প্রকাশিত: ০৮ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:২২
ছাতকে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ
ছাতকে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই কর্মীর উপর হামলা এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুরের প্রতিবাদে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সংগঠন দুইটির নেতাকর্মীরা। শুক্রবার (৭ জুলাই) রাত ৯টার দিকে উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টে শুরু হওয়া বিক্ষোভ প্রায় এক ঘণ্টা চলে। এতে কিছু সময়ের জন্য ছাতক—সিলেট সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় তারা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টের বুড়াইয়া রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি ছাতক—সিলেট সড়ক প্রদক্ষিণ করে ছাত্রদলের বিক্ষোভে যোগ দেয়।
খবর পেয়ে ছাতক থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত হন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের আলোচনা হয়। হামলার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে মোটরসাইকেল রাখা নিয়ে সৈয়দেরগাঁও ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের নেতা মোজাহিদ আহমদ এবং গোবিন্দগঞ্জ কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক উজ্জল হামলার শিকার হন। এ সময় তাঁদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ঘটনার আগের দিন ছাত্রলীগের এক নেতাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্ট কোনো নেতার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ছাত্রদল নেতা মাহবুব ও ইমন আহমদও একই অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, জাহেদ আহমদ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মদদ দিচ্ছেন। এ কারণে বিক্ষোভ মিছিলে জাহেদের নাম উল্লেখ করে স্লোগান দিতেও শোনা যায়।
বিক্ষোভকারীরা হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
এদিকে বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, জাহেদ আহমেদের মালিকানাধীন মেসার্স আমিন ভ্যারাইটিজ স্টোরে অস্ত্র রয়েছে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার রাতেই ওই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালায় পুলিশ। তবে তল্লাশিতে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনার পর বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অস্ত্র থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে সেখানে তল্লাশি চালানো হয়। তবে তল্লাশিতে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন