প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৪৮
লিয়াকতগঞ্জ স্কুলে আর্থিক অনিয়ম
দোয়ারাবাজার উপজেলার লিয়াকতগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল কাদিরকে শর্তসাপেক্ষে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই পুনর্বহালের রেজুলেশন বাতিল এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে অতিরিক্ত জেলা গ্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাকিলা রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বেগম হাছিনা মমতাজ।
রবিবার দুপুর সাড়ে ৩টায় এই লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। অভিযোগটি গ্রহণের পর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাকিলা রহমান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালে আব্দুল কাদিরের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন ও হিসাব—নিকাশে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠে। তৎকালীন উপজেলা প্রশাসন ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির উদ্যোগে গঠিত তদন্ত কমিটির দুই দফা প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ের কোনো সঠিক হিসাব বা ভাউচার পাওয়া যায় নি। এর ভিত্তিতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং স্থায়ী বরখাস্তের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে সুপারিশ পাঠানো হয়।
তবে চলতি বছরের পাঁচ জুলাই বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোস্তাফিজুর রহমান নতুন করে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটির প্রতিবেদনে অসংগতির পরিমাণ কমিয়ে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা করা হয়। পরবর্তীতে গেল ৩০ সেপ্টেম্বর এডহক কমিটির এক সভায়, নির্ধারিত ওই অর্থ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে ফেরত দেওয়ার শর্তে আব্দুল কাদিরকে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
অভিযোগকারীর দাবি, এডহক কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান পূর্বের তদন্ত কমিটিতেও যুক্ত ছিলেন। ফলে নতুন তদন্তে আত্মসাতকৃত অর্থের পরিমাণ বিশাল অঙ্কে কমিয়ে তাকে পুনর্বহালের সুযোগ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে সভাপতির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ ও বিতর্কের বিষয়ে এডহক কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তৎকালীন প্রথম তদন্ত প্রতিবেদনে কেবল আয়ের হিসাব ছিল, ব্যয়ের কোনো রেজিস্টার ছিল না। আমাদের পরবর্তী তদন্তে আনুমানিক ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার হিসাবের অসংগতি ধরা পড়েছে। আগামী অডিটে যদি আরও পাওনা পাওয়া যায়, তবে তা আব্দুল কাদিরকে পরিশোধ করতে হবে। নতুন কোনো তথ্য এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুনর্বহালের সিদ্ধান্তের পরবর্তী পদক্ষেপ প্রসঙ্গে তিনি জানান, কমিটির রেজুলেশন ও নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হবে।
এদিকে সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল কাদির এডহক কমিটির সভাপতির বক্তব্যের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেছেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন