আগস্টে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যার ঝুঁকি

প্রকাশিত: ০৩ আগস্ট, ২০২৬ ২২:৫৬

জুলাইয়ে সিলেটে রেকর্ড ৭৩৬ মি.মি. বৃষ্টি। উজানে মেঘালয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত

প্রতীকী ছবি।

চলতি আগস্ট মাসে সিলেট বিভাগে ২১ থেকে ২৫ দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এবং এ মাসে বিভাগে ৪৫০ থেকে ৪৯০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। টানা ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে সিলেটসহ দেশের উত্তর—পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলে চলতি মাসেই স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।  

 


সোমবার (২ আগস্ট) আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস প্রদান সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ কমিটির নিয়মিত সভায় এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়। 
অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ও বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান মো. মমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগস্টে সিলেটে মাটির আর্দ্রতা ৪০—৫০% থাকতে পারে। 
বিদায়ী জুলাই মাসে সিলেট বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩৭.৩% বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যেখানে জুলাই মাসে সিলেটে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হয় ৫৩৬ মি.মি., সেখানে রেকর্ড করা হয়েছে ৭৩৬ মি.মি. এবং মাসজুড়ে ২৮ দিনই সিলেটে বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া জুলাই মাসে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২২. ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয় সিলেটে (২১ ও ২২ জুলাই)। সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে মাসজুড়ে ভারী বর্ষণে অঞ্চলের সুরমা, কুশিয়ারা ও অন্যান্য নদ—নদীর পানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। 

 


সারাদেশে আগস্ট মাসে সার্বিকভাবে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও বঙ্গোপসাগরে ১ থেকে ২ টি মৌসুমি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে অন্তত ১ টি মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।  
আগস্টে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক অপেক্ষা বেশি থাকতে পারে। দেশে ১—২ টি বিচ্ছিন্নভাবে মৃদু (৩৬—৩৭.৯ ডিগ্রি সে.) থেকে মাঝারি (৩৮—৩৯.৯ডিগ্রি সে.) ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।  আগস্টে দেশে ৫—৬ দিন বজ্রঝড় হতে পারে। ভারী বৃষ্টির কারণে সিলেটসহ দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ—পূর্বাঞ্চলেও স্বল্পমেয়াদী বন্যা হতে পারে। আগস্টে প্রতিদিন গড়ে ২.৫—৪.৫ মি.মি. বাষ্পীভবন এবং ২.৫—৪.৫ ঘণ্টা উজ্জ্বল সূর্যকিরণ পাওয়া যেতে পারে।  
এদিকে সুনামগঞ্জের উজানে ভারতের মেঘালয় চলতি বছর অস্বাভাবিকভাবে শুষ্ক জুলাই মাস প্রত্যক্ষ করেছে। আইএমডি তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ—পশ্চিম খাসি পাহাড় জেলা ছাড়া বাকি সব জেলাতেই স্বাভাবিকের চেয়ে কম বা আশঙ্কাজনকভাবে কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এমনকি চেরাপুঞ্জি ও মাওসিনরাম সমন্বিত পূর্ব খাসি পাহাড় জেলাতেও প্রায় ৫০ শতাংশ বৃষ্টিপাতের ঘাটতি রেকর্ড করা হয়েছে। জেলাটিতে যেখানে জুলাই মাসে সাধারণত ২,৭৯৬ মি.মি. বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে, সেখানে চলতি বছর হয়েছে মাত্র ১,৪০৩ মিমি। 

 


আবহাওয়াবিদরা এই ঘাটতির জন্য বঙ্গোপসাগরে দুর্বল বৃষ্টিবাহী ব্যবস্থা, সক্রিয় মৌসুমি ট্রাফ বা বায়ুর নিম্নচাপ বলয়ের অনুপস্থিতি এবং ‘এল নিনো’র প্রভাবকে দায়ী করছেন। চলতি বছরের যা দ্বিতীয়ার্ধজুড়ে বজায় থাকতে পারে, যার ফলে এশিয়া জুড়ে আরও বেশি গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী এই শুষ্ক আবহাওয়া খরিফ শস্য মৌসুমের জন্য আশঙ্কাজনক বার্তা দিচ্ছে। কৃষিবিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন যে, বৃষ্টির এই ঘাটতি মাটির আর্দ্রতা, ভূগর্ভস্থ পানির পুনঃসঞ্চয় এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

 


প্রসঙ্গত, ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের একদম কোলঘেঁষে ও পাদদেশে অবস্থান করায় ভাটির জেলা সুনামগঞ্জের পানিসম্পদ ও সার্বিক পরিবেশের ওপর মেঘালয়ের বৃষ্টিপাতের প্রভাব অত্যন্ত প্রত্যক্ষ ও সংবেদনশীল। চেরাপুঞ্জি ও মাসিনরামসহ মেঘালয়ের খাসিয়া—জৈন্তিয়া পাহাড়ে হওয়া বৃষ্টিপাতের পানি সরাসরি যাদুকাটা, সুরমা, কুশিয়ারা, চলতি ও বৌলাই নদী দিয়ে এসে সুনামগঞ্জের হাওর অববাহিকায় জমা হয়। মেঘালয়ের অতিবৃষ্টি যেমন সুনামগঞ্জের জন্য আকস্মিক প্লাবন ও ফসলহানির ঝুঁকি নিয়ে আসে, তেমনি অনাবৃষ্টি দেখা দিলে নাব্যতা সংকট, পরিবেশগত ক্ষতি ও সেচ সমস্যা তৈরি হয়।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার