প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৫৮
সিলেটে সুরমার তীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধনকালে খন্দকার মুক্তাদির
সিলেট শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী ভাঙন রোধ এবং সার্বিক নিরাপত্তায় সমন্বিত ও মেগা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। সিলেট সদর উপজেলার সুরমা নদীর বামতীরের কানিশাইল এলাকায় নদী তীর প্রতিরক্ষা কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধন করেন সিলেট—১ (মহানগর ও সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি নদী ভাঙন রোধ, নগর নিরাপত্তা, এলাকার পরিবেশ সুরক্ষা ও দেশের সার্বিক বাজার পরিস্থিতি নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
সমাবেশে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, সুরমা নদী ও চেঙ্গার খালের ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা তাদের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রম্নতি ছিল। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই পানিসম্পদ মন্ত্রীকে সাথে নিয়ে তিনি নদীভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনের মাধ্যমে টেকসই পদক্ষেপের ভিত্তি স্থাপন করেন।
নদীর ভৌগোলিক চিত্র ও ম্যাপ প্রদর্শন করে তিনি উল্লেখ করেন, নদীভাঙনের মূল প্রভাব বা সুরুর সূত্রপাত হয় মূলত নদীর তলদেশ (বেড) থেকে, যা পরবর্তীতে তীরে এসে আঘাত হানে। তাই কেবল পাড় বাঁধাই নয়, নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনা ও ভাঙন রোধে চলতি প্রকল্পের আওতায় সুরমা নদীর প্রায় ৫১ কিলোমিটার অংশ ড্রেজিংয়ের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সমন্বিত ও পরিকল্পিত উপায়ে সুরমা নদীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
বক্তব্যে মন্ত্রী সিলেটের নদীভাঙন রোধ ও নদী পুনর্খননে গৃহীত বেশ কিছু স্থায়ী প্রকল্পের তালিকা তুলে ধরেন। প্রকল্প গুলো হচ্ছে, সুরমা নদী (কানিশাইল এলাকা): ৫৫০ মিটার তীর প্রতিরক্ষা কাজ। সুরমা নদী (মিরেরচক এলাকা): ৩০০ মিটার তীর প্রতিরক্ষা কাজ। সুরমা নদী (মেন্দিবাগ এলাকা): ৪০০ মিটার তীর প্রতিরক্ষা কাজ। সুরমা নদী (টোকেরবাজার এলাকা): ৫০০ মিটার তীর প্রতিরক্ষা কাজ। সুরমা নদী (মিরেরগাঁও এলাকা): ৫০০ মিটার তীর প্রতিরক্ষা কাজ। কুশি নদী পুনর্খনন: ২৩ কিলোমিটার। বাসিয়া নদী পুনর্খনন: ২৩ কিলোমিটার। সুরমা নদী ড্রেজিং কাজ: ৩.২ কিলোমিটার। শারী—গোয়াইন নদী (নয়াগাঁও এলাকা): ৫০৫ মিটার তীর প্রতিরক্ষা কাজ। শারী—গোয়াইন নদী (মেরিন একাডেমি এলাকা): ৮০০ মিটার তীর প্রতিরক্ষা কাজ।
সিলেটের স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে ৪,৭০০ কোটি টাকার এক বিশাল মেগা প্রকল্পের পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্পের বড় একটি অংশ জুড়ে থাকবে সুরমা নদীর দুই পাড়ে ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ ও সুরক্ষার জন্য পথ (রাস্তা) নির্মাণ। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তা বন্যা প্রতিরোধের পাশাপাশি পর্যটনের নতুন দুয়ার উন্মোচন করবে এবং স্থানীয় অধিবাসীদের চলাফেরা ও প্রাতঃভ্রমণের চমৎকার সুযোগ তৈরি করবে।
উন্নয়নমূলক কাজে যে কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নিজের হক আদায়ের ব্যাপারে নিজেকেই সতর্ক ও যত্নবান হতে হবে। কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে তিনি প্রতিটি এলাকায় মসজিদের ইমাম, স্থানীয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও এলাকার বিশিষ্ট নাগরিকদের সমন্বয়ে একটি করে ‘স্থানীয় তদারকি কমিটি’ গঠনের পরামর্শ দেন। এই কমিটি নির্মাণকাজের মান সময় সময় নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।
বিনিয়োগ ও টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সমাজের অপরাধের বড় একটি অংশ মাদক ও অনলাইন জুয়া কেন্দ্রিক। অনলাইন জুয়া বন্ধে ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে আইন পাস হয়েছে। মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ অপতৎপরতা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই কমে আসবে। ইতোমধ্যে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) সক্রিয় মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে।
নগরীর নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন সম্পর্কে তিনি জানান, সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিসি) অর্থায়নে নাইট—ভিশন ও ফেসিয়াল রিকগনিশন সুবিধাসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা, ড্রোন এবং ডিজিটাল ট্রাফিক লাইট সিস্টেম স্থাপন করা হচ্ছে, যা সরাসরি এসএমপি পরিচালনা করবে। দেশি—বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সিলেটে সুসংহত নিরাপত্তা ও অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখা হবে।
নদী তীরবর্তী ও সড়কের গাছ কাটার বিষয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, সামাজি…
সিলেট থেকে আরো পড়ুন