ইউএনও শূন্য মধ্যনগর

প্রকাশিত: ১৪ জুলাই, ২০২৬ ২২:০৪

মধ্যনগর উপজেলায় টানা চার মাস ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) না থাকায় চার ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষকে সরকারি সেবা পেতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। গেল ১৫ মার্চ তৎকালীন ইউএনও উজ্জ্বল রায়ের বদলির পর থেকে পার্শ্ববর্তী ধর্মপাশা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সঞ্জয় ঘোষ অতিরিক্ত দায়িত্বে মধ্যনগরের ইউএনও হিসেবে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

 


২০২১ সালে উপজেলা হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও মধ্যনগরে এখনো পৃথক সহকারী কমিশনার (ভূমি)’এর কার্যালয় গড়ে উঠেনি। ফলে ভূমি—সংক্রান্ত সব সেবা নিতে হয় ধর্মপাশা থেকে। একই কর্মকর্তা ধর্মপাশার এসিল্যান্ড এবং মধ্যনগরের ভারপ্রাপ্ত ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় দুই উপজেলার প্রশাসনিক কাজ একসঙ্গে সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা, ফাইল নিষ্পত্তি, শুনানি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
শুধু ইউএনও নয়, মধ্যনগরে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদেও স্থায়ী কর্মকর্তা নেই। তবে দীর্ঘদিন ধরে ইউএনও পদ শূন্য থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ নাগরিক, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সেবাপ্রত্যাশীরা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গত ১৫ মার্চ ইউএনও উজ্জ্বল রায়ের বদলির পর এখন পর্যন্ত নতুন কোনো ইউএনও পদায়ন করা হয় নি। এরপর থেকেই ধর্মপাশা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সঞ্জয় ঘোষ অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। ধর্মপাশা উপজেলার এসিল্যান্ডের দায়িত্বের পাশাপাশি মধ্যনগরের প্রশাসনিক কার্যক্রমও দেখভাল করায় প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত সময় দিতে পারছেন না বলে দাবি স্থানীয়দের। একারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম, ফাইল নিষ্পত্তি ও জনসেবা কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে।

 


স্থানীয়দের অভিযোগ, নাগরিক সনদ, বিভিন্ন ধরনের প্রত্যয়নপত্র, উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন, আইনশৃঙ্খলা—সংক্রান্ত সভা, সরকারি কর্মসূচির তদারকি, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং ভূমি—সংক্রান্ত সমন্বয়সহ নানা কাজে স্বাভাবিক গতি নেই। অনেক সেবাপ্রার্থীকেই একাধিকবার উপজেলা পরিষদে এসে খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে।
চাপাইতি গ্রামের বাসিন্দা মানোয়ার হোসেন বলেন, মধ্যনগর একটি হাওরবেষ্টিত উপজেলা। বিভিন্ন গ্রাম থেকে উপজেলা সদরে আসতে—যেতেই প্রায় পুরো দিন লেগে যায়। কিন্তু ইউএনও না থাকায় অনেক সময় প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়েই ফিরে যেতে হয়। এতে সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় হচ্ছে।

 


মধ্যনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ মান্নান বলেন, সরকারি সহায়তা, কৃষি—সংক্রান্ত বিষয় কিংবা জরুরি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের জন্য প্রায়ই ইউএনওর প্রয়োজন হয়। কিন্তু অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকায় তাঁকে অনেক সময় পাওয়া যায় না। সেজন্য দূর—দূরান্ত থেকে আসা সেবাপ্রত্যাশীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।

 


শিক্ষক আমিনুল হক বলেন, উপজেলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দীর্ঘদিন না থাকলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি কমে যায়। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং জনসেবামূলক কার্যক্রমও ব্যাহত হয়।
চামরদানী ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মোছা. চম্পা আক্তার বলেন, উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে ইউএনও না থাকায় বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে আমাদের নানাভাবে সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় বিষয়ে দ্রুত কোনো সমাধান পাওয়া যায় না। একজন পূর্ণকালীন ইউএনও দায়িত্বে থাকলে সাধারণ মানুষকে এ ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হতো না। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি শূন্য থাকায় কাঙ্ক্ষিত জনসেবা নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, মধ্যনগরে নতুন ইউএনও পদায়নের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সিলেট বিভাগে নতুন কর্মকর্তা যোগদান করলেই মধ্যনগরে ইউএনও দেওয়া হবে বলে বিভাগীয় কমিশনার আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। আশাকরছি, খুব শিগগিরই সেখানে একজন নিয়মিত ইউএনও পদায়ন করা হবে।

 


সিলেট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান বলেন, মধ্যনগরে ইউএনও পদায়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশাকরছি, খুব শিগগিরই নতুন ইউএনও পদায়ন করা সম্ভব হবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার