প্রকাশিত: ০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:১৮
শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি, অধিকার সংরক্ষণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক সমাজের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার উপর গুরুত্বারোপ করে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘শিক্ষকদের পাশে থাকুন, পেশা সুরক্ষার ৬০ বছর, মর্যাদা উন্নত করা এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গড়া’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান। মাধ্যমিক শিক্ষা সহকারী পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জুলফিকার হোসেন।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাকিলা রহমান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহনলাল দাস, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শেরগুল আহমেদ এবং সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ইভা রায়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ. কে. এম. আজাদ মিয়া, এস.সি. বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অসীম চন্দ্র বর্মন, সুনামগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা রহমান, সহকারী প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন।
এছাড়াও বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি নোমান আহম্মদ, সাধারণ সম্পাদক আরিফ মোহাম্মদ দুলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইমরান, জেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. হারুন রশীদ, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসাইন মো. আসাদুল ইসলাম এবং আদর্শ শিশু শিক্ষা নিকেতনের অধ্যক্ষ হাফিজা ফেরদৌস লিপনসহ শিক্ষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ইভা রায় বলেন, শিক্ষকরা বর্তমানে বিভিন্ন দিক থেকে নিরাপত্তাহীন অবস্থায় রয়েছেন। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে সামাজিক মর্যাদার পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষেও শিক্ষকদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শিক্ষকদের পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও নিজেদের প্রস্তুত ও সচেতন হতে হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাকিলা রহমান বলেন, শিক্ষকরা বঞ্চনা, বেতন স্কেল ও মর্যাদাসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেছেন। শিক্ষকদের এসব চাওয়া ও দাবির সঙ্গে আমিও একমত। তিনি বলেন, বর্তমানে অনেকেই শিক্ষক হতে চান না। চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ অন্যান্য পেশার প্রতি তরুণদের আগ্রহ বেশি। অথচ একটি জাতির জন্য শিক্ষকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি কৌতূহল তৈরি করা, তাদের লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করা এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখানো একজন শিক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, শিক্ষকরা দিন—রাত পরিশ্রম করে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার কাজে নিয়োজিত থাকেন। অন্ধকারে আলো দেখানো এই শিক্ষক সমাজের কাছে মানুষের ঋণের শেষ নেই। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন