সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে দ্বিগুণ

প্রকাশিত: ২৮ জুলাই, ২০২৬ ২৩:৪৪

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের কাঁচাবাজারে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে প্রতি কেজি ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায় পৌঁছেছে। গত সপ্তাহেও একই কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে। শুধু কাঁচা মরিচই নয়, কাঁকরোল, বরবটি, করলা ও মূলাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির দামও উর্ধ্বমুখী। আকাশছোঁয়া এই দামের কারণে বাজারে এসে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ।


মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ পৌর শহরের জেল রোড এলাকার পাইকারি ও খুচরা সবজির বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের মূল্যের এমন চড়া চিত্র দেখা গেছে। বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতাদের অনেকেই অন্যান্য প্রয়োজনীয় সবজি কিনলেও কাঁচা মরিচের অস্বাভাবিক দাম শুনে তা না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।

 


শহরের ওয়েজখালী এলাকার দিনমজুর হারিছ মিয়া বাজারে এসেছিলেন নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজি কিনতে। কিন্তু হাতে তার কেবল এক ব্যাগ আলু। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এক কেজি আলু ২৫ টাকায় কিনেছি। কাঁচা মরিচ কিনতে গিয়ে দেখি ১০০ গ্রামের দাম ৪০ টাকা। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পক্ষে এই দামে মরিচ কেনা কীভাবে সম্ভব? কথাগুলো বলেই তিনি কাঁচা মরিচ না কিনে ক্ষোভ নিয়ে বাজার ত্যাগ করেন।

 


হারিছ মিয়ার মতো বাজারে আসা অনেক ক্রেতাই এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বাজারে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা, প্রতিটি দোকানে দৃশ্যমান স্থানে মূল্য তালিকা টাঙিয়ে রাখা এবং তা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সচেতন ক্রেতারা।

 


জেল রোড এলাকার খুচরা সবজি বিক্রেতা শংকর বনিক বলেন, আজকে পাইকারি বাজারেই প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩০০ টাকায় কিনতে হয়েছে, যা বিক্রি করতে হচ্ছে ৩২০ টাকা করে। এর মধ্যে আবার অনেক মরিচ পচা বের হয়, যা ফেলে দিতে হয়। তবে দোকানে সবজির সাথে কাঁচা মরিচ না রাখলে ক্রেতা পাওয়া যায় না, তাই বাধ্য হয়ে অল্প পরিমানে কিনে রাখছি।
জগন্নাথ বাড়ি রোড এলাকার খুচরা বিক্রেতা ভজন জানান, ক্রেতা ধরে রাখতেই তিনিও ৩২০ টাকা কেজিতে কাঁচা মরিচ কিনে খুচরা বিক্রির চেষ্টা করছেন।


পাইকারি সবজি বিক্রেতা প্রসেনজিৎ দে বলেন, যেসব জেলা থেকে সুনামগঞ্জে সবজি আসে, বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে সেসব এলাকায় মরিচসহ বিভিন্ন সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। ফলে বাজারে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ আসছে না। দাম বেশি হওয়ায় এখন আমাদের বিক্রিও কমে গেছে, আমরাও ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

 


বাজারের এমন পরিস্থিতি নিয়ে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আমিরুল ইসলাম মাসুদ জানান, বর্ষা মৌসুমে সবজির দাম কিছুটা বাড়া স্বাভাবিক। সুনামগঞ্জ নিচু এলাকা হওয়ায় এ সময়ে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সবজি খুব কম পাওয়া যায়, এতে সরবরাহ কম থাকে— সেজন্য দাম নিয়ন্ত্রণ করা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং।

 


তিনি আরও বলেন, তারপরও বাজারে সবজির দাম যৌক্তিক ও সহনীয় রাখতে নিয়মিত তদারকি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি দোকানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন এবং ক্রয়—বিক্রয়ের পাকা রশিদ সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেউ যদি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বা কারসাজির মাধ্যমে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার