দুর্গাপূজা

অশুভের বিনাশ, শুভের জাগরণ

প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:১১

পূজা কেবল ধর্মীয় আচার নয়; এটি ভক্তি, আত্মশুদ্ধি ও আত্মনিবেদনের মাধ্যম। শারদীয় দুর্গোৎসব আনন্দ, সম্প্রীতি ও ভক্তির বার্তা নিয়ে আসে। দেবী দুর্গার আরাধনা আমাদের অশুভের বিনাশ, শুভের জাগরণ এবং সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পথে চলার শিক্ষা দেয়।
আধুনিক সময়ে পূজার সঙ্গে আলোকসজ্জা, উচ্চ শব্দে গান—বাজনা ও ডিজে পার্টির মতো আয়োজন যুক্ত হয়েছে। আনন্দ ও আকর্ষণীয় আয়োজন থাকতেই পারে, তবে তা যেন ভক্তি, শালীনতা ও ধর্মীয় পরিবেশকে ব্যাহত না করে। পূজামণ্ডপ মানুষের প্রার্থনা, শ্রদ্ধা নিবেদন ও আত্মিক প্রশান্তির পবিত্র স্থান। উচ্চ শব্দে গান—বাজনা শুধু ধর্মীয় পরিবেশ নষ্ট করে না, আশপাশের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনেও অসুবিধা সৃষ্টি করে।


গত কয়েক বছর ধরে পূজার সময় সাউন্ড সিস্টেমের অতিরিক্ত ব্যবহার ও ডিজে গানের প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করেছি। উদ্দেশ্য উৎসবের আনন্দ বাধাগ্রস্ত করা নয়; বরং পূজার ধর্মীয় মর্যাদা রক্ষা করা। এ বিষয়ে পূজা কমিটিগুলোর সচেতনতা আশাব্যঞ্জক। সাউন্ড সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ এবং ডিজের পরিবর্তে ভজন—সংগীত পরিবেশনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এতে ভক্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে এবং শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরাও স্বস্তি পাবেন।


তবে নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়ন জরুরি। নির্ধারিত সময় ও শব্দের মাত্রা মেনে চলার পাশাপাশি ভজন, কীর্তন, চণ্ডীপাঠ ও আরতির মাধ্যমে মণ্ডপের পরিবেশ পবিত্র রাখা যায়। আনন্দের জন্য উচ্চ শব্দের প্রয়োজন নেই; আন্তরিক ভক্তি ও সুমধুর ধর্মীয় সংগীতও মানুষের হৃদয়ে আনন্দ সৃষ্টি করতে পারে।


পূজা কমিটিগুলো গীতাপাঠ, ধর্মীয় আলোচনা, ভজন—কীর্তন, আরতি এবং শিশু—কিশোরদের নৈতিক শিক্ষাভিত্তিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে পারে। অসহায় মানুষের সহায়তা, রক্তদান, পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা ও সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচিও পূজার অংশ হওয়া উচিত। এতে দুর্গোৎসব কয়েক দিনের আনন্দে সীমাবদ্ধ না থেকে সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে।


মণ্ডপ ও আলোকসজ্জায় সৌন্দর্য থাকলেও অযথা প্রতিযোগিতা ও অপচয় এড়িয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলাকে গুরুত্ব দিতে হবে। ভক্তির গভীরতা বাহ্যিক জাঁকজমক দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। প্রতিমা নির্মাণেও ধর্মীয় রীতি, শাস্ত্রীয় নির্দেশনা ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান রাখা প্রয়োজন।


দুর্গোৎসব সামাজিক সম্প্রীতিরও উৎসব। প্রত্যেক দর্শনার্থীর নিরাপত্তা, নারী ও শিশুর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের সহযোগিতা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরি। পূজার পর মণ্ডপ ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং শব্দদূষণ এড়িয়ে চলাও আয়োজকদের দায়িত্ব।
দেবী দুর্গার আরাধনা আমাদের মধ্যে বিনয়, ভালোবাসা, ন্যায় ও মানবিকতার চেতনা জাগিয়ে তুলুক—এটাই হওয়া উচিত আমাদের অঙ্গীকার। পূজা কমিটি, প্রশাসন, শিল্পী ও ভক্তদের সম্মিলিত উদ্যোগে শারদীয় দুর্গোৎসব হোক সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও আধ্যাত্মিকভাবে সমৃদ্ধ।
আসুন, বাহ্যিক জাঁকজমকের পাশাপাশি ভক্তি, শ্রদ্ধা, সংযম ও মানবিকতাকে প্রাধান্য দিই। ভজন—কীর্তনের সুরে মুখরিত হোক পূজামণ্ডপ, আর আমাদের হৃদয়ে জ্বলে উঠুক ভক্তির আলো।
লেখক : কলাম লেখক, সিলেট
 

উপসম্পাদকীয় থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার