হাওরের হাঁসের ডিমে বদলাচ্ছে জীবন

প্রকাশিত: ০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:২২

চারদিকে থইথই পানি। হাওরের বুকজুড়ে ঢেউ, আর সেই পানির ওপর বাঁশের খুঁটি, টিন ও জালের বেষ্টনীতে তৈরি ছোট ছোট খামার। খামারজুড়ে শত শত হাঁসের বিচরণ। এমন দৃশ্য এখন দিরাই উপজেলার কচুয়া গ্রামে। পানির ওপর খামার গড়ে হাঁস পালন করে অনেকেই ঘুরিয়েছেন জীবনের চাকা। বর্ষায় শুকনো জায়গার সংকট থাকলেও হাওরের পানিকে কাজে লাগিয়ে গড়ে উঠেছে এসব খামার। হাঁসের ডিম বিক্রি করে সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরানোর চেষ্টা করছেন স্থানীয়রা।

 


উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে দিরাইয়ে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলিয়ে ২৩৩টি হাঁসের খামার রয়েছে। এসব খামার থেকে বছরে প্রায় সাড়ে ১০ লাখ ডিম উৎপাদন হচ্ছে। উৎপাদিত এসব ডিমের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা।

 

 

 

 

 

 


সরেজমিনে উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, চাপতির হাওর ও কালনী নদীর তীরে গড়ে উঠেছে অন্তত ৩০টি হাঁসের খামার। বর্ষাকালে পানির ওপর বাঁশের খুঁটি, টিন, প্লাস্টিকের নেট ও জালের বেষ্টনী দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এসব অস্থায়ী খামার। কোনো কোনো খামারে শত শত হাঁস বিচরণ করছে।

 


খামারিরা জানান, বর্ষার পাঁচ থেকে ছয় মাস শুকনো জায়গার সংকট থাকায় পানির ওপর অস্থায়ীভাবে খামার তৈরি করতে হয়। তবে হাওরে হাঁস ছেড়ে পালনের ক্ষেত্রে জলমহালের ইজারাদারদের বাধার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ তাদের। এতে হাঁসের খাদ্য খরচ বেড়ে যায়। পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন ও পরামর্শ না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন খামারি।

 


কচুয়া গ্রামের খামারি বাদল দাস, রজত দাস ও সুধীর তালুকদার জানান, তাদের খামারে ৬০০ হাঁস রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৫০টি হাঁস ডিম দেয়। হাঁসের খাবার, ওষুধসহ অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে মাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় হয়। হাঁসগুলো খোলা জলাশয়ে বিচরণ করতে পারলে উৎপাদন ও লাভ আরও বাড়ত বলে জানান তারা।
একই গ্রামের খামারি গৌরাঙ্গ দাস প্রায় ১৫ বছর ধরে হাঁস পালন করছেন। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে ১ হাজার ৭০০ হাঁস। এর মধ্যে প্রায় ৬০০ হাঁস ডিম দেয়। প্রতিটি ডিম ১১ টাকা দরে বিক্রি করে মাসে প্রায় ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকার ডিম বিক্রি করেন তিনি।

 


গৌরাঙ্গ দাস বলেন, দুই শ্রমিকের বেতন, হাঁসের খাবার ও ওষুধের খরচ, সংসার এবং ছেলে—মেয়েদের লেখাপড়ার ব্যয় মিটিয়েও লাভ থাকে। তবে হাওরের খাল ও ডোবা লিজমুক্ত করে উন্মুক্ত রাখা হলে হাঁস পালন আরও বাড়বে।

 


উপজেলা উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শম্ভু নাথ রায় বলেন, হাঁস পালনের ক্ষেত্রে বড় একটি সমস্যা হলো জলমহালের লিজ। এ কারণে অনেক খামারি হাঁসকে উন্মুক্ত জলাশয়ে বিচরণ করাতে পারেন না।

 


উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মিঠুন চন্দ্র দে বলেন, হাঁস পালনের সঙ্গে মাছ চাষের কোনো সংঘাত নেই। বরং হাঁসের বিষ্ঠা মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় একই সঙ্গে হাঁস ও মাছ চাষ করলে উভয় খাতেই উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। হাঁস মাছ খায় না, বরং শামুক—ঝিনুকসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী খায়।
তিনি বলেন, নিবন্ধিত খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। হাঁস ও মাছ একসঙ্গে চাষের মাধ্যমে হাওরাঞ্চলের মানুষ আরও লাভবান হতে পারেন।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার