প্রকাশিত: ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৭
নদী—হাওর আর বর্ষার পানিতে ভরপুর সুনামগঞ্জ। অথচ পানির প্রাচুর্যের মধ্যেও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার লোকমানপুর গ্রামের ৩০ পরিবারের মানুষকে সুপেয় পানির জন্য যেতে হয় পাশের গ্রামে। বর্ষায় কাদা—পানি ও ঢেউ পেরিয়ে, আর হেমন্তে পায়ে হেঁটে পানি সংগ্রহ করতে হয়। নিরাপদ পানির এই সংকট শুধু লোকমানপুরেই সীমাবদ্ধ কি না এবং জেলার অন্যান্য এলাকায় পরিস্থিতি কেমনÑ এসব বিষয় নিয়ে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের বিশেষ আয়োজন ‘খবরনামা’—তে বৃহস্পতিবার বিকালে যুক্ত ছিলেন দোয়ারাবাজার উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মৃদুল কান্তি সরকার। এর আগে তিনি বিশ্বম্ভপুর উপজেলায় কাজ করেছেন। সম্প্রতি বদলি হয়ে দোয়ারায় যান।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: পানির প্রাচুর্যের মধ্যেও নিরাপদ পানির সংকটকে কীভাবে দেখছেন?
মৃদুলকান্তি সরকার: লোকমানপুর নতুনভাবে গড়ে ওঠা একটি গ্রাম। সেখানে প্রায় ২০ থেকে ৩০টি পরিবার রয়েছে। নিরাপদ পানি সরবরাহে আমরা কাজ করছি। শতভাগ মানুষের কাছে নিরাপদ পানি পৌঁছানো সম্ভব হয় নি। তবে বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এর আগে বাহাদুরপুর গ্রামে এমন সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। আশাকরছি লোকমানপুরেও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: তাৎক্ষণিকভাবে এই কষ্ট কমাতে কী করা যেতে পারে?
মৃদুলকান্তি সরকার: বর্তমানে একটি ছোট বরাদ্দ রয়েছে। সেখান থেকে লোকমানপুরে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। বিশ্বম্ভরপুরে হ্যান্ড টিউবওয়েলের পরিবর্তে এখন সাবমার্সিবল টিউবওয়েলকে বেশি নির্ভরযোগ্য মনে করা হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ না থাকলে এটিও অকার্যকর হয়ে পড়ে। তাই সুনামগঞ্জের জন্য আরও কার্যকর প্রযুক্তির দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: হাওরাঞ্চলে বৃষ্টির পানি কি নিরাপদ পানির বিকল্প হতে পারে?
মৃদুলকান্তি সরকার: প্রথম দিকের বৃষ্টির পানি সরাসরি নিরাপদ হিসেবে ধরা হয় না। কয়েক দফা বৃষ্টির পর বায়ুমণ্ডল পরিষ্কার হলে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করা গেলে তা পানযোগ্য হতে পারে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: নিরাপদ পানির সংকটে থাকা গ্রামগুলোর কোনো তালিকা বা জরিপ আছে কি?
মৃদুলকান্তি সরকার: আমাদের কাছে এখনো এ ধরনের পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেজ নেই। তবে পানির উৎস স্থাপনের তথ্য রেজিস্টারে সংরক্ষণ করা হয়। বিশ্বম্ভরপুরে এমন কোনো গ্রাম সম্পর্কে আমাদের কাছে তথ্য নেই, যেখানে পুরোপুরি নিরাপদ পানির উৎস নেই। তবে বিচ্ছিন্নভাবে সংকট থাকতে পারে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পরিকল্পনা কী?
মৃদুলকান্তি সরকার: মাঠপর্যায় থেকে সম্প্রতি নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের কাভারেজ এবং চাহিদার বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে বড় ধরনের প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। আশাকরছি, খুব শিগগিরই নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন