প্রকাশিত: ০৮ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:৩৪
শাল্লা উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও ক্রীড়া খাতের সাড়ে ১১ লাখ টাকা বরাদ্দের অধিকাংশ কাজ না করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে জানা গেছে, জাতীয় শিক্ষা পদক ২০২৬ উপলক্ষে উপজেলার ১০৭টি স্কুলে খেলাধুলার জন্য ৪ লাখ ২৮ হাজার টাকা এবং প্রাক—প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের সরঞ্জামের জন্য ৭ লাখ ৪৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। তবে হাতেগোনা কয়েকটি স্কুল ছাড়া অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা করানো হয়নি এবং কেনা হয়নি সরঞ্জামও।
স্থানীয় অভিভাবক ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, ক্রীড়া খাতের নির্ধারিত টাকা স্কুলে খেলাধুলা না করিয়েই প্রধান শিক্ষকেরা পকেটস্থ করেছেন। পাশাপাশি প্রাক—প্রাথমিকের জন্য স্কুলপ্রতি বরাদ্দকৃত ৭ হাজার টাকার কোনো সুফল পাচ্ছে না কোমলমতি শিশুরা। অনুসন্ধানে জানা যায়, সুখলাইন, নারকিলা, রসিকলাল, প্রতাপপুর, লক্ষ্মীপাশা, বাহাড়া ও রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অল্প কিছু স্কুলে সামান্য কাজ হলেও ঘুঙ্গিয়ারগাঁও সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে কোনো সরঞ্জামই কেনা হয়নি।
এমনকি বরাদ্দের অর্থ কেন নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবের বদলে প্রধান শিক্ষকদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে পাঠানো হলো, তা নিয়ে স্থানীয়রা ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন।
স্কুলে অনিয়মের চিত্র ফুটিয়ে তুলে জাতগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী নাহিদুল ইসলাম জানায়, তাদের স্কুলে কোনো খেলার আয়োজন করা হয়নি। শুধু তা—ই নয়, শিক্ষকরা সময়মতো আসেন না এবং দুপুর ১২টার পরই স্কুল ছুটি দিয়ে দেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রধান শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খেলাধুলা না করানো এবং শিশুদের সরঞ্জাম না কেনা অত্যন্ত লজ্জাজনক বিষয়। সঠিক তদন্ত হলেই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। ঘুঙ্গিয়ারগাঁও মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরঞ্জিত চৌধুরীসহ একাধিক শিক্ষকের কাছে কাজ না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। কেউ কেউ আবার বরাদ্দ পাওয়ার বিষয়টিই অস্বীকার করেন।
তবে অর্থ ছাড় পেতে কিছুটা দেরি হওয়ার যুক্তি দিয়ে লক্ষ্মীপাশা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনোজ কান্তি সরকার বলেন, যারা খেলাধুলা করায়নি সেটা তাদের ব্যর্থতা। প্রাক—প্রাথমিকের সরঞ্জাম অনেকেই কিনেছেন, আবার কেউ কেউ অর্ডার দিয়েছেন। না কিনে থাকলে দ্রুতই তা কিনে ফেলা উচিত।
এ বিষয়ে শাল্লা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পরিমল কুমার ঘোষ জানান, কাজ বাস্তবায়নে শিক্ষকরা কিছুটা গাফিলতি দেখালেও শতভাগ কেনাকাটা নিশ্চিত করতে তাদের বাধ্য করা হচ্ছে। খেলাধুলার আয়োজন শেষ হয়েছে বলে শিক্ষকরা তাকে জানালেও তিনি বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখবেন বলে আশ্বাস দেন।
অন্যদিকে, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দ্রুত খোঁজখবর নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন