শহরে ক্রমিক চুরির ঘটনায় জড়িত শাহিন গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ২৯ জুলাই, ২০২৬ ২৩:৫২

সিসিটিভি ফুটেজে উন্মোচিত শনাক্ত অপরাধচক্র

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বিভিন্ন সরকারি—বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক এলাকায় একের পর এক দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় জড়িত চোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ এবং স্থানীয়দের সহায়তায় ধারাবাহিক চুরির মূলহোতা শাহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

 


গেল জুন মাস থেকে সুনামগঞ্জ পৌর শহরজুড়ে চোর চক্রের তাণ্ডব শুরু হয়। সুনামগঞ্জ সদর থানার নিকটবর্তী জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, কালেক্টরেট এলাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবনের ছয়তলাসহ বিভিন্ন স্থানে পর পর পাঁচ দফায় চুরির ঘটনা ঘটে। এছাড়া জগৎজ্যোতি পাঠাগার সংলগ্ন মার্কেট, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, হকার্স মার্কেট এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে চুরির খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

 


একের পর এক চুরির ঘটনায় পুলিশ আশপাশের দোকানপাট এবং জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সরকারি বাংলোর বাইরের সিসিটিভি ক্যামেরা থেকে অস্পষ্ট কিছু ফুটেজ সংগ্রহ করে। দীর্ঘদিন তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর স্থানীয় জনগণের সহায়তায় মূল চোর শাহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 


তদন্তে দেখা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত শাহিনের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে ৮টি মামলা ও ২টি জিডি রয়েছে। অর্থাৎ তাকে অন্তত ১০ বার বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল। বিভিন্ন মেয়াদে সাজা খেটে বের হয়ে সে পুনরায় চুরির চক্র গড়ে তোলে। অনুসন্ধান চালিয়ে জানা গেছে, শাহিনের সঙ্গে তার আপন আরও দুই ভাই সরাসরি চুরির সিন্ডিকেটে জড়িত এবং তারা তিন ভাই মিলে পৌর শহরজুড়ে চুরি চালিয়ে আসছিল। তাদের বাড়ি শহরের বড়পাড়া এলাকায়।

 


এর আগে শহরের কালীবাড়ি স্বর্ণা জুয়েলার্সে দুর্ধর্ষ চুরির চেষ্টার সময় পুলিশ বিল্লাল নামের এক চোরকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে সে নরসিংদীর রায়পুরার বাসিন্দা দাবি করলেও রায়পুরা থানার মাধ্যমে জানা যায় তার তথ্য ভুয়া। পরে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে পড়লে দেশের নানা জেলা থেকে খবর আসে— রুবেল, মুকাররম হোসেন, মুনু মিয়া ও মনির হুসেনসহ নানা ভুয়া নাম ব্যবহার করে সে দেশের বিভিন্ন স্থানে চুরির ঘটনায় জেল খেটে জামিনে বের হয়ে আত্মগোপন করত।

 


সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি রতন সেখ বলেন, শহরে চুরি হলেই ঢালাওভাবে বলা হয় পুলিশ কাজ করে না বা পুলিশ ডিউটি করে না। অথচ প্রতিটি ঘটনার রহস্য উন্মোচন করে মূল আসামিদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অফিসাররা আজ আছেন, কাল বদলি হয়ে চলে যাবেন। কিন্তু সুনামগঞ্জ শহরটি এখানকার নাগরিকদের। একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বড় বড় অপরাধের রহস্য উন্মোচন করে দেয়। তাই শহরকে নিরাপদ রাখতে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা জরুরি। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের প্রক্রিয়া চলছে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার