প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:০১
সুনামগঞ্জ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ৫৯৮ জন শিক্ষকের পদায়ন লটারির মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। মঙ্গলবার বিকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই লটারি শুরু হয়। রাত পর্যন্ত চলতে থাকে লটারি কার্যক্রম।
লটারি কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাকিলা রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুনজিত কুমার চন্দ, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জুলফিকার হোসেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস, শিক্ষাবিদ অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পরিমল কান্তি দে ও জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শহরের আদর্শ শিশু শিক্ষা নিকেতনের অধ্যক্ষ হাফেজা ফেরদৌস লিপন ও জেলা শিক্ষা অফিসার মো. জুলফিকার হোসেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দায়িত্বশীলরা জানান, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬১৭ জনের মধ্যে ২৪ ও ২৭ সেপ্টেম্বর জারি করা অফিস আদেশের মাধ্যমে ৬১২ জনের নিয়োগ সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে দিরাই উপজেলায় ৯১ জন, ছাতকে ৮৩ জন, মধ্যনগরে ৫২ জন, দোয়ারাবাজারে ২৮ জন, জগন্নাথপুরে ৭৮ জন, শান্তিগঞ্জে ৬২ জন, তাহিরপুরে ৪৯ জন, বিশ্বম্ভরপুরে ১৯ জন, ধর্মপাশায় ৪৯ জন, সুনামগঞ্জ সদরে ৩ জন, জামালগঞ্জে ৪৬ জন এবং শাল্লায় ৫২ জন রয়েছেন। এদের মধ্যে নিয়োগের অফিস আদেশ গ্রহণ করেছেন ৫৯৮ জন। তাদের মধ্যেই লটারী হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস জানালেন, সকল নিয়োগ প্রার্থীর লটারী শেষ করে রোববার কমিটির পক্ষ থেকে ফলাফল জানিয়ে দেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সহকারী শিক্ষকদের উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লটারির মাধ্যমে পদায়নের নির্দেশনা রয়েছে। সে অনুযায়ী জেলা কমিটি গঠন করে লটারির মাধ্যমে পদায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রজ্ঞাপনে আরও নির্দেশনা রয়েছে—যেসব শিক্ষক প্রতিস্থাপন সাপেক্ষে বদলি হয়েছেন, তাদের কারণে যে পদগুলো শূন্য হয়েছে, সেসব পদে আগে পদায়ন করতে হবে। জেলা কমিটির সদস্যরা প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুসরণ করেই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, উপজেলাভিত্তিক শিক্ষকদের নাম আলাদাভাবে নিয়ে লটারির মাধ্যমে বিদ্যালয় নির্ধারণ করা হচ্ছে। প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা দিয়ে কার্যক্রম শুরু করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য উপজেলার শিক্ষকদের পদায়ন করা হচ্ছে।
এদিকে, চলতি বছরের ২ জানুয়ারি সুনামগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা সদরসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে অংশ নেন ১৪ হাজার ৪৮৯ জন প্রার্থী। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ২ হাজার ১৫৯ জন। পরে ২৮ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২ হাজার ৯৯ জন প্রার্থী অংশ নেন এবং উত্তীর্ণ হন ৬৩৭ জন। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় ২০ জন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি। পরে উত্তীর্ণ ৬১৭ জনের নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে চিঠি পাঠায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে যোগদানপত্র দেওয়ার অফিস আদেশ প্রকাশের পর নতুন করে জটিলতা দেখা দেয়। ওই আদেশে জেলার বিভিন্ন উপজেলার ১২০ জন প্রার্থী নিয়োগ থেকে বাদ পড়ার বিষয়টি জানতে পারেন। সর্বশেষ যাচাই—বাছাইয়ে ৬১৭ জনের মধ্যে ১২০ জন যোগদানপত্র পান নি। এ ঘটনায় চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা। তাদের কর্মসূচির পরদিন রাতে ১২০ জনের মধ্যে ১১৫ জনের হাতে নিয়োগ আদেশের নোটিশ দেওয়া হয়। এরপর মঙ্গলবার নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পদায়ন লটারির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন