হাসাউড়ার আনারসের নতুন সম্ভাবনা, জিআই স্বীকৃতি পেলে যোগ হবে নতুন মাত্রা

প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৩০

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের হাসাউড়া গ্রামের আনারস স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। মিষ্টি, সুস্বাদু ও আঁশহীন এই আনারসের চাষ সম্প্রসারণের পাশাপাশি জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা চলছে। হাসাউড়ার আনারসের সম্ভাবনা, চাষ সম্প্রসারণ, বাজারজাতকরণ ও জিআই স্বীকৃতির প্রক্রিয়া নিয়ে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের বিশেষ আয়োজন ‘খবরনামা’য় কথা বলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ ওমর ফারুক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের স্টাফ রিপোর্টার জাকারিয়া আহমদ।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: হাসাউড়ার আনারসের বিশেষত্ব ও সম্ভাবনাকে কীভাবে দেখছেন?
মোহাম্মদ ওমর ফারুক: হাসাউড়ার আনারস মূলত হানিকুইন জাতের। রঙ্গারচরের টিলাভূমির মাটি ও আবহাওয়ার কারণে এ আনারসে বিশেষ বৈশিষ্ট্য তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি গবেষণা ও পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: বর্তমানে কত জমিতে আনারস চাষ হচ্ছে এবং কত কৃষক এর সঙ্গে যুক্ত?
মোহাম্মদ ওমর ফারুক: প্রাথমিক জরিপে ৪০ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ পাওয়া গেছে। উৎপাদন, বিপণন ও বাজারজাতকরণসহ প্রায় এক হাজার কৃষি শ্রমিক এর সঙ্গে যুক্ত।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: আনারস চাষ সম্প্রসারণে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে?
মোহাম্মদ ওমর ফারুক: সুনামগঞ্জে আনারস চাষ সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার ও ছাতকের সীমান্তবর্তী টিলাগুলো ফল চাষের জন্য উপযোগী। কমলা ও আনারস উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে আগে এ জাতটি সম্প্রসারণ করা হয়েছিল। প্রকল্প শেষ হওয়ায় এখন কৃষকদের উদ্বুদ্ধ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: উৎপাদন বাড়াতে কোন বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে?
মোহাম্মদ ওমর ফারুক: আনারসের ফুল আসার সময় পানির সংকট দেখা দেয়। ওই সময়ে সেচের ব্যবস্থা করা গেলে গাছ থেকে ফল আহরণের পরিমাণ ও উৎপাদন দুটোই বাড়ানো সম্ভব।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: বাজারজাতকরণে কৃষকদের প্রধান সমস্যা কী?
মোহাম্মদ ওমর ফারুক: হাসাউড়া সদর উপজেলার এক প্রান্তে হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে কৃষকদের সমস্যা হয়। পাশাপাশি বাজারে পণ্য নিতে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার টোল দিতে হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: হাসাউড়ার আনারসকে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেতে কী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে?
মোহাম্মদ ওমর ফারুক: প্রথমে গবেষণা ও ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে আনারসটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করতে হবে। আবেদনকারী কৃষক, কোনো প্রতিষ্ঠান বা জেলা প্রশাসন হতে পারে। প্রয়োজনীয় তথ্য—প্রমাণ যাচাই—বাছাইয়ের পর গেজেট প্রকাশ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপত্তি না থাকলে চূড়ান্তভাবে জিআই সনদ দেওয়া হবে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: জিআই স্বীকৃতি পেলে কৃষক ও সুনামগঞ্জের অর্থনীতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে?
মোহাম্মদ ওমর ফারুক: জিআই সনদ পেলে সুনামগঞ্জের কৃষি অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসতে পারে। আনারস চাষ সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের পাশাপাশি কর্মসংস্থানও বাড়বে। একই সঙ্গে সুনামগঞ্জের কৃষিপণ্যের পরিচিতিতে নতুন মাত্রা যোগ হবে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: একই জাতের আনারস অন্য অঞ্চলে জিআই পণ্য হলে সুনামগঞ্জের আনারস কি আলাদাভাবে জিআই স্বীকৃতি পেতে পারে?
মোহাম্মদ ওমর ফারুক: মাটি, জলবায়ু ও আবহাওয়ার কারণে একই জাতের পণ্যের গুণগত বৈশিষ্ট্যে পার্থক্য হতে পারে। হাসাউড়ার আনারসের গুণগত বৈশিষ্ট্য যদি গবেষণা ও পরীক্ষায় আলাদাভাবে প্রমাণিত হয়, তাহলে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার