বাল্কহেডের ধাক্কায় নিহত জেলে, আটক ৮

প্রকাশিত: ১১ আগস্ট, ২০২৬ ২০:৫৮

সুরমা নদীতে মাছ ধরার সময় বড় স্টিলবডি বাল্কহেডের ধাক্কায় মো. শাহীনুর (৪৬) নামে এক জেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাল্কহেডে থাকা আটজনকে আটক করেছে পুলিশ।
রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের হালুয়ারঘাট নৌকা ঘাটের পাশের সুরমা নদীর মধ্যবর্তী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শাহীনুর সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের রহমতপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

 


নিহতের স্ত্রী নাসিমার দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকাল ১০টার দিকে শাহীনুর একটি ছোট ডিঙ্গি নৌকায় করে সুরমা নদীতে সুতার ভাটা জাল দিয়ে মাছ ধরছিলেন। এ সময় ভাটি থেকে উজানের দিকে আসা ‘এমবি হযরত আবেদ শাহ—১’ নামের একটি স্টিলবডি জাহাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে আসছিল। শাহীনুর হাত তুলে সতর্ক করলেও জাহাজের চালক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে নৌকাটির ওপর জাহাজ উঠিয়ে দেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

 


এতে ডিঙ্গি নৌকাটি দ্বিখণ্ডিত হয়ে শাহীনুর জাহাজের নিচে চলে যান এবং জাহাজের ফ্যানে আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হন। পরে জাহাজের ফ্যান বন্ধ করে বাঁশ দিয়ে তাকে ফ্যান থেকে ছাড়ানোর পর জাহাজটি দ্রুত ছাতকের দিকে চলে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 


এসময় নদীতে মাছ ধরতে থাকা অন্য জেলেরা রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় শাহীনুরকে উদ্ধার করে হালুয়ারঘাট গোদারা ঘাটে নিয়ে আসেন। সেখান থেকে তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নাসিমা সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারে অভিযুক্তরা হলেন— মো. মাসুদ করিম (৪৪), শেফার উদ্দিন (৩৩), মো. নুরুল হক (৫০), ওমর সিদ্দিকুর রহমান (৫৩), রকিব মৃদা (২৬), মো. নাছির উদ্দিন (৪৫), মো. ফয়ছল উদ্দিন (৩৯) ও মো. মেহরাজ উদ্দিন (৩৪)।

 


এজাহারে আরও বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার পর জাহাজটি ছাতকের দিকে চলে গেলে স্থানীয় লোকজন ও ছাতক নৌ পুলিশের সহায়তায় সেটি আটক করা হয়। পরে জাহাজে থাকা অভিযুক্তদের আটক করে ছাতক থানায় সোপর্দ করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 


সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি রতন শেখ বলেন, বাল্কহেডটি মৎস্যজীবীকে আঘাত করার পর ছাতকের দিকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় স্থানীয় লোকজন বাল্কহেডটিকে ধাওয়া করে। অন্যদিকে, আহত মৎস্যজীবীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে সদর হাসপাতাল পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেলে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

 


তিনি বলেন, বাল্কহেডটির ধারণক্ষমতা প্রায় ৪০ হাজার বর্গফুট। স্থানীয় লোকজন হালুয়ারঘাট থেকে বাল্কহেডটিকে ধাওয়া করে ছাতক গিয়ে আটক করতে সক্ষম হয়। তবে বাল্কহেডের চালক ও ভিতরে থাকা ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে স্থানীয়রা মারধর করেনি। তাদের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ছাতক থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

 


পরবর্তীতে নৌ—পুলিশের মাধ্যমে আমরা বিষয়টি জানতে পারি। তখন আমরা সংশ্লিষ্টদের জানাই, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা করার জন্য। নিহতের স্বজনদের কাছ থেকে আমরা মামলা গ্রহণ করার পরে আটক আসামিদের আমাদের থানায় নিয়ে আসা হয়। একই সঙ্গে বাল্কহেডটি মঙ্গলবার ছাতক থেকে এনে সুনামগঞ্জ সদর পুলিশ ফাঁড়ির কাছে সুরমা নদীতে রাখা হয়েছে।
ওসি রতন শেখ বলেন, দুঃখজনক বিষয় হলো, নিহত মৎস্যজীবীর সাতটি সন্তান রয়েছে। মাছ ধরেই তার পুরো সংসারের জীবিকা চলত। কয়েকদিন আগে অনেক কষ্ট করে তিনি তার এক মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন। বর্তমানে তার স্ত্রীসহ আরও ছয় সন্তান এবং পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য রয়েছেন। পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। সেই মানুষটিই মারা গেছেন।
তিনি বলেন, এই পরিবারটির এখন টিকে থাকাই অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই সমাজের বিত্তবান, দানশীল ও সহৃদয় ব্যক্তিদের প্রতি আমার আন্তরিক অনুরোধ— আপনারা চাইলে আমার কাছ থেকে নিহতের পরিবারের ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য নিয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। আপনাদের আর্থিক সহায়তাই অসহায় পরিবারটির টিকে থাকা সম্ভব।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার