প্রকাশিত: ১০ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:৩৫
যুক্তরাজ্যের ক্রীড়াঙ্গনে অনন্য এক কৃতিত্ব অর্জন করেছেন জগন্নাথপুর উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের মকরমপুর গ্রামের শাহ্ বাড়ির বাসিন্দা, যুক্তরাজ্য প্রবাসী ফটিক মিয়া। ফুটবলে দীর্ঘ ২৫ বছর রেফারি হিসেবে গৌরবময় ও নিষ্ঠাপূর্ণ দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি মর্যাদাপূর্ণ ‘রেফারি সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড’—এ ভূষিত হয়েছেন। প্রথম কোনো বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে এই গৌরবময় পুরস্কার পাওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করলেন তিনি।
গত ১ আগস্ট সাউথহ্যাম্পটন হিলটন হোটেলে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হ্যাম্পশায়ার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তিনি এই পুরস্কার গ্রহণ করেন। এর আগে, ফুটবলে খেলোয়াড় ও রেফারি হিসেবে দীর্ঘ ৩০ বছর সংশ্লিষ্ট থাকার সুবাদে নর্থ হ্যাম্পশায়ার ডিভিশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।
ফটিক মিয়া ১৯৯৭ সালে ক্লাস—৩ রেফারি হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেন। এরপর অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ২০০০ সালে ক্লাস—২ এবং ২০০১ সালে ক্লাস—১ রেফারি হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন।
তিনি হ্যাম্পশায়ার লীগ এবং সাবার্বান লীগে মূল রেফারির দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি ইস্থমিয়ান লীগ, সাউদার্ন লীগ, ন্যাশনাল লীগ সাউথ (সহকারী রেফারি), এফএ ইয়ুথ কাপ, এফএ একাডেমি লীগ এবং ওমেন্স ফুটবল লীগসহ (হ্যাম্পশায়ার লীগ ও সাউথ এন্ড রিজিওনাল লীগ) যুক্তরাজ্যের অসংখ্য স্থানীয় লীগে সুনামের সাথে কাজ করেছেন।
তাঁর উজ্জ্বল রেফারিং ক্যারিয়ারে তিনি দ্য এফএ ট্রফি, এফএ কাউন্টি ইয়ুথ কাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। এফএ ভেস—এর পঞ্চম রাউন্ডে অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি মর্যাদাপূর্ণ এফএ কাপের ম্যাচও পরিচালনা করেছেন। এছাড়াও, এফএ—এর প্রিমিয়ার রিজার্ভ লীগ এবং ন্যাশনাল কনফারেন্স লীগে (যা বর্তমানে ন্যাশনাল লীগ প্রিমিয়ার ডিভিশন নামে পরিচিত) ফোর্থ অফিসিয়াল হিসেবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। হ্যাম্পশায়ার এফএ কাপের অসংখ্য ফাইনাল এবং স্থানীয় লীগের ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বর্তমানে তিনি ওয়েসেক্স লীগে অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি হিসেবে কর্মরত আছেন।
ক্রীড়াঙ্গনের পাশাপাশি ফটিক মিয়া একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী এবং যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি কমিউনিটির অত্যন্ত পরিচিত ও সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব। তিনি বেসিংস্টোক রেফারি অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি হিসেবেও অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন