প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:১৩
সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ জেলায় মাদকের বিস্তার রোধে তৎপরতা বাড়ালেও চরম জনবল সংকটে পড়েছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। অনুমোদিত ৩২টি পদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সহকারী পরিচালক ও পরিদর্শকসহ ৯ পদ বর্তমানে খালি। তবে কম লোকবল ও নিজস্ব ভবনের অভাব সত্ত্বেও থেমে নেই তাদের কার্যক্রম। চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই ১২টি অভিযানে জব্দ করা হয়েছে ইয়াবা, গাঁজাসহ ১৫০০ লিটারেরও বেশি ওয়াশ ও চোলাইমদ— বিলাতি মদ। তদারকি ও নিয়মিত অভিযান চালিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ জনবল ও সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোতে স্থায়ী অফিস না থাকায় মাদক কারবারীদের নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পেতে হিমশিম খাচ্ছে সংস্থাটি।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলা কার্যালয়ের অনুমোদিত ৩২ পদের মধ্যে বর্তমানে ২৩ জন কর্মরত থাকলেও ৯ পদ শূন্য রয়েছে। সহকারী পরিচালক পদে একটি পদের বিপরীতে কোনো কর্মকর্তা নেই। পরিদর্শক পদে দুইটি পদের মধ্যে একজন এবং উপপরিদর্শক পদে তিনটি পদের বিপরীতে একজন কর্মরত রয়েছেন। ফলে এসব পদে যথাক্রমে একটি ও দুইটি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া ওয়্যারলেস অপারেটর, অফিস সহায়ক, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, প্রসিকিউটর ও সহকারী প্রসিকিউটর পদেও শূন্যতা রয়েছে।
অন্যদিকে হিসাবরক্ষক পদে একজন, সহকারী উপপরিদর্শক পদে চারজন, অফিস সহকারী ও গাড়িচালক পদে একজন করে এবং সিপাহি পদে অনুমোদিত ১২ জনের বিপরীতে ১২ জনই কর্মরত রয়েছেন। সব মিলিয়ে ৩২টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ২৩টি পদে জনবল থাকলেও ৯টি পদ শূন্য রয়েছে। জনবল সংকটের মধ্যেও চলতি সেপ্টেম্বর মাসে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রেখেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ‘ক’ ও ‘খ’ সার্কেল। অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে মোট ১২টি মামলা হয়েছে। অভিযানে বিলাতি মদ, চোলাইমদ, ইয়াবা ও গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে।
এরমধ্যে ১১ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কান্দাপাড়া—নারায়ণতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোশারফ মিয়ার কাছ থেকে কিংফিশার বিয়ার, রয়্যাল স্ট্যাগ ও এসি ব্ল্্যাক হুইস্কিসহ মোট ৫ দশমিক ৮৭৫ লিটার বিলাতি মদ ও বিয়ার জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
১২ সেপ্টেম্বর পূর্ব তেঘরিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলী আক্তার নেন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৪ হাজার ১০০ টাকা জব্দ করা হয়।
এছাড়া ১ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জয়নগরে ৫ লিটার চোলাইমদ, ৬ সেপ্টেম্বর শান্তিগঞ্জের কান্দাগাঁওয়ে ৫ লিটার চোলাইমদ ও ৫ লিটার ওয়াশ, ৯ সেপ্টেম্বর তাহিরপুরের লাউড়েরগড়ে ১২ লিটার চোলাইমদ ও ৪০০ লিটার ওয়াশ জব্দ করা হয়।
১২ সেপ্টেম্বর দোয়ারাবাজারের ডাওকের কারা—মঙ্গলপুর এলাকায় পৃথক দুই অভিযানে ১ দশমিক ২৫ লিটার চোলাইমদ ও ৬০০ লিটার ওয়াশ জব্দ করা হয়। একইভাবে ১০ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ সুনামগঞ্জের জামলাবাজ এলাকায় পৃথক দুই অভিযানে ১০ লিটার চোলাইমদ ও ৫০০ লিটার ওয়াশ জব্দ করা হয়। এসব ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও কয়েকজন আসামি পলাতক রয়েছেন।
মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ৩ সেপ্টেম্বর ছাতকের বিভিন্ন এলাকায় অভিযানে দুই ব্যক্তির কাছ থেকে ২৮ গ্রাম গাঁজা জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। মাদক সেবনের অপরাধে তাদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
৯ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার তেঘরিয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৫ গ্রাম গাঁজা জব্দ ও ধ্বংস করা হয়। এ ঘটনায় একজনকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবুল হোসেন বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। মাদকবিরোধী আলোচনা সভা, স্কুল—কলেজ ও মাদ্রাসায় শ্রেণিভিত্তিক বক্তব্য, মাদকবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা, ফুটবল, ক্রিকেট ও ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, জনবহুল স্থান ও সরকারি অফিস এলাকায় কিয়স্ক ও ডিসপ্লে স্থাপন, শর্ট ফিল্ম, ডকুমেন্টারি ও বিলবোর্ডের মাধ্যমে মাদকবিরোধী প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
তবে জনবল সংকটের কারণে মাদকবিরোধী কার্যক্রম ও অভিযান পরিচালনায় চরম সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে জানান তিনি। জেলা শহরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ও ভাড়া ভবনে চলছে বলে উল্লেখ করেন উপপরিচালক।
মো. আবুল হোসেন বলেন, জনবল সংকট নিরসনের পাশাপাশি জেলার সীমান্তবর্তী সদর, দোয়ারাবাজার, ছাতক, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলায় স্থায়ীভাবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অফিস চালু করা হলে কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। এতে মাদকাসক্তি ও মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন