প্রকাশিত: ১২ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:৪২
দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ ও অযত্নে পড়ে থাকা ভবনটির অবস্থা দেখে বোঝার উপায় নেই এটি একটি পাবলিক লাইব্রেরি। ভবনের দেয়াল ও ছাদে জমেছে শ্যাওলা, চারপাশে জন্মেছে ঝোপঝাড় ও আগাছা। আর ধূলাবালি ও মাকড়সার জালে আচ্ছাদিত হয়ে আছে ভেতরের একটিমাত্র বইয়ের তাক। বলছিলাম ধর্মপাশা উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরির কথা। নিয়মিত যত্ন ও কার্যক্রমের অভাবে লাইব্রেরিটি এখন স্যাঁতসেঁতে ও পরিত্যক্ত স্থাপনায় পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংস্কার কাজের জন্য ২০২৫—২৬ অর্থবছরে এডিবি ফান্ড থেকে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দের বিপরীতে কিছু কাজ করা হলেও লাইব্রেরির নিয়মিত পাঠচর্চা বন্ধ থাকায় এই বরাদ্দের কার্যকারিতা ও সুফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
সরেজমিনে দেখা যায়, লাইব্রেরি ভবনের সামনের অংশে কোনো দৃশ্যমান সাইনবোর্ডও নেই। জানালা দিয়ে ভেতরে তাকালে দেখা যায় অল্প কিছু বই রয়েছে, তবে সেগুলোতে দীর্ঘদিনের ধূলাবালি জমা। নিয়মিত ব্যবহারের কোনো চিহ্ন নেই বললেই চলে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, লাইব্রেরির কার্যক্রমই যদি বন্ধ থাকে, তবে কেবল ভবন সংস্কারের পেছনে বরাদ্দ দেওয়ার যৌক্তিকতা কোথায়? যদি পাঠক ও শিক্ষার্থীরা এটি ব্যবহার করতে না পারে, তবে তো বরাদ্দের সুফল মিলছে না। বরং লাইব্রেরি চালু না করে টাকা খরচ করাটা এক ধরনের অপচয়। প্রয়োজনে অন্য জনকল্যাণমূলক কাজেও অর্থ ব্যয় করা যেত।
স্থানীয় শিক্ষার্থী ও বইপ্রেমীদের মতে, উপজেলা পর্যায়ে একটি কার্যকর পাবলিক লাইব্রেরি থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের জন্য দৈনিক পত্রিকা, চাকরির প্রস্তুতির বই ও সাধারণ জ্ঞানের প্রাচুর্য থাকলে তারা উপকৃত হতো। কিন্তু বছরের পর বছর পাঠাগারটি নিস্ক্রিয় থাকায় এর মূল উদ্দেশ্যই ভেস্তে যাচ্ছে।
ভবন সংস্কারের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহাবুদ্দিন জানান, লাইব্রেরি ভবনটি সংস্কারের জন্য এডিবির ফান্ড থেকে তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, লাইব্রেরিটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল। বর্তমানে আমরা এটি সংস্কারের কাজ করাচ্ছি। কাজ এখনো শেষ হয়নি।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন