প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৫০
‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হলো সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা। শহরের ঐতিহ্যবাহী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই মেলায় সর্বস্তরের মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। আগের বছরের তুলনায় এবার চারা বিক্রি অনেক ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন নার্সারি মালিকেরা। বিশেষ করে ফলজ ও ঔষধি গাছের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ ছিল সবচেয়ে বেশি।
সাত দিনব্যাপী এই মেলায় মোট আটটি নার্সারি অংশ নেয়। সমাপনী দিনে স্টল প্রদর্শনী ও সার্বিক মূল্যায়নে ৭২ নম্বর পেয়ে যৌথভাবে প্রথম স্থান অর্জন করে ‘আনিকা নার্সারি’ ও ‘আর.এইচ.এম. সুনামগঞ্জ নার্সারি’। ৩৮ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে ‘সাজানো বাগান নার্সারি’ এবং ৩৩ নম্বর পেয়ে তৃতীয় হয়েছে ‘মা—বাবার দোয়া নার্সারি’।
.jpg)
মেলা ঘুরে দেখা যায়, আম, মাল্টা, কমলা, পেয়ারা, চেরির মতো ফলজ গাছের পাশাপাশি নিম, আমলকী ও অ্যালোভেরার মতো ঔষধি গাছের চাহিদা ছিল শীর্ষে। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে নার্সারি মালিকেরা তুলনামূলক কম লাভে চারা বিক্রি করেছেন। শেষ মুহূর্তের ছুটির দিনগুলোতে ছাদবাগান ও গৃহস্থালির জন্য গাছ কিনতে দর্শনার্থীদের ভিড় আরও বাড়ে। স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য এই মেলা ছিল প্রকৃতির সান্নিধ্যে গিয়ে গাছ চেনার ও শেখার এক অনন্য সুযোগ।
আনিকা নার্সারির মো. রাজু খান বলেন, ফলজ গাছের পাশাপাশি নিম, আমলকী ও অ্যালোভেরাসহ কিছু ঔষধি গাছও বিক্রি হয়েছে। পেয়ারা, আম, মাল্টা, কমলা ও বিভিন্ন জাতের আমের চারার চাহিদা বেশি ছিল। আগের বছরের তুলনায় এবার বিক্রি ভালো হয়েছে। বিশেষ করে মেলার শেষ কয়েক দিনে ক্রেতা ও বিক্রি বেড়েছে।
ক্রেতা মাসুদ আহমেদ অপু জানান, ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন প্রজাতির ফুল, ফল ও সবজির গাছ সংগ্রহের শখ তাঁর। মেলা থেকে তিনি ১২ মাসি মাল্টা, পেয়ারা, চেরি, বড়ইসহ বিভিন্ন জাতের ফলজ গাছ এবং রঙ্গন ও মাল্টিকালার গোলাপের মতো ফুলের চারা কিনেছেন। পাশাপাশি ১২ মাসি বেগুনের চারাও নিয়েছেন। ছাদবাগান কিংবা গ্রামের বাড়ির জন্য বিভিন্ন গাছ সংগ্রহের পাশাপাশি বাড়ির সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও ফলের চাহিদা পূরণেও এসব গাছ ভূমিকা রাখতে পারে।
রবিবার বিকেলে সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ.কে.এম. আজাদ মিয়া।
(1).jpg)
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, বৃক্ষ আমাদের পরম বন্ধু। অক্সিজেন সরবরাহ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছের ভূমিকা অপরিসীম। মেলার সময়সীমা আরও দীর্ঘায়িত করা গেলে সুনামগঞ্জবাসী আরও উপকৃত হতেন।
অনুষ্ঠানে হাওরাঞ্চলে বৃক্ষরোপণের নানা বাস্তব চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন সুনামগঞ্জ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন। তিনি জানান, বছরের প্রায় সাত মাস পানিতে নিমজ্জিত থাকা, গবাদিপশুর অবাধ বিচরণ এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে হাওর এলাকায় গাছ বাঁচিয়ে রাখা কঠিন। তাই জলমগ্নতা সহ্য করতে পারে এমন প্রজাতির গাছ নির্বাচনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আলোচনা সভা শেষে অংশগ্রহণকারী সেরা নার্সারিগুলোর হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। একই সাথে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন