সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে সাফল্য

প্রকাশিত: ১১ আগস্ট, ২০২৬ ২২:১৮

সুনামগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়

নানা প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করেছে সুনামগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়। ফলাফলে রীতিমত চমক দেখিয়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। 
চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টির পাসের হার ৭৮.৪ শতাংশ, যেখানে জিপিএ—৫ পেয়েছে ২৭ জন শিক্ষার্থী। বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোর তালিকায় এই ফলাফলকে একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

 


শিক্ষকরা জানান, বিদ্যালয়টিতে মূলত নিম্নবিত্ত ও খেটে খাওয়া পরিবারের অনেক সন্তান পড়াশোনা করে। প্রতি বছরই প্রায় ২০০ জন দরিদ্র ছাত্রীকে সম্পূর্ণ বিনাবেতনে পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়। শিক্ষক সংকট থাকা সত্ত্বেও খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা হয়েছে। পরীক্ষার পর অতিরিক্ত ক্লাস, মডেল টেস্ট এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের বিশেষ পরিচর্যার কারণেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে।

 

 

 

 

প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীর এই বিদ্যাপীঠে কোনো খেলার মাঠ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে মেয়েদের স্বাভাবিক বিকাশ। বিদ্যালয়ে দুটি শিফট, মর্নিং ও ডে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে উভয় শিফটে এ, বি ও সি শাখা রয়েছে। এছাড়াও সপ্তম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত উভয় শিফটে এ ও বি শাখা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, শিক্ষা—দীক্ষায় সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও একটি নিজস্ব খেলার মাঠের ব্যবস্থা হলে আগামীতে এই বিদ্যালয়ের ফলাফল শতভাগের কাছাকাছি পৌঁছানোর পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও সুনাম কুড়াতে সক্ষম হবে। 

 


সরেজমিনে দেখা যায়, পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় অ্যাসেম্বলি এবং টিফিনের সময়ে শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে থাকতে হয়। গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে কাবাডি অনুশীলন করতে হচ্ছে হাঁটার সংকুচিত জায়গায়, যেখানে ইট—পাথরের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকছে। শিক্ষার্থীরা জানায়, ছোট জায়গায় শারীরিক শিক্ষা ও খেলাধুলার চর্চা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

 

 

 

 


দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাবিহা উম্মে অহনা বলেন, মডেল টেস্ট পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিকে সুদৃঢ় করেছে। প্রতিবছর নিয়মিত মডেল টেস্টের আয়োজন করা হলে শিক্ষার্থীরা আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হতে পারবে এবং ফলাফলের মান উন্নত হবে।

 


দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসনীম আরা তৃপ্তি ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নূহা নূর জানালেন, বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ না থাকায় গ্রীষ্মকালীন কাবাডি প্রতিযোগিতার অনুশীলনে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তবে এরপরও বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে আমরা উপজেলা, জেলা ও বিভাগ পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়েও সাফল্য অর্জন করছি।
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী উর্মী আক্তার বলেন, খেলার মাঠের অভাবে হাঁটার রাস্তায় অনুশীলন করতে হচ্ছে, যেখানে ইট—পাথরসহ নানাবিধ বাধা রয়েছে। নিয়মিত খেলাধুলার জন্য একটি উপযুক্ত মাঠের ব্যবস্থা করা জরুরি।

 


সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়টিতে খেটে খাওয়া পরিবারের অনেক সন্তান পড়ে। বছর শেষে আর্থিক সমস্যায় থাকা প্রায় ২০০ ছাত্রীকে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়। ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক—এই তিন পক্ষের সমন্বয়কে তিনি প্রধান শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয় এবং ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের বিশেষ ক্লাস ও তদারকি করা হয়। আগামীতে নির্বাচনী পরীক্ষা আরও কঠোরভাবে নেওয়া এবং অভিভাবক সমন্বয় জোরদার করা গেলে পাসের হার শতভাগের কাছাকাছি নেওয়া সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 


বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা রহমান শিক্ষার্থীদের চমৎকার ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ত্রিভূজীয় প্রচেষ্টায় আমাদের এই সাফল্য এসেছে। তবে প্রায় দুই হাজার মেয়ের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য একটি খেলার মাঠ এখন সময়ের দাবি। জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সুশীল সমাজের কাছে আমাদের আকুল আবেদন—শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও শারীরিক বিকাশের সুবিধার্থে একটি খেলার মাঠের সংস্থান করতে যেন তারা এগিয়ে আসেন।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার