জগন্নাথপুরবাসীর ‘নিদ্রাহীন রাত’

প্রকাশিত: ১২ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:২৬

জগন্নাথপুর উপজেলায় বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। মঙ্গলবার নিদ্রাহীন রাত কেটেছে জগন্নাথপুরবাসীর— এমন অভিযোগ করেছেন অনেকে।   
উপজেলাবাসী জানান, সম্প্রতিকালে জগন্নাথপুর উপজেলায় লোডশেডিং অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। মঙ্গলবার বিকাল ৪টা থেকে বুধবার বিকালে ৪টা পর্যন্ত উপজেলা সদরের গত ২৪ ঘন্টায় লোডশেড়িং করা হয়েছে কমপক্ষে ১১—১২ ঘন্টা। তবে জগন্নাথপুরের পল্লী অঞ্চলে ১৪ থেকে ১৫ ঘন্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ উঠেছে।


জগন্নাথপুর পৌর শহরের হারুন মিয়া নামের এক নাগরিক জানালেন, তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে লোডশেডিং। সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ঘন ঘন লোডশেডিং করা হয়। এরপর ১টার দিকে বিদ্যুত দেখা দিয়েই চলে যায়। বিদ্যুতের অপেক্ষায় অপেক্ষায় কেটে গেল ঘুমহীন রাত। 

 

 
ফজলুর রহমানের নামের স্থানীয় আরেকজন জানালেন, বিদ্যুৎ না থাকায় নিন্দ্রাহীন রাত কেটেছে। অসহনীয় গরম আর অস্বাভাবিক বিদ্যুতের ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছি আমরা। এই দুর্ভোগ থেকে কবে পরিত্রান পাবো জানি না। 

 


রানীগঞ্জের জুয়েল আহমদ জানান, আমাদের গ্রামগুলোতে তীব্র লোডশেডিং করা হয়েছে। দিবারাত্রি ১৫ থেকে ১৬ ঘন্টা লোডশেডিং করা হয়। এমন অবস্থায় দাঁড়িয়েছে, বিদ্যুৎ চলে যাওয়াটা বুঝা যায় কিন্তু কখন আসে সেটা বুঝা যায় না।

 


সৈয়দপুরের মুরাদাবাদ গ্রামের শাহিনুর মাহমুদ জানান, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে পানির মোটর চালানো অসম্ভব হয়ে উঠেছে। এতে পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। একদিকে লোডশেডিং অন্যদিকে প্রচণ্ড গরমের যন্ত্রণায় কষ্ঠকর হয়ে উঠেছে জীবন।

 


জগন্নাথপুরের সামাজিক সংগঠন ফেয়ার ফেইস এর সভাপতি শামীম আহমদ বলেন, প্রবাসী অধ্যুষিত এই উপজেলায় দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকলে গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্ট, ইন্টারনেট ও ওয়াইফাই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। চালানো যায় না পানির মোটর, ফ্যান, ফ্রিজসহ বিদ্যুৎ চালিত যন্ত্র। এজন্য অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পড়তে হয়। গত কয়েকদিন ধরে গরমের সঙ্গে অস্বাভাবিক লোডশেডিং চলছে। মঙ্গলবার রাতে লোডশেডিং চলাকালে হঠাৎ ঝড়—বৃষ্টি হওয়ায় রাতে আর বিদ্যুৎ মিলেনি। এতে মানুষজন ঘুমহীন রাত কাটিয়েছেন।  
জগন্নাথপুর উপজেলা আবাসিক (বিদ্যুৎ) প্রকৌশলী আজিজুল ইসলাম আজাদ বলেন, জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের সংকট দেখা দেয়ায় জগন্নাথপুরেও লোডশেডিং করা হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ উপজেলায় বিদ্যুতের গড় চাহিদা ছিল প্রায় ১০ মেগাওয়াট। কিন্তু ৫ থেকে ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এজন্য বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দেয়।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার