দ্রুত পরিস্কারের আশ্বাস

প্রকাশিত: ২৮ জুলাই, ২০২৬ ২৩:৪৬

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের কালীবাড়ি এলাকায় সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের পেছনে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কামারখাল দীর্ঘদিন ধরে ময়লা—আবর্জনায় ভরে থাকায় শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। খালের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘদিনের বর্জ্য জমে পানি চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে খালের পাড় যত্রতত্র মূত্রত্যাগের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে তীব্র দুর্গন্ধ। এতে পুরো এলাকা জুড়ে এক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে এবং মশা—মাছির উপদ্রব মারাত্মকভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। 


এ অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুর ১টায় সরেজমিনে কামারখাল পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক ও পৌরসভার প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরিদর্শনকালে তারা খালের বর্তমান চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন এবং দ্রুত পরিষ্কার—পরিচ্ছন্নতা ফিরিয়ে এনে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন।

 


সরেজমিনে দেখা যায়, কামারখালের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ময়লা—আবর্জনা জমে রয়েছে। কোথাও কোথাও পানিপ্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। খালের পাশে ময়লা—আবর্জনা পড়ে থাকায় ও পথচারীদের মূত্রত্যাগে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে মশা—মাছির উপদ্রবও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 


পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, আমরা প্রতিদিনই এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করি। এখানে আমাদের ঐতিহ্যবাহী একটি পুরোনো খাল রয়েছে, অথচ মানুষ যথেচ্ছভাবে এখানে ময়লা ফেলছে। এতে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে, এটি রোগ—জীবাণুর একটি প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, খালটি পরিষ্কার ও সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনার জন্য একটি বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করে দ্রুত কাজ শুরু করতে পৌরসভার প্রশাসককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পৌরসভার প্রশাসক অসীম চন্দ্র বণিক বলেন, প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে এই অংশ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের সমস্যা দেখা দেয়। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে আমরা এক্সকাভেটর দিয়ে কাজ করে পানি যাতে ঠিকমতো চলাচল করতে পারে, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি।

 


তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী যেসব এলাকায় মশার উপদ্রব বাড়ছে, সেসব স্থানে পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাদের কাছে মনে হয়েছে, এই জায়গায় এখন কাজ করার সময় এসেছে। পৌরসভার বর্তমান সামর্থ্য অনুযায়ী এই কাজ করার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে।
জেলা প্রশাসকের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত কামারখাল পরিষ্কার ও ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে পৌরসভার প্রশাসক বলেন, পৌরসভার স্টোর বিভাগ ও প্রকৌশলীকে নিয়ে আমরা এখানে এসেছি। এটি একটি জরুরি কাজ। আমরা দ্রুত একটি বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে কাজটি বাস্তবায়ন করব। এক সপ্তাহের মধ্যে এখানে দৃশ্যমান কাজ দেখতে পাবেন। কাজ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা এটি চালিয়ে যাব।

 


এটি লোক দেখানো কোনো উদ্যোগ হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পৌরসভা প্রচারণায় বিশ্বাসী নয়, কাজে বিশ্বাসী। বিভিন্ন বিষয়ে নাগরিকরা আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় সবকিছু করা সম্ভব হয় না। তবে এই খালের ব্যবস্থাপনার কাজ করার মতো সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। তাই খুব দ্রুতই এর অগ্রগতি দেখতে পাবেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক কর্মী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পৌর নাগরিকদের সমস্যাগুলো আমরা ইতোমধ্যে লিখিত ও মৌখিকভাবে প্রশাসনকে জানিয়েছি। জেলা ও পৌর প্রশাসনের এই সাম্প্রতিক উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই।


তিনি আরও উল্লেখ করেন, সুনামগঞ্জে একসময় পাঁচটি খাল ছিল, যার অনেকগুলোই এখন দখলের কবলে। এসব খাল উদ্ধার ও নিয়মিত পরিষ্কারের পাশাপাশি পানির প্রবাহ নিশ্চিত করতে ওয়াকওয়ে নির্মাণের দাবি জানান তিনি। এছাড়াও পৌরসভার ড্রেন পরিষ্কার, নিয়মিত ডাস্টবিন খালি করা, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, যানজট নিরসন ও ল্যাম্পপোস্টের বাতি সচল রাখার মতো নাগরিক সমস্যাগুলো সমাধানের আহ্বান জানান।


পরিদর্শনকালে অন্যদের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান এবং পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম কয়েস উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার