কৌশলী প্রচারণায় চেয়ারম্যান প্রার্থীরা

প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:২০

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, চলতি অর্থ বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদসহ সব স্থানীয় নির্বাচন সম্পন্ন করতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। গত শুক্রবার সকালে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন তিনি। মূলত মন্ত্রীর এই ঘোষণার পর থেকে স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে নতুন রূপরেখা পেয়েছেন দেশবাসী। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যেই হতে পারে দেশের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ তৃণমূল পর্যায়ের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্নভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রার্থীরা। শান্তিগঞ্জ উপজেলার আট ইউনিয়নে অর্ধশতাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থী ইতোমধ্যে নিজেদের প্রার্থীতার কথা জানান দিয়েছেন। কেউ কেউ নতুন করে জানান দিয়ে আসছেন আলোচনায়।

 


প্রার্থীতার কথা ঘোষণা করে অনেক প্রার্থীই নেমেছেন প্রচারণায়। তবে সরাসরি প্রচারণায় খুব কম প্রার্থীকে দেখা যাচ্ছে। বেশিরভাগ প্রার্থীই প্রচারণার ক্ষেত্রে কৌশল অবলম্বন করছেন। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের প্রার্থীতার কথা জানান দিয়ে পোস্টার পোস্ট করছেন, কেউ করছেন মতবিনিময়, উঠান বৈঠক কিংবা গণসংযোগ। অনেকে কৌশলী হয়ে এখনো পর্যবেক্ষণ করছেন নির্বাচনী মাঠ। গোষ্ঠী কিংবা গ্রামবাসীকে নিয়ে আলোচনা পর্যায়ে আছেন অনেকে। কৌশলী প্রার্থীরা ভোটের কথা না বললেও ইউনিয়নের ভোটারদের বাড়িতে দাওয়াত খাওয়া, বিবাহ অনুষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিতি, বিচার—সালিশে নিজেকে জড়ানো সহ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকছেন। আকিকা, সুন্নতে খৎনাসহ  ছোটখাটো অনুষ্ঠানেও অংশ নিচ্ছেন তারা। গোপনে বা প্রকাশ্যে বিয়ে, চিকিৎসা বা অন্য যেকোনো অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে আর্থিক সহযোগিতাও করছেন কেউ কেউ। উদ্দেশ্য একটাই, সামনে নির্বাচন।

 


একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি পন্থী প্রার্থীরা এসব কৌশল ছাড়াও স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদের আশির্বাদপুষ্ট হতে তোড়জোড় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় সংসদ সদস্যের বিশেষ ‘ইঙ্গিত’ নেওয়ার জোড়ালো চেষ্টায় আছেন দলের নেতারা। যদিও সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ এমন দাবিকে একেবারেই উড়িয়ে দিয়েছেন। 
কয়ছর আহমদ বলেন, ইউনিয়ন নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। দলী সমর্থনের বিষয়টি যদি আসে তাহলে আপনারা (গণমাধ্যম) জানতে পারবেন। আর আমার ব্যক্তিগত ইঙ্গিত বা সমর্থন বলতে কিছু নেই। বাকীটা তো আপনারা বুঝেনই।

 


উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিনুর রশিদ আমিন বলেন, আমি মানুষের পাশে আগেও ছিলাম, এখনো আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো। সকলের সাথেই আছি। মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছি। আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সব সময় জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করি। সিদ্ধান্ত নিবে জনগণ। 
পূর্ব পাগলা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকায় রয়েছে আক্কাছ খানের নাম। তিনি বলেন, আমি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো মাঠে নামিনি। তবে বরাবরের মতো মানুষের সুখে দুঃখে পাশে আছি। বিয়েশাদি, বিচার—আচারে যাচ্ছি। ভালো কিছুর প্রত্যাশা করছি।

 


দরগাপাশা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান সুফি মিয়া। তিনি বলেন, আমি সেই অর্থে এখনো কাজ শুরু করিনি। পরিষদের কাজই আমার কাজ। মানুষের সংস্পর্শে সব সময় থাকছি। মানুষ ও পরিষদের উন্নয়নে কাজ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। এটিই আমার প্রচারণা। 

 

 


একই ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান প্রার্থী, পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম—আহ্বায়ক রওশন খান সাগর। তিনি বলেন, আমি নির্বাচন বিষয়ে এখনই কিছু বলতে চাইছি না। বুঝেশুনে তারপর নির্বাচন বিষয়ে জানাবো। তবে, ইউনিয়নের ভোটাররা বলছেন, যতজন প্রার্থীর নাম এই ইউনিয়নে আলোচনায় তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন রওশন খান সাগর। 
পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জগলুল হায়দার ও সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হকও কৌশলে নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন নির্বাচনকে সামনে রেখে। বিচার সালিশে সময় দিচ্ছেন তাঁরাও। 
জয়কলস ইউনিয়নে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন শান্তিগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম—আহ্বায়ক জিলানী মিয়া। তিনি জানান, নির্বাচন নিয়ে এখনো প্রচারণা শুরু করিনি। কয়েকদিনের মধ্যে আমার গোষ্ঠী ও গ্রামের মুরব্বিদের নিয়ে বসে সিদ্ধান্ত নেবো।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার