প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৪৭
সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তথ্যের সহজলভ্যতা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ওয়েবসাইটে তথ্য হালনাগাদ না থাকা, তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তার যোগাযোগের তথ্য না পাওয়া কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা না থাকায় ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকরা। তথ্যের সহজলভ্যতা, তথ্য অধিকার এবং সরকারি দপ্তরের ওয়েবসাইট হালনাগাদ রাখার বিষয়ে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সংবাদ সংযোগ ‘খবরনামা’য় কথা বলেছেন সুনামগঞ্জ জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক শেখ ওয়ালিদ ফয়েজ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সহকারী সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সরকারি দপ্তরের তথ্য জনগণের কাছে সহজলভ্য করার ক্ষেত্রে তথ্য অফিসের মূল দায়িত্ব কী?
শেখ ওয়ালিদ ফয়েজ: জনগণের কাছে তথ্য পৌঁছে দিতে তথ্য অফিস নিয়মিত প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করে। সড়ক প্রচার, কৃষক সমাবেশ, উঠান বৈঠক, কমিউনিটি ডায়লগ, নারী সমাবেশসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও জনসচেতনতামূলক বিষয় প্রচার করা হয়। হাটবাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ওয়েবসাইটে তথ্য হালনাগাদ না থাকার কারণ কী?
শেখ ওয়ালিদ ফয়েজ: সংশ্লিষ্ট দপ্তরই এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবে। তবে আমার ব্যক্তিগত মত হলো, অনেক ক্ষেত্রে এখনো ওয়েবসাইট হালনাগাদ করার অভ্যাস তৈরি হয়নি। কোথাও কোথাও সদিচ্ছার অভাবও থাকতে পারে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা ও তাঁর যোগাযোগের তথ্য হালনাগাদ নিশ্চিত করা যায় কীভাবে?
শেখ ওয়ালিদ ফয়েজ: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সরকারি দপ্তরের ওয়েবসাইট নির্দেশিকা—২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে সরকারি ওয়েবসাইট আরও জনবান্ধব ও সহজে তথ্য পাওয়ার উপযোগী করার নির্দেশনা রয়েছে। নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন ও নিয়মিত হালনাগাদ করা হলে জনগণের তথ্যপ্রাপ্তি সহজ হবে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সাংবাদিকদের তথ্য পেতে হয়রানি বা দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ দূর করতে তথ্য অফিস কী ভূমিকা রাখতে পারে?
শেখ ওয়ালিদ ফয়েজ: তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী শুধু সাংবাদিক নয়, প্রত্যেক নাগরিকের তথ্য পাওয়ার অধিকার রয়েছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করলে কতদিনের মধ্যে তথ্য দিতে হবে, সেটিও আইনে উল্লেখ রয়েছে। তথ্য অধিকার বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে তথ্য অফিস নিয়মিত প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য না পেলে একজন নাগরিক কী করতে পারেন?
শেখ ওয়ালিদ ফয়েজ: দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে আবেদন করার পর নির্ধারিত সময়ে তথ্য না পেলে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা যায়। সেখানেও সমাধান না হলে তথ্য কমিশনে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: ধান সংগ্রহ, কৃষি প্রণোদনা ও সামাজিক সুরক্ষার মতো কর্মসূচির তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে কী উদ্যোগ রয়েছে?
শেখ ওয়ালিদ ফয়েজ: সরকারি দপ্তরের ওয়েবসাইটে জনগণের প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা হলে মানুষ সহজেই সেবা সম্পর্কে জানতে পারবে। পাশাপাশি প্রচারের কোনো বিকল্প নেই। তথ্য অফিসের সীমাবদ্ধতা থাকলেও প্রান্তিক পর্যায়ে প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: তথ্যের অবাধ প্রবাহ দুর্নীতি কমাতে ও সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা বাড়াতে কতটা কার্যকর?
শেখ ওয়ালিদ ফয়েজ: তথ্য প্রকাশ হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের সুযোগ তৈরি হয়। জনগণ যখন জানবে কোন তথ্য কোথায় পাওয়া যাবে এবং তথ্য পাওয়ার অধিকার সম্পর্কে সচেতন হবে, তখন দুর্নীতি প্রতিরোধে এটি সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সুনামগঞ্জের সব সরকারি দপ্তরের ওয়েবসাইট নিয়মিত হালনাগাদ ও জনগণের তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে আপনাদের পরিকল্পনা কী?
শেখ ওয়ালিদ ফয়েজ: জেলা প্রশাসক ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ওয়েবসাইট হালনাগাদ এবং তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারি দপ্তরের ওয়েবসাইট নির্দেশিকা—২০২৬ অনুযায়ী নিয়মিত তথ্য হালনাগাদের নির্দেশনা রয়েছে। বছরে ন্যূনতম চারবার হালনাগাদ তথ্য দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন