‘কিছু লোক জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নে করতে চায়’

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:৩৮

সুনামগঞ্জ —২ ((দিরাই —শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী’র স্ত্রী পারভিন আক্তার বলেছেন, দিরাই—শাল্লা বিএনপিতে কোন বিভক্তি নেই। নাছির উদ্দিন চৌধুরী'র নেতৃত্বে দল ঐক্যবদ্ধ। কিছু লোক দলের ভেতরে থেকে জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায়। এরা গেল নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেয় নি। সোমবার দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর'এর ডিজিটাল প্লাটফর্মে কথা বলার সময় নানা প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন কথা বলেন।

 


পারভীন আক্তারের কাছে প্রশ্ন ছিল 'ছয় মাস আগের নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করে বিপুল ভোটে জয়ী হন সুনামগঞ্জ—২ (দিরাই—শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী, সম্প্রতি স্থানীয় বিএনপিতে বিভেদের সুর দেখা দিয়েছে—  এটা  কেন হলো? 


পারভীন আক্তার: আসলে বিএনপিতে কোনো দ্বিধাবিভক্তি তৈরি হয় নাই। বিএনপি আগের মতোই ঐক্যবদ্ধ আছে। কিন্তু কিছু মানুষ আছে, যারা মূলত জামায়াতে ইসলামীর এজেন্ডা বাস্তবায়নে লিপ্ত। মাসুক চৌধুরীর বলয়ের কিছু লোক এই অপচেষ্টায় জড়িত।

 


আপনারা জানেন, দুই বছর আগে নাছির চৌধুরীকে তথাকথিত ‘আয়নাঘর’—এ আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছিল। সেখান থেকে অত্যন্ত প্রতিকূল অবস্থায় আমি তাকে উদ্ধার করে আনি। তৎকালীন নির্যাতনের মানসিক আঘাত তিনি এখনো বহন করছেন। অথচ একটি মহল তার শেষ বয়সে এসে তাকে নানাভাবে মানসিক কষ্ট দিচ্ছে, এমনকি তার বাড়ি পর্যন্ত লিখে নেওয়া হয়েছে। ঈদের দিনও তিনি কান্নাকাটি করেছেন। দিরাই—শাল্লার নেতাকর্মীরা তা বোঝেন এবং তারা নাছির চৌধুরীর সাথেই আছেন। সম্প্রতি আট তারিখে দলবিরোধী যে মিটিং করা হয়েছে, তার কোনো গুরুত্ব নেই—ওটা মূলত শূন্য।

 


প্রশ্ন: এমপির অনুপস্থিতি বা অসুস্থতায় আপনার ভূমিকা ও প্রভাব নিয়ে কথা উঠছে। ‘এমপির ছায়া’ হয়ে আপনি কাজ করছেন কি না?


পারভীন আক্তার: নির্বাচনের আগে যখন আমি মাঠে নামি, অনেকেই বলেছিল—‘তিনি অসুস্থ, কীভাবে উন্নয়ন করবেন?’ তখন আমি শক্ত হাতে নির্বাচনী কাজ পরিচালনা করি এবং জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, নাছির চৌধুরীকে সংসদে পাঠালে সুখে—দুঃখে আমি ও আমার পরিবার তাদের পাশে থাকবে। আজ জয়ের পর আমি কেবল সেই প্রতিশ্রুতিই রক্ষা করে চলছি।
একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে যে আমরা সরকারি বরাদ্দ মেরে খাচ্ছি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। সরকারের সমস্ত বরাদ্দ ইউএনও (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) সাহেবের মাধ্যমে আসে। তিনি সংসদ সদস্য ও স্থানীয় নেতাদের সাথে সমন্বয় করে বণ্টন করেন। আমরা ব্যক্তিগতভাবে এক টাকাও স্পর্শ করি না। উদাহরণ হিসেবে বলি, ঈদের আগে ১০ লাখ টাকা এবং শাড়ি বরাদ্দ এসেছিল। সংসদ সদস্যের নির্দেশে দিরাই—শাল্লার প্রতিটি অঞ্চলে সুষমভাবে তা বণ্টন করা হয়েছে।

 


প্রশ্ন: মাসুক চৌধুরীর দাবি— তারা বিপুল টাকা খরচ করে এবং খাটাখাটনি করে নাছির চৌধুরীকে বিজয়ী করেছেন— এ বিষয়ে কী বলবেন?


পারভীন আক্তার: তাদের এই দাবি সম্পূর্ণ অবাস্তব। নির্বাচনের প্রচারণায় মাসুক চৌধুরী মাত্র তিন দিন ছিলেন। আলাদা কোনো মিছিল বা মিটিংয়ে তিনি বা তার বলয়ের কাউকে দেখা যায়নি। আর টাকার কথা যা বলা হচ্ছে—আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, দিরাই—শাল্লার স্বাবলম্বী ও আত্মমর্যাদাশীল মানুষ এক টাকাও নেয়নি। নাছির চৌধুরীর ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে জনগণ নিজ খরচে মিছিল করেছে এবং ভোট দিয়ে জয়ী করেছে। সত্য কথা হলো, ওই বলয়ের লোকজন ভোটই দেয়নি, তারা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে হেঁটেছে। এখনো তাই করছে।


প্রশ্ন: দিরাই—শাল্লার ঐক্যবদ্ধ বিএনপিকে নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?


পারভীন আক্তার: আমাদের পক্ষ থেকে কারো প্রতি কোনো শত্রুতায় জড়ানোর ইচ্ছা নেই। হয়তো মাসুক চৌধুরীর বলয় আমাকে বা আমাদের শত্রু মনে করতে পারে। তবে গুটিকয়েক মানুষের এই স্বার্থান্বেষী চক্রান্তের কারণে দিরাই—শাল্লার ঐতিহ্যবাহী বিএনপি বা নাছির চৌধুরীর জনপ্রিয়তা কখনো ধ্বংস হবে না।


সবশেষে আমি সবাইকে একটি বার্তাই দিতে চাই—আসেন, একসাথে বসেন। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির স্বার্থে বিএনপিকে ধ্বংস করবেন না। জীবনের শেষপ্রান্তে এসে নাছির চৌধুরীকে আর কষ্ট দেবেন না। দিরাই এবং শাল্লার সোনার মানুষরা তাকে ভালোবাসেন, আর দলও তার নেতৃত্বেই ঐক্যবদ্ধ থাকবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার