এলপিজি বেশি দামে বিক্রি হলে প্রমাণসহ অভিযোগ করুন

প্রকাশিত: ০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:১২

এলপিজি গ্যাসের দাম, বাজারে সরবরাহ, অতিরিক্ত মূল্য আদায়, কৃত্রিম সংকট এবং ভোক্তাদের অভিযোগের প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের বিশেষ আয়োজন ‘খবরনামা’য় কথা বলেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ও ডিজিটাল ইনচার্জ সাইদুর রহমান আসাদ। 

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: বর্তমানে ১২ কেজি এলপিজি গ্যাসের সরকার নির্ধারিত মূল্য কত?
মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদ: সর্বশেষ সরকার নির্ধারিত ১২ কেজি এলপিজি গ্যাসের মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সরকার নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা হলেও বাজারে অনেক সময় এর চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এর কারণ কী?
মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদ: এ ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতেই বাজার তদারকি করা হচ্ছে। অভিযানে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা মূল্যেই গ্যাস বিক্রি করতে দেখা গেছে। কোথাও এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করলে প্রতিকার পাওয়া যাবে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: উপজেলা পর্যায় ও প্রত্যন্ত এলাকায় অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এসব এলাকায় তদারকির ক্ষেত্রে আপনাদের পরিকল্পনা কী?
মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদ: ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ে একজন কর্মকর্তা ও একজন সহকারী রয়েছেন। জেলার ১২টি উপজেলায় নিয়মিত তদারকি করা একজন কর্মকর্তার পক্ষে সবসময় সম্ভব হয় না। তবে উপজেলা ও প্রত্যন্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গতকাল ছাতকের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং সদরে অভিযান হয়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: বাজারে এলপিজি গ্যাসের সংকট রয়েছে, নাকি কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন?
মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদ: বিশ্বব্যাপী চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে কিছুটা প্রতিকূলতা রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ভোক্তাদের কাছে জ্বালানি গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে। গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে কোম্পানিগুলোর দাবির পর সরকার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। বর্তমানে বাজারে কোনো ধরনের গ্যাস সংকট নেই এবং সরবরাহ ব্যবস্থা চলমান রয়েছে। কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরির কোনো সুযোগ নেই।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে?
মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদ: কোথাও কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরি বা গ্যাস মজুত করে অতিরিক্ত দামে বিক্রির তথ্য পাওয়া গেলে ভোক্তা অধিকার আইনে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মহাপরিচালকের নির্দেশনায় মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার মজুত ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে অধিদপ্তর।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৮৩৭ টাকা মূল্যে ভোক্তারা কবে থেকে গ্যাস কিনতে পারবেন?
মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদ: সরকার নির্ধারিত নতুন মূল্য গতকাল থেকেই কার্যকর হয়েছে। কোথাও কোনো ভোক্তাকে এর চেয়ে অতিরিক্ত দামে গ্যাস কিনতে হলে যথাযথ প্রমাণসহ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করতে হবে। অভিযোগের পর আইন অনুযায়ী প্রতিকার পাওয়া যাবে। পাশাপাশি জরিমানা করা হলে তার ২৫ শতাংশ অভিযোগকারী ভোক্তাকে পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: ভোক্তারা কীভাবে অভিযোগ করবেন?
মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদ: অভিযোগের জন্য প্রথমে প্রমাণ সংগ্রহ করতে হবে। গ্যাস কেনার মেমো বা রশিদ সংরক্ষণ করতে হবে। কোনো ব্যবসায়ী মেমো বা রশিদ দিতে না চাইলে ভিডিও বা অডিও রেকর্ড রাখা যেতে পারে। কারণ অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রমাণ থাকা গুরুত্বপূর্ণ। প্রমাণ ছাড়া আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন।
তিনি বলেন, ভোক্তারা সরাসরি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ে এসে অভিযোগ করতে পারবেন। অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট ও সিসিএমএস সফটওয়্যারের মাধ্যমেও অভিযোগ করা যাবে। এছাড়া চিঠি বা ই—মেইলের মাধ্যমেও অভিযোগ করা যাবে। অভিযোগ পাওয়ার পর তা আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: তাহলে ভোক্তারা অভিযোগ করলে প্রতিকার পাবেন?
মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদ: যথাযথ প্রমাণসহ অভিযোগ করা হলে অবশ্যই আইন অনুযায়ী প্রতিকারের ব্যবস্থা করা হবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার