কৌশল পাল্টে বেড়েছে লুটের তৎপরতা

প্রকাশিত: ১১ আগস্ট, ২০২৬ ০০:১২

বর্ষা এলেই বদলে যায় ইজারাবিহীন ধোপাজান বালুমহালের চিত্র। নিত্য নতুন কৌশলে লুট শুরু হয় সরকারি সম্পত্তির। ক্ষতি হয় রাজস্বের, আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যায় শেল্টার দেয়া সিন্ডিকেট। ২৪ এর পটপরিবর্তন আগে থেকেই রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের যোগসাজশে লুট হয়েছে ডলুরা চলতি নদীর এই মহাল। পট পরিবর্তনের পর দিনে দুপুরে হুমড়ি খেয়ে লুট করা হয়েছে বালু—পাথর। লুটপাটের অভিযোগ মাথায় নিয়ে প্রত্যাহার হয়েছেন তৎকালীন পুলিশ সুপার। পরে জেলা প্রশাসন, বিজিবি ও পুলিশের একের পর এক যৌথ অভিযানে নিয়ন্ত্রণে আসে মহাল। পরবর্তীতে নানা কৌশলে চলেছে লুটের চেষ্টা। কখনো রাতের আঁধারে, কখনো উন্নয়নের নাম ভাঙিয়ে।

 

 

 

 

 


দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ফের ডলুরা চলতি নদীর ধোপাজান বালুমহালে তৎপরতা বেড়েছে লুটেরাদের। ব্যবহার হচ্ছে নতুন কৌশল। ছোট বড় নৌকায় প্রতিরাতে বের হচ্ছে বালু। বর্ষার পানি বাড়ায় বিভিন্ন খাল—নালা—হাওর হয়ে বের হচ্ছে সিলিকা বালু ও পাথর। স্থানীয়দের সংবাদে মাঝে—মধ্যে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। আটক করছে দোষীদের, জব্দ হচ্ছে নৌকা ও মালামাল। তবে পুলিশের কাছ থেকে বাঁচতে নতুন কৌশল অবলম্বন করতে দেখা যাচ্ছে অপরাধীদের। পুলিশ আসার খবর পেলে কিনারার কাছে গিয়ে নিজেরাই ডুবিয়ে দিচ্ছে নিজেদের বালু—পাথর ভর্তি নৌকা। পুলিশ গিয়ে কিছু পায় না, পেলেও ডুবন্ত নৌকা নিয়ে আসা সম্ভব না হওয়ায় কোন আইনী পদক্ষেপ নেয়া যায় না। গত একমাসে অভিযান চালিয়ে ৬টি নিয়মিত মামলা করেছে পুলিশ। যার মধ্যে একটি নৌ পুলিশের। ৬ মামলায় মোট আসামী গ্রেফতার হয়েছে ১৩ জন। বালু পাথর সহ নৌকা জব্দ হয়েছে ৮টি। সবগুলো অভিযান চলতি নদীতে হলেও তার মধ্যে একটি ৩১ আগস্ট রক্তি নদী থেকে ডলুরার বালু সহ বাল্কহেড আটক করা হয়।  ডলুরা থেকে অবৈধভানে বালু নিয়ে রক্তি নদীতে বাল্কহেডে লোড করা হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের খবরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। 

 


চলতি নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা নাসু মিয়া বলেন, বিগত সময়ে যেভাবে লুট হয়েছে, সেভাব না হলেও চুরি হচ্ছে। আবহাওয়া খারাপ থাকলে একটু বেশি হয়। ঝড় বৃষ্টি হলে কে গিয়ে মধ্যরাতে বের হয়ে আটকাবে। দু’একটা বড় বাল্কহেড ঢুকে বালু নিয়ে বের হয় সমঝোতায়। কারণ বড় নৌকা ঢুকা আর বের হবার পথ একটাই। সেখানে পুলিশের চেকপোস্ট আছে। ছোট ছোট গুলো খালে নালা দিয়ে বেরিয়ে যায় লুকিয়ে। পুলিশ যখন অভিযানে আসে তখন এসে পঙ্গোপাল পায়। দু একটা ছোট নৌকা ধরে নিয়ে যায়।

 


সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রতন সেখ ক্ষোভের সুরে বললেন, ধোপাজান রক্ষার জন্য সরকারের আরও দায়িত্বশীল সংস্থা আছে। তারা কেউ এগিয়ে আসে না। মানুষ শুধু পুলিশকে চিনে, কারণ পুলিশ কাজ করছে। এই নদীর দায়িত্ব আমাদের না, আমরা সহযোগী সংস্থা। এরপরও আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কোম্পানিগঞ্জে আমি যেভাবে সবার সহযোগিতা পেয়েছি, এখানে কেউ এগিয়ে আসে না। যা করছে শুধু আমাদের পুলিশ। এই পর্যন্ত ৬০ টি মামলায় ১৮০ জন আসামী গ্রেফতার করেছি। অসংখ্য ড্রেজার, নৌকা সহ অন্যান্য আলামত জব্দ করেছি। রাত ১২ টা থেকে শুরু হয় ৪—৫ টা পর্যন্ত চলে শুধু বালু চুরির ফোন। আমাদের পুলিশ কি মানুষ না,  আমাদের কি নাওয়া খাওয়া নেই। আমি চাই নদী রক্ষার দায়িত্ব যাদের তারা এগিয়ে আসুক পুলিশের পাশাপাশি। সবাই মিলে চেষ্টা করলে অবৈধ বালু উত্তোলন নির্মূল হয়ে যাবে।

 


তিনি আরও বলেন, আমি সদর থানায় এসেছি ৮ মাস হয়ে গেছে। ৮ মাসে একটিও টাস্কফোর্স অভিযান পাইনি। আমাদের সহযোগিতাও চায়নি কেউ। আমি আসার পরেই সবার কাছে চলতি নদীতে পুলিশ চেকপোস্টের জন্য সিসি ক্যামেরার সাহায্য চেয়েছি। সদর উপজেলা প্রশাসন ১ মাসের মধ্যে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে ৮ মাস হয়ে গেছে। একটি সিসি ক্যামেরা থাকলে যে কেউ যে কোন কিছু বলতে পারতো না। কেউ কিছু করতেও পারতো না। এখনো সময় আছে সবাই মিলে এটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কঠিন হয়ে যাবে।

 


অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীল বললেন, আমাদের কাছেও খবর আসতেছে অবৈধ বালু উত্তোলনের। আমরা দুই উপজেলাকে নির্দেশ দিয়েছি যেন কঠোরভাবে অভিযান চালানো হয়। সেই অনুযায়ী কাজও হচ্ছে। প্রশাসন অভিযান চালাচ্ছে না এটা ঠিক না, তবে আমরা আরও কঠোর হবো।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার