এক শিক্ষকে ৫ শ্রেণি

প্রকাশিত: ৩০ জুলাই, ২০২৬ ০০:০১

দুই বছর ধরে এক শিক্ষক দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চলছে তাহিরপুর উপজেলার দুর্লভপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। দুর্লভপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থান উপজেলার  শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের কইনার হাওর পাড়ে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে পরিদর্শনে যেতে হলে দুর্গম হাওরের বিশাল ঢেউ আর জলরাশি পাড়ি দিয়ে যেতে হয় দুর্লভপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। 

 


স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গম হাওরে বিদ্যালয়টির অবস্থান হওয়ার কারণে উপজেলা থেকে শিক্ষা কর্মকর্তারা  বর্ষাকালে কখনো পরিদর্শনে আসতে তারা দেখতে পান না। বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ১০৯ জন। একমাত্র সহকারি শিক্ষক আব্দুল হান্নান তিনিই বিদ্যালয়ের তালা খোলা, তালবদ্ধ করা, জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও নামানো, উপজেলাতে মাসিক সমন্বয় সভাতে উপস্থিত থাকেন।

 


তাহিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি অজয় কুমার দে বলেন, তাহিরপুর উপজেলায় ৭টি ইউনিয়নে ৭টি ক্লাস্টার থাকা প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে রয়েছে মাত্র ৫টি ক্লাস্টার। প্রতিটি ক্লাস্টারে একজন করে উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র একজন। যাতায়াতে দুর্গম উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে রয়েছে যা অন্যতম বাধা। এভাবেই চলছে দীর্ঘ কয়েক যুগ।
দুর্লভপুর গ্রামের বিশিষ্ট সমাজসেবক ফারুক মিয়া বলেন, আমরা দেখতে পাই টাঙ্গুয়ার হাওরপাড় উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই অনেক উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শনে আসেন। তাদের বিদ্যালয়ের অবস্থান দুর্গম হাওর এলাকাতে হওয়ার কারণে বিদ্যালয় ভিজিটের তালিকাতে কখনো দুর্লভপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে রাখা হয় না। যে কারণেই বিদ্যালয়ের এই করুন অবস্থা। তিনি আরও জানান, উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে আসলে সমস্যা দেখে তারা অবশ্যই সমাধান করে দিতেন।

 


বিদ্যালয়ের ছাত্র অভিভাবক শফিক মিয়া বলেন, বিদ্যালয়টিতে বর্ষাকালে ছাত্রছাত্রীরা একটি বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকির মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করতে হয়। ২২ ফুট দৈর্ঘে্যর এ সাঁকোর স্থানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি একটি ফুট ব্রিজ অথবা স্টিল ব্রিজ নির্মাণ করে দিলে ছাত্রছাত্রীরা নিরাপদে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করতে পারতো।

 


একমাত্র সহকারি শিক্ষক আব্দুল হান্নান বলেন, আমার বাড়ি দুর্লভপুর গ্রামে হওয়ার কারণে অনেক ত্যাগ শিকার করেই  বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। বিদ্যালয়ের অন্যান্য যাবতীয় কার্যাদি ছাড়াও বেতন উঠানো ও মাসিক সমন্বয় সভাতে উপজেলাতে যেতে হয়। যে কারণে তিনি বাধ্য হয়েই নিজ বেতনের টাকা থেকে একজন প্যারা শিক্ষক (খন্ডকালীন) রেখেছেন। ওই প্যারা শিক্ষককে তিনি প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা পরিশোধ করে থাকেন। তিনি আরও বলেন, আমার চাকুরি ২০২৫ সালের ২৫ মে থেকে শুরু। তখন থেকেই তিনি এ বিদ্যালয়ে একাই পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।

 


উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাজন কুমার সাহা বলেন, তাহিরপুর উপজেলায় এক শিক্ষক দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম শুধু দুর্লভপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নয়। এ সমস্যা পাশ^র্বর্তী শরিফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। সমস্যা সমাধানে তিনি বলেন, সম্প্রতি নিয়োগ হওয়া সহকারি শিক্ষকদের  দুই মাস প্রশিক্ষণ শেষে এ সমস্ত বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার জন্য সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মহোদয়কে জানানো হবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার