হিজল-করচ বন ফেরানোর তাগিদ

প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৫১

‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও সপ্তাহব্যাপী জেলা বৃক্ষমেলা। হাওরাঞ্চলের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি হারিয়ে যেতে বসা হিজল—করচ বন ও জলমগ্ন তৃণভূমি পুনরুদ্ধারের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

 


রবিবার সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জেলা বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করা হয়। এর আগে শহরে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালি শেষে বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।

 

 

 

 

 


এসময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মতিউর রহমান খান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার, সুনামগঞ্জ জেলা বন অফিসের রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও নার্সারি মালিকরা।

 


উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনায় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি মেলায় বেশি বেশি দর্শনার্থী আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানুষ যেন এখান থেকে গাছের চারা সংগ্রহ করে বাড়ির আঙিনাসহ উপযুক্ত স্থানে রোপণ করেন এবং নিয়মিত পরিচর্যা করেন।

 

 

 

 

 

 

 


সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রহমান বলেন, হাওরের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে অন্য কোনো জীবিকা দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তাই হাওর সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। একসময় হাওরের নদী ও খালের দুই তীরে ব্যাপক হিজল—করচ বন এবং জলমগ্ন তৃণভূমি ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এসব বন ও তৃণভূমি ব্যাপকভাবে কমে গেছে। ১৯৯০ ও ২০০০ সালের সময়ের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করলে হিজল—করচ বন প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এখন এসব বন ও তৃণভূমি পুনরুদ্ধার করা প্রয়োজন।

 


হিজল বনের গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন বলেন, হিজল—করচ বন বর্ষাকালে আকস্মিক বন্যার পানির গতি কমিয়ে দেয়। এতে হাওরাঞ্চলের মানুষের বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও জীবনযাত্রা সুরক্ষায় সহায়তা করে। অন্যদিকে জলমগ্ন তৃণভূমি মাছের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হিসেবে কাজ করে। এসব এলাকায় মাছ ডিম ছাড়ে, বাচ্চা বড় হয় এবং একই সঙ্গে পলি আটকে রাখার ক্ষেত্রেও তৃণভূমির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
না বুঝে আমরা অনেক বন ও তৃণভূমি কেটে ধানক্ষেত তৈরি করেছি। কিন্তু ধান চাষ প্রাকৃতিক দুর্যোগ নির্ভর হওয়ায় প্রতিবছর এর নিশ্চয়তা থাকে না। একই সঙ্গে হাওরের মাছের আবাসস্থল নষ্ট হওয়ায় মৎস্যসম্পদও কমে গেছে। প্রায় ২০ বছর আগের তুলনায় বর্তমানে মাছের পরিমাণ অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে।  সুনামগঞ্জ মৎস্যসম্পদ উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও চাষ করা গেলে মানুষের জীবিকার সুযোগ আরও বাড়বে। তিনি বলেন, হাওরে বন ও তৃণভূমি থাকা শুধু পরিবেশের জন্য নয়, মানুষের অর্থনৈতিক স্বার্থেও গুরুত্বপূর্ণ।

 


অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা বলেন, বৃক্ষরোপণ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নয়; জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বাড়ির আঙিনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তার পাশে, পতিত জমি, নদীর তীর ও খালের পাড়ে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার