খবরনামা

নিজের বাচ্চা মেরে ফেলা, এটা খুবই রেয়ার!

প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ২২:১৪

দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর’এর বুধবারের সংবাদ পরিক্রমায় আলোচনার বিষয় ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক। এক বাবার হাতে তার দুই শিশু সন্তানের মৃত্যুর মর্মস্পর্সি সংবাদ। এমন ঘটনা যে কাউকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। একইসঙ্গে সামনে আনে মানসিক চাপ, পারিবারিক সংকট ও মানুষের আচরণগত পরিবর্তন সম্পর্কে নানা প্রশ্ন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে জানার চেষ্টা ছিল এই ধরণের ভয়াবহ ঘটনার পেছনে কী ধরণের পরিস্থিতি কাজ করতে পারে এবং আগে থেকে কোনো সতর্কসংকেত বোঝা সম্ভব কি না। দশ মিনিটের এই আয়োজনে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক (মেডিসিন) ডা. মাহমুদুর রহমান রকি সময় দিয়েছেন।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: বাবা তার ছেলেকে হত্যা করে ফেলছে অথবা ছেলে তার বাবাকে হত্যা করেছে। এই ঘটনাগুলো যারা ঘটায়, তাদের কি ধরণের মানসিক চাপ বা মানসিক অসুস্থতা তৈরি হয়?

 
ডা. মাহমুদুল ইসলাম রকি: সুনামগঞ্জে যে ঘটনাটি ঘটেছে, বাবা তার পুত্র এবং একজন কন্যা সন্তানকে মেরে ফেলেছেন। খুবই মর্মান্তিক একটা ঘটনা। একজন মানুষ যখন খুব মানসিক চাপ বা পারিবারিক সঙ্কট বা গভীর হতাশার মধ্য দিয়ে যান, তখন এই চাপগুলো বা শারিরীক লক্ষ্মণ এবং হতাশা নিয়ে পরিবারের অন্যান্য লোকজনও বুঝতে পারেন যে, তার চিকিৎসা দরকার বা কেয়ার দরকার। আমরা পর্যালোচনা করতে পারি যে, যেহেতু সে শারিরীক বা মানসিক চাপের মধ্যে আছে, তার আলাদা কেয়ার দরকার। বিশেষ করে যে লক্ষণগুলো এই ক্ষেত্রে দেখা যায়, এরমধ্যে- যেমন চুপ হয়ে যাওয়া, বেশি কথাবার্তা না বলা অথবা সামাজিকভাবে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া। আবার কোনো বিষয়ে হঠাৎ করে রাগ দেখাতে পারে, সামান্য বিষয়ে রেগে যাওয়া। অনেক সময় ঘুমের পরিবর্তন হতে পারে, ঘুম আসে না বা ঘুম বেশি হতে পারে। অনেক সময় খাবারের প্রতি অনীহা আসে বা বেশি খাবার খেতে পারে। অনেক সময় হতাশার মধ্যে থাকেন, যেমন তিনি ভাবেন যে- না, আমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না।


এইরকম একটা হতাশার মধ্যে যদি থাকেন, তখন আগে থেকেই একটা ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকে। কারণ, এই সমস্ত লক্ষ্মণ পরিলক্ষিত হলে বুঝতে হবে যে তিনি মানসিকভাবে ভারাক্রান্ত আছেন। ডিপ্রেশনে আছেন। অর্থাৎ এই ঘটনাগুলো ডিপ্রেশন থেকেই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এই রকম মুহূর্তে যে ঘটনাগুলো ঘটে, সেটা হচ্ছে, সে নিজেই নিজের ক্ষতি করে। সুইসাইড করতে পারে।
ডা. রকি দিরাইয়ে পিতা কর্তৃক সন্তান হত্যার বিষয়টিকে খুবই মর্মান্তিক উল্লেখ করে বলেন যে, সে অবশ্যই মানসিকভাবে ভারাক্রান্ত, অসুস্থ। সে তার নিজের ক্ষতি না করে বাচ্চাকে মেরে ফেললো! হতে পারে পারিবারিক কলহ। কিন্তু নিজের বাচ্চা মেরে ফেলা, এটা খুবই রেয়ার! মানসিক চাপ বা সমস্যা না থাকলে এমন ঘটনা ঘটাতো না।


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: এ থেকে পরিত্রাণ কিভাবে পাওয়া যাবে? 
ডা. মাহমুদুল ইসলাম রকি: একজন মানুষ যখন বলবে যে, আমি মরে যেতে চাই, আমার কিছুই ভালো লাগতেছে না। এইরকম লক্ষ্মণ যদি দেখা দেয়, তাহলে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা যে কাজটা করতে পারেন, সেটা হচ্ছে, একা থাকতে না দেয়া, কাছে কোনো ধারালো জিনিস না রাখা এবং বিপজ্জনক জিনিস থেকে তাকে দূরে রাখা জরুরি। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, তখন বিশ্বাসযোগ্য কাউকে কাছে থাকতে দেয়া। মানসিক বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার