প্রকাশিত: ১০ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:১০
দিরাই উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে মোট ২ হাজার ১৩৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৬১ জন। পাসের হার ৪৯ দশমিক ৬২ শতাংশ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৯ জন।
দিরাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের গড় পাসের হার ৫৮ দশমিক ০৩ শতাংশ। অর্থাৎ বোর্ডের গড় ফলাফলের তুলনায় দিরাইয়ের পাসের হার ৮ দশমিক ৪১ শতাংশ কম।
উপজেলার ২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানভেদে ফলাফলে রয়েছে বড় ধরনের পার্থক্য। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ভালো ফল করলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে।
সবচেয়ে বেশি পাসের হার করেছে মকসদপুর উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ১৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, পাসের হার ৭২ দশমিক ২২ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চরনারচর এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়—৫০ জনের মধ্যে ৩৫ জন পাস করে পাসের হার ৭০ শতাংশ।
এ ছাড়া আলহাজ আবদুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪২ জনের মধ্যে ২৪ জন পাস করেছে, পাসের হার ৫৭ দশমিক ১৪ শতাংশ। ফকির মোহাম্মদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৬৫ জনের মধ্যে ৮৪ জন পাস করেছে, পাসের হার ৫০ দশমিক ৯১ শতাংশ।
অন্যদিকে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ফলাফল তুলনামূলকভাবে হতাশাজনক। রাজনীগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ৯১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ২৮ জন, পাসের হার ৩০ দশমিক ৮২ শতাংশ। আলহাজ আব্দুল মতলিব উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৪ জনের মধ্যে ১৩ জন পাস করেছে, পাসের হার ২৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ। দেওয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩৫ জনের মধ্যে ১৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, পাসের হার ৩৭ দশমিক ১৪ শতাংশ।
জিপিএ-৫-এ এগিয়ে দিরাইয়ের দুই প্রতিষ্ঠান
উপজেলায় মোট ৩৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এর মধ্যে দিরাই সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় এবং দিরাই উচ্চ বিদ্যালয়—দুটি প্রতিষ্ঠান থেকেই সর্বোচ্চ ১০ জন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে।
এ ছাড়া ব্রজেন্দ্রগঞ্জ রামচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬ জন, ফকির মোহাম্মদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২ জন এবং মাতারগাঁও মোহাম্মাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, হাসিমপুর মাহাতাবপুর উচ্চ বিদ্যালয়, রাজনগর কেসিপি উচ্চ বিদ্যালয়, গাছিয়া সামছুদ্দিন সিকদার উচ্চ বিদ্যালয় ও আলোর দিশারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একজন করে শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
তবে সামগ্রিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা আশাব্যঞ্জক হলেও মোট পাসের হার কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেই। বিশেষ করে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ৩০–৪০ শতাংশের মধ্যে পাসের হার হওয়ায় শিক্ষার মান, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শিক্ষক সংকট এবং পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির বিষয়গুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
দিরাইয়ের সুশীল সমাজের প্রতিনিধি মতে, শুধু জিপিএ-৫-এর সংখ্যা দিয়ে কোনো উপজেলার শিক্ষার সামগ্রিক চিত্র মূল্যায়ন করা যায় না। বরং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক পাসের হার, ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং বোর্ডের গড় ফলাফলের সঙ্গে তুলনা করেই শিক্ষার প্রকৃত চিত্র বের করা জরুরি।
দিরাইয়ের এবারের ফলাফল সেই বাস্তবতাই তুলে ধরেছে—কিছু প্রতিষ্ঠানে ভালো ফলের সাফল্য থাকলেও সামগ্রিক পাসের হার বাড়াতে এখনই প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার
দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার বলেন, এবারের ফলাফল সন্তোষজনক নয়। তবে আগের সরকারের আমলের শতভাগ বা অটোপাসের মতো সংখ্যার ওপর জোর না দিয়ে বর্তমান সরকার শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে যুগোপযোগী ও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। স্বল্প সময়ে এসব উদ্যোগের কিছুটা প্রভাব পড়েছে, ভবিষ্যতে আরও সুফল পাওয়া যাবে।
তিনি বলেন, দিরাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে যথাযথ মনিটরিং ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না, যা ফলাফল খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে। ভালো ফলাফলের জন্য সরকার, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও গণমাধ্যম—সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সঠিকভাবে কাজ করলে আগামীতে দিরাইয়ের ফলাফল অবশ্যই আরও ভালো হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন