জমে উঠেছে ঈদ বাজার

প্রকাশিত: ০৬ এপ্রিল, ২০২৪ ০০:৫৯

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে পৌর শহরের মার্কেটগুলোতে জমে উঠেছে কেনাকাটা। তীব্র গরম উপেক্ষা করে ক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে শহরের বিপনি বিতান। পরিবারের সবাইকে নতুন সাজে সাজাতে, ঈদের আনন্দকে ভাগাভাগি করে নিতে কাপড়ের দোকান, জুতা, প্রসাধনীর দোকান এবং বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দোকান ও ইফতারি দোকানগুলোতেও এখন ব্যস্ত সবাই কেনাকাটায়। ক্রেতাদের নজর কাড়তে নতুন ডিজাইনের নানা পণ্যের পসরা সাজিয়েছেন বিক্রেতারাও। তবে গত বছরের তুলনায় এবার পোশাকের দাম বেশি বলে দাবি করছেন ক্রেতারা।


ছেলেদের পোশাকের ক্ষেত্রে পাঞ্জাবির পাশাপশি গুরুত্ব পেয়েছে দেশী বিদেশী শার্ট—প্যান্ট। এবার, আলেয়া, সায়েরা, গারারা, পদ্মা, আলিপ লাইলা, আগানুর, মারিয়াবি, ছাদা বাহার, জামাল কুদু থ্রি—পিসসহ বাহারি নামের পোশাকের দিকে আগ্রহ তরুণীদের। শহরের শাড়ির দোকানগুলোতেও ভিড় দেখা গেছে। পোশাক কেনার পাশাপাশি অনেকেই কিনছেন পছন্দের গহনা ও প্রসাধনী। ছোটদের কেনাকাটায়ও পিছিয়ে নেই অভিভাবকরা। ঈদ উপলক্ষে আতর, টুপি ও জায়নামাজের সঙ্গে স্মার্টফোন কেনার চাহিদাও লক্ষ্য করার মতো।


বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার এই দুই দিন পৌর শহরের মধ্যবাজার এলাকায় এহসান মার্কেট, গণি মার্কেট, স্টিমারঘাটের পৌর সুপার মার্কেট এবং দোজা মার্কেট, নেজা মার্কেট সহ বেশকয়েকটি মার্কেট ঘুরে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়।


পৌর সুপার মার্কেটে সদর উপজেলার জগাইরগাঁও থেকে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা ফাতেহা বেগম  বলেন, আমার চার ছেলে—মেয়ের জন্যই ড্রেস কিনেছি। দামের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি হাসি—হাসি মুখে বলেন, দামটা বেশিই। বেশি হলে কি হয়েছে, বাচ্চাদের জন্য তো নতুন জামা—কাপড় কিনতে হবে। নিজের পছন্দমতো কিনেছি।
একই গ্রামের নারগিস আক্তারের দুই ছেলে এবং এক মেয়ের জন্য কিনেছেন পছন্দের পোষাক। জানতে চাইলে তিনি বলেন, দামটা গত বছরের চেয়ে এই বছর বেশি। আমি তিন ছেলে—মেয়ের পোষাক কিনেছি।


মধ্যবাজারে এহসান মার্কেটে এসেছেন রিকশা চালক কবির হোসেন। তিনি বলেন, আমি উপজেলার কৃষ্ণনগর থেকে এসেছি। সাথে আমার ভাগনি আছে, তার জন্যই থ্রি পিস কিনেছি। অনেক দোকানে গিয়েছি। দামও বেশি, পছন্দও হয় না। এহসান মার্কেটে এসে পছন্দমতো থ্রি পিস পেয়েছি, ভাগনিরও পছন্দ হয়েছে। 


মল্লিকপুর থেকে আসা ক্রেতা মাহদি বলেন, শার্ট, প্যান্ট এবং জুতা কিনেছি। এগুলো কিনতেই ৪৩শ’ টাকা লেগেছে। 


পৌর সুপার মার্কেটের সেলিম গার্মেন্টস’র প্রো. কাউসার আহমেদ বলেন, আজকে বিক্রি ভালোই হয়েছে। আরও এক সপ্তাহ সামনে রয়েছে। আশা করি সন্তোষজনক বিক্রি হবে। তিনি বলেন, নতুনের মধ্যে আলেয়া’র চাহিদা বেশি। এছাড়াও নায়েরা, সারারা, গারারা সহ বাচ্চাদের শার্ট—প্যান্ট এবং টি—শার্টের চাহিদা বেশি। 


দামের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আলেয়া, সায়েরা, গারারা, পদ্মা, আলিফলাইলা সহ তরুণীদের আকর্ষণীয় ড্রেস ২,৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করছি।


এহসান মার্কেটে নিউ কাকলি গার্মেন্টস’র প্রো. রতন দাস বলেন, এই ঈদে বেচাকেনা ভালোই হচ্ছে। সামনে  দিনগুলোতে আশাকরি ভালোই বিক্রি হবে। তিনি বলেন, এই বছর খুব একটা দাম বাড়েনি। দামটা নিয়ন্ত্রণে আছে। 


জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আল আমিন বলেন, বেশ কয়েকদিন কাপড়ের মার্কেটে অভিযান করেছি। কেউ কেউ বেশি দাম লিখেছে। তবে ব্যবসায়ীরা জানায় বেশি দাম নেন না। কোন ক্রেতা যদি অতিরিক্ত দাম দিয়ে কাপড় কিনেন এবং ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অফিসে অভিযোগ করলে, নিশ্চয়ই আমরা তদারকি করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিব।


 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার