প্রকাশিত: ০৪ এপ্রিল, ২০২৪ ০০:১১
তাহিরপুরে হাজী এমএ জাহের উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ফলাফল সীটে স্বাক্ষর দেয়ার জন্য জোরপূর্বক চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে শফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। বুধবার দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন তাহিরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। তবে ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, এই অভিযোগ সত্য নয়। উল্টো তিনি ওই কর্মকর্তাকে দুর্নীতিবাজ আখ্যায়িত করে বলেন, এই কর্মকর্তা সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের কথা বলে এক প্রার্থীর কাছ থেকে চার লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। এটি জায়েজ করার জন্য এখন নানা টালবাহনা করছেন।
তাহিরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান এ প্রতিবেদককে জানান, অফিসিয়াল একটি কাজে তিনি বুধবার সুনামগঞ্জ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে একটি কক্ষে বসা ছিলেন। এ সময় এমএ জাহের উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি রুহুল আমিন দারু মিয়াকে উদ্দেশ্য করে ব্যবাসীয় শফিকুল ইসলাম বলেন শিক্ষক নিয়োগের সময় গলায় পাড়া দিয়ে কেন স্বাক্ষর নিলেন না। এখন স্বাক্ষরের জন্য দৌড়েন। এক পর্যায়ে তাকে (মিজানুর রহমানকে) ফলাফল সীটে স্বাক্ষর দিতে জোরপূর্বক চাপ সৃষ্টি করেন। পরে হাসপাতালে যাবেন বলে কৌশলে তিনি (মিজানুর রহমান) অফিস থেকে চলে যান।
শফিকুল ইসলাম উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের সাদেরখলা গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন দারু মিয়ার আপন ছোট ভাই। শফিকুল ইসলাম সুনামগঞ্জ শহরে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে শফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বাক্ষরের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে চাপ দিয়েছি কথাটি সত্য নয়। কথা বলার সময় জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করলেই এর সত্যাসত্য জানা যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জানা যায়, গত ২২ নভেম্বর তারিখে হাজী এমএ জাহের উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে বিদ্যালয়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা অনিয়ম হওয়ায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফলাফল সিটে স্বাক্ষর করেন নি। পরে তাকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে আটকে রেখে বিক্ষোভ করছিল একদল যুবক। এরপর ইউএনও’র সহযোগিতায় সেখান থেকে ছাড়া পান তাহিরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান। এ ঘটনাটি বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে তৎকালীন ইউএনও’র মৌখিক নির্দেশে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদটির নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখে পরিচালনা কমিটি। ১৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার সকালে এমএ জাহের উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে ইবাদ আলী যোগদান করায় বিষয়টি জানাজানি হয়। নিয়োগ কমিটির সদস্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষর ছাড়া কিভাবে পরিচালনা কমিটি নিয়োগ দিলো এ নিয়ে এলাকাতে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হয়।
হাজী এমএ জাহের উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রহুল আমিন দারু মিয়া বলেন, নিয়োগ কমিটির ৫ সদস্যের ৪ জনেই স্বাক্ষর করেছেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কেন স্বাক্ষর করলেন না, তা আমার জানা নেই।
নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের বিষয়ে এম এ জাহের উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আক্তারুজ্জান খানের লিখিত অভিযোগ সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবরে দাখিল করা হলে, অভিযোগটি তদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গত ১ মার্চ বিদ্যালয়ে এসে সরজমিন তদন্ত করেন।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত সময়ের মধ্যেই জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জমা দেয়া হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন