প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:৩০
ধর্মপাশায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের গোপন বৈঠক করে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ মুরাদসহ ১১৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দিয়েছে পুলিশ। চার্জশিটে ৫০ জনকে গ্রেপ্তার এবং ৬৫ জনকে পলাতক আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ৩১ জুলাই ধর্মপাশা থানা পুলিশ আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করে। এতে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গ—সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নাম রয়েছে। মামলায় দ্য স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট, ১৯৭৪—এর ১৫(৩)/২৫ডি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। ধর্মপাশা থানার এসআই মো. আব্দুস ছাত্তার এ মামলা তদন্ত করেছেন।
মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৬ ডিসেম্বর রাতে ধর্মপাশা বিজয় চত্বরের দক্ষিণ পাশে সুমন মিয়ার চায়ের দোকানের পেছনের একটি খালি কক্ষে ৩৫ থেকে ৪০ জনের একটি দল গোপন বৈঠক করছে— এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা ব্যক্তিরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ একজনকে আটক করে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তির কাছ থেকে বৈঠকে উপস্থিত অন্যদের নাম—পরিচয় সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।
পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকারি কার্যক্রমকে ব্যাহত করা, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের পতনের লক্ষ্যে ধর্মপাশা উপজেলার বিভিন্ন রাস্তাঘাট, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সরকারি অফিসে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলাটির তদন্তকালে পূর্ববর্তী তদন্তকারী কর্মকর্তারা মোট ৪৪ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেন। পরবর্তী তদন্তে পুলিশ বিভিন্ন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ, থানার রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা, আসামিদের নাম—ঠিকানা যাচাই এবং প্রকাশ্যে ও গোপনে তদন্ত করে।
চার্জশিটে গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ধর্মপাশা উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি গোলাম মহিউদ্দিন ফরহাদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ, সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি তামিম আহমেদ সুজন, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুফল মিয়াসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
চার্জশিটে ধর্মপাশা উপজেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, সহ—সভাপতি আরমান আহমদ, জাকির হোসেন তালুকদার, নাদিম কবির, সুজ্জাত আহমদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান বাবর, শাকিল খানসহ ১৭ জনকে এজাহারনামীয় পলাতক আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া তদন্তে প্রাপ্ত পলাতক আসামিদের তালিকায় ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম আহম্মেদ মুরাদ, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ন আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জায়েদ প্রিয়াম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য দিলু মিয়া, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকরাম হোসন, ধর্মপাশা সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আরফান আলী, বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নাম রয়েছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন