শহরজুড়ে ময়লা ফেলার স্থায়ী কাঠামো তৈরি হোক

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:১১

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে শুক্রবার জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসন ও সুনামগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে শহরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। এদিন শহরের মধ্যবাজারের চাঁদনিঘাট এলাকার সুরমা নদীর পাড়ে স্তূপকৃত ময়লা অপসারণের কাজ করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক ময়লা—আবর্জনা যত্রতত্র না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার জন্য নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ জানান। জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতিটি দোকানের সামনে ডাস্টবিন রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

 

যেখানে—সেখানে ময়লা ফেললে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের সতর্কবার্তাও দেন জেলা প্রশাসক। সম্প্রতি সারা দেশে ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্তের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এই ভাইরাসের বাহক এডিস মশাসহ সকল ধরনের মশার উৎপত্তি ও প্রজননস্থল হলো— ময়লা—আবর্জনার স্তূপ ও পানি ভর্তি অব্যব্যবহৃত সামগ্রী। ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে পরিষ্কার—পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশের জন্য যেমন প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে তেমনি গুরুত্বপূর্ণ হলো নাগরিকগণের পরিবেশ—বান্ধব সচেতনতাবোধ। গোটা শহর ঘুরলে যত্রতত্র ময়লা আবর্জনার স্তূপ দেখতে পাওয়া যায়। বিশেষ করে খাল ও নদীগুলো হয়ে উঠেছে সকলের ময়লা ফেলার নিরাপদ জায়গা। এ—সব এলাকায় মানুষজনকে নাকে রুমাল চাপা দিয়ে হাঁটতে হয় দুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে। অপচনশীল বর্জে্যর কারণে আমাদের নদী ও খালগুলো অকাল—বার্ধক্য বরণ করছে। বস্তুত বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকার ময়লা—আবর্জনা নিষ্কাশনের জন্য পৌরসভা শক্তিশালী কোনো ব্যবস্থা দাঁড় করাতে পারেনি। ফলে শহরবাসী যত্রতত্র ময়লা ফেলার কু—অভ্যাসে এতোটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছেন যে, তাঁদের অভ্যাস পরিবর্তনের জন্য দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোকে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে। বলাবাহুল্য এই বদভ্যাস কেবল সুনামগঞ্জ শহরের বাস্তবতা নয় বরং সারা দেশেই এমন অবস্থা বিদ্যমান। এ জন্য  সচেতনতা তৈরি, উপযুক্ত কাঠামোগত ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, নিয়মিত কঠোর তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা এবং নিয়ম না মানলে শাস্তি প্রদান প্রভৃতি কার্যক্রমের জোরালো উপস্থিতি ছাড়া নাগরিকদের দীর্ঘদিনের বদভ্যাস দূর করা অতিশয় কঠিন হবে। বর্তমানে যে হারে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ও সংক্রমণ বাড়ছে তাতে নাগরিক ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে উত্তম চর্চায় অভ্যস্ত করার আর কোনো বিকল্প নেই।

 


শহরের বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকায় ময়লা ফেলার জন্য পৌরসভার যথেষ্ট পরিমাণ ডাস্টবিন নেই। যে কয়টি ডাস্টবিন আছে সেগুলোও নিয়মিত পরিষ্কার করার অভাব দেখা যায়। জেলা প্রশাসক যেমন বলেছেন— প্রত্যেক ব্যবসায়ীকে দোকানের সামনে ডাস্টবিন রাখতে হবে, তেমন করে প্রতিটি বাসার সামনে যাতে বাসা—বাড়ির মালিকরা এমন ডাস্টবিন রাখেন তা নিশ্চিত করতে পৌরসভাকে উদ্যোগী হতে হবে। ডাস্টবিন স্থাপন বাধ্যতামূলক করতে হবে। ডাস্টবিন স্থাপনের বিষয়টিকে যেকোনো নাগরিক—সেবা পাওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে আরোপ করা যেতে পারে। উন্নত দেশসমূহে পচনশীল ও অপচনশীল বর্জে্যর জন্য ভিন্ন ভিন্ন রঙের পৃথক পর্যাপ্ত ডাস্টবিন রাখা হয় এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নিয়মিত এই ডাস্টবিনগুলো থেকে ময়লা সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট ডাম্পিং এলাকায় নিয়ে যায়। ডাস্টবিন স্থাপনের এই কাজটি খুব কঠিন নয়। সদিচ্ছা থাকলে সহজেই এটি বাস্তবায়ন করা যায়। পৌরসভার উদ্যোগে পুরো শহরে প্রযোজ্য জায়গায় মজবুত ও ঢাকনাবিশিষ্ট প্লাস্টিকের ডাস্টবিন স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য আমরা সুনামগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানাই।

 


পরিষ্কার—পরিচ্ছন্নতা অভিযান কোনো দিবসকেন্দ্রিক কর্মসূচি নয়। এই অভিযান কোনো আনুষ্ঠানিকতাও নয়। এটি আমাদের দৈনন্দিন কর্মপ্রণালীর অপরিহার্য অংশ হওয়া উচিৎ। উত্তম নাগরিক চেনার বহু মানদণ্ড আছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো নিজের পরিবেশকে সর্বদা পরিচ্ছন্ন রাখা। পরিচ্ছন্ন রাখার মধ্য দিয়ে যে কেবল অনাহুত রোগ—জীবাণুর সংক্রমণই ঠেকানো যায় তাই নয়, বরং একটি রুচিশীল ও শোভন শহর হিসেবে আমাদের সুনাগরিকসুলভ পরিচয়প্রভার গর্ব প্রকাশ পায়। তবে নিছক উপদেশ খয়রাত করেই কোনো শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা যায় না। এজন্য প্রাতিষ্ঠানিক সক্রিয়তা অপরিহার্য। নাগরিকগণ যখন দেখবেন যত্রতত্র ময়লা ফেললে নিয়মিত জরিমানা গুণতে হয় তখন তিনি নিজে—নিজেই সংশোধিত হবেন। পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিকে আমাদের আর দশটা অপরিহার্য কাজের মতো দৈনন্দিন কর্মসূচির অংশ করা গেলেই তা টেকসই ও অর্থবহ হবে। শুক্রবার জেলা প্রশাসন শহরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে যে বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছেন, পৌরসভা ও শহরের নাগরিক সমাজসহ সকলকে তা আত্মস্ত করতে হবে। সুনাগরিক হয়ে উঠার এই কঠিন প্রয়াসে জেলা প্রশাসনও সর্বদা সহযোগী ও সমন্বয়কারী হয়ে পথ—প্রদর্শকের ভূমিকা রাখবেন বলে আমরা আশা করি।

সম্পাদকীয় থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার