝড়ে আহত হওয়া রোগীদের এভাবেই চিকিৎসা সেবা দিচ্ছিলেন মিজান ফার্মেসীর স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান মিজান। তার ভাই শাহীন রহমানও কাটাছেঁড়া রোগীদের ড্রেসিং করেছেন। চিকিৎসা সেবা প্রদানের সময় গভীর রাতে দীর্ঘক্ষণ বসে থেকে এসব কাজ পরিদর্শন করেছেন শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ, শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুকান্ত সাহা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ইকবাল হাসান। শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা বাজারের মিজান ফার্মেসী তার অবস্থান থেকে মানবিকভাবে এগিয়ে এসেছে। ৩১ মার্চ রাতের প্রলয়ঙ্কারী ঘুর্ণিঝড়ের পরে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন আরও অসংখ্য মানুষ।
পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের ঘুর্ণিঝড় কবলিত সবক’টি গ্রাম ঘুরে অন্যরকম মানবিক সহায়তার দৃশ্য চোখে পড়ে। রাতের আঁধারে যখন কারো ঘরে চাল নেই, কারো আবার ঘর নেই, সেসব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন অপেক্ষাকৃত ভালো অবস্থায় থাকা মানুষগুলো। ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একঘরের মানুষ অন্য ঘরের মানুষকে উদ্ধার করেছেন। আশ্রয় দিয়েছেন নিজেদের ঘরে। যারা রান্না করতে পারেননি তাদেরকে রাতে খাবার দিয়েও সহযোগিতা করেছেন অনেকে। অপরদিকে, অনেক রাজনীতিবিদরাও দাঁড়িয়েছেন মানুষের পাশে। তাৎক্ষণিকভাবে নিজেস্ব তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা করতেও দেখা গেছে।
পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের বাসিন্দা করোনা বেগম। তার ঘরসহ সবকিছু মাটিতে মিশে গেছে। ভিটা ছাড়া আর কিছুই নেই। ঘরহীন করোনা বেগমকে আশ্রয় দিয়েছেন আল নুহাদ অটো রাইম মিলের স্বত্বাধিকারী আখলুছ আলীম। সোমবার সকালে তিনি তার পরিবারের সকল সদস্যদের সিলেটের বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছেন। খালিঘরে থাকছেন ঘরহীন করোনা বেগম। উপজেলা জয়কলস ইউনিয়নের কামরূপদলং, সদরপুর, আস্তমা, পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের কাদিপুর, ইসলামপুর, ইনাতনগর, পাগলা বাজার, রায়পুর, চন্দ্রপুর, শত্রুমর্দন, বাঘেরকোনা, নবীনগরসহ অন্যান্য গ্রামগুলোর মানবিক মানুষেরা একে অন্যের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
আখলুছ আলীম বলেন, আমাদের ঘরেরও ক্ষতি হয়েছে। চালের টিন একপাশে উঠে গেছে। তবে ভালো আছি। আমার পরিবারকে সিলেটে পাঠিয়ে দিয়েছি। আমার ঘরে অন্যজনকে থাকতে দিয়েছি৷ তাদের ঘর একদম মাটিতে মিশে গেছে। বিপদের সময় যদি মানুষের পাশে না দাঁড়াই তাহলে আর কখন দাঁড়াবো?
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন