প্রকাশিত: ২৮ জুলাই, ২০২৬ ২৩:৪৮
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল—হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাকির হুসাইন। একই প্রজ্ঞাপনে সুবিপ্রবি’র উপাচার্য শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নিজাম উদ্দিন কে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে তাঁর মূল পদে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে পৃথক দুইটি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে সহকারী সচিব মো. শাহ আলম সিরাজ প্রজ্ঞাপন দুইটিতে স্বাক্ষর করেন।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০—এর ১০ (১) ধারা অনুযায়ী কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল—হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাকির হুসাইনকে আগামী ৪ বছরের জন্য সুবিপ্রবি’র উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হলো। তিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রযোগের তারিখ থেকে ৪ বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখ পর্যন্ত (যা পূর্বে ঘটে) এ পদে দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি তাঁর মূল পদের সমপরিমাণ বেতন—ভাতাদি প্রাপ্য হবেন এবং বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুযোগ—সুবিধা ভোগ করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তিনি সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। তবে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজন মনে করলে যে কোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।
অপর এক প্রজ্ঞাপনে পূর্ববর্তী উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নিজাম উদ্দিনকে তাঁর মূল পদ শাবিপ্রবি’র রসায়ন বিভাগে ফিরে যাওয়ার সুবিধার্থে উপাচার্য পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
সুবিপ্রবি’র নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাকির হুসাইনের জন্ম পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলায়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগ থেকে ১৯৮৫ সালে বিএ (অনার্স)—এ ১ম শ্রেণীতে ১ম স্থান অর্জন করে স্বর্ণপদক লাভ করেন এবং ১৯৮৬ সালে ১ম শ্রেণীতে ৩য় স্থান পেয়ে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। শিক্ষাকতা জীবনে তিনি ১৯৯২ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক পদে যোগ দেন এবং ২০১৭ সালে গ্রেড—১ অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বিভাগের চেয়ারম্যান, জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্টসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও গবেষণামূলক পদে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর ২২টিরও বেশি গবেষণামূলক প্রবন্ধ ও একাধিক বই প্রকাশিত হয়েছে। তিনি শিক্ষা, গবেষণা ও একাডেমিক প্রশাসনে দীর্ঘকাল ধরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। দীর্ঘ শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে তিনি আল—হাদিস, ইসলামিক সংস্কৃতি এবং সমসাময়িক আর্থ—সামাজিক বিষয়ের ওপর উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন।
১৯৯২ সালের ২৫ মে লেকচারার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করার পর তিনি ১৯৯৪ সালে সহকারী অধ্যাপক, ২০০২ সালে সহযোগী অধ্যাপক এবং ২০০৭ সালে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। তিনি ২০০৭ সাল থেকে প্রফেসর গ্রেড—১ পদে কর্মরত রয়েছেন।
বিভাগীয় চেয়ারম্যানের (১৯৯৬—১৯৯৯) দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ড. মো. জাকির হুসাইন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট (২০০৭—২০০৯) এবং সাদ্দাম হোসেন হলের হাউস টিউটরের দায়িত্ব সামলেছেন। এছাড়াও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল, অ্যাডভান্স স্টাডিজ বোর্ড, ভর্তি কমিটি এবং নিয়োগ বোর্ডের সদস্য হিসেবে দীর্ঘ সময় অবদান রেখেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাদ্রাসা বোর্ডের পরীক্ষক ও সিলেবাস কমিটির সদস্য হিসেবেও তাঁর বিশেষ ভূমিকা ছিল।
একাডেমিক কর্মকাণ্ডের বাইরে তিনি রাজনৈতিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে যুক্ত। তিনি পাবনা জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি এবং জিয়া পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র পরিচালিত ‘আঞ্জুমানে ফারসি’ এর উপদেষ্টা হিসেবে সংস্কৃতি বিনিময়ে কাজ করেছেন। পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলার হারিয়া গ্রামে ১৯৬৩ সালের ১ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন ড. মো. জাকির হুসাইন।
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি) এর নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাকির হুসাইন বললেন, আমি বুধবার—ই সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে এসে অফিস করবো।
এদিকে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সুবিপ্রবি) নতুন ভিসির সঙ্গে প্রো—ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ পদে নিয়োগ পেয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার।
সোমবার (২৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
উভয় নিয়োগের শর্তাবলিতে উল্লেখ করা হয়, ‘তার নিয়োগের মেয়াদ যোগদানের তারিখ হতে ৪ (চার) বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখ যেটি পূর্বে ঘটে, সেই সময় পর্যন্ত বহাল থাকবে। তিনি তার মূল পদের সমপরিমাণ বেতন—ভাতাদি প্রাপ্য হবেন। তিনি বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন এবং সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন।বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি ও আইন দ্বারা নির্ধারিত এবং উপাচার্য কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজনে যে কোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।’
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে দুটি প্রজ্ঞাপনেই স্বাক্ষর করেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. শাহ্ আলম সিরাজ। জনস্বার্থে অবিলম্বে এ আদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন